You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > আমার বাবা

আমার বাবা

ফাহমিদা ফাম্মী

প্রচণ্ড রোদে যেমন একটা বড় ছায়ার প্রয়োজন হয়, জীবনেও তেমনি সব বিপদ আপদ থেকে উদ্ধার পেতে না হোক-অন্তত সান্ত্বনার জন্য বাবা কে প্রয়োজন হয়। আম্মুর মুখ থেকে শোনা, বয়স তখন আমার দেড় বছর… আম্মু সরকারি চাকরি করেন সেই সুবাদে প্রতিদিন ভোর বেলা ওঠে অফিসে চলে যেতে হত, আর আব্বুর তখনও চাকরি হয় নাই, বিভিন্ন অফিসে ইন্টারভিউ দিয়ে বেড়াচ্ছেন আর আমি ছিলাম নিশাচর… এখনো তাই আছি। সারারাত জেগে থাকতাম, আম্মু অনেক চেষ্টা করেও সময় মত ঘুম পাড়াতে পারতেন না। তখন না পেরে বাবার কাঁধে চাপিয়ে দিতেন আর আব্বু আমাকে কাঁধে চেপে আল্লাহ আল্লাহ যপতেন… সেই আল্লাহ আল্লাহ শব্দটা এখনো আমার কানে বাজে।

fahmida- fammi-womenwords

প্রত্যেকবার জন্মদিনের বেশ দিন কয়েক আগে থেকেই ঘ্য্যনর ঘ্যানর করতে থাকতাম আম্মু কেক কাটবো, কেক কাটবো, আম্মু চোখ গরম করে বলতেন এত ধিঙি হয়েও কেক কাটতে হয় নাকি! আমরা ছোট বেলা জন্মদিন কবে তাই জানতাম না আর তুমি কেক কাঁটার জন্য ব্যাকুল হয়ে পর… আমি কান্না করতাম আর আব্বু ঠিক জন্মদিনের দিন কেক আর বেলুন নিয়ে উপস্থিত হতেন… আমার মনে পড়ে একবার আমার জন্মদিনের সময় আব্বুর হাতে টাকা ছিল না, আব্বু তখন কই থেকে যেন ধার করে আমার জন্য হাতে করতালি ওয়ালা একটা পুতুল এনে দিলেন… সেই পুতুল পেয়ে কি না খুশি হয়েছিলাম যার ইয়ত্তা নেই! আব্বু কে প্রায় জিজ্ঞেস করি, আব্বু তোমার জন্মদিন কবে? আব্বু হেঁসে উত্তর দেন বৃহস্পতিবার… আমি বলি কোন মাসের কোন বৃহস্পতিবার? আব্বু আবারো হাসেন আর বলেন তা তো জানি না রে মা।

ছোট বেলাটা খুব বিলাসিতায় কাটেনি আমার… প্রথম বয়সে আব্বুর চাকরি ছিল না, আম্মু চাকরি করতেন, সীমিত টাকায় চলত আমাদের পরিবার। শিপ্লু আমার ছোট ভাই তখনও হয় নি… আমি একাই রাজত্ব করি, এত অভাব সত্ত্বেও কখনো আব্বু আম্মু আমাকে বুঝতে দেন নি কিছু। বড় হয়ে শুধু গল্প শুনেছি, আমার খাওয়ার দুধ কেনার জন্য আম্মু আব্বু তাদের বিয়ের স্বর্ণের আংটি বিক্রি করেছেন। এই কথা আম্মু মাঝে মাঝেই আফসোস করে বলেন আর বলেন আমি সেই দুধ খাই নাই… বাটি বাটি ফেলে দিয়েছি, যখনই আম্মু আফসোস করেন তখনই আব্বু হুংকার দিয়ে বলেন, আমার মেয়েকে কিছু বলবা না, সে তখন ছোট ছিল, কিছুই বুঝত না, তিনি বলেন এখন আমার কোন অভাব নাই… হাজারটা দুধের বোতল কিনতে পারি, কিন্তু তখন আমার মেয়ে না খেয়ে থাকবে তা মেনে নিতে পারতাম না আমি! আব্বু বাসায় ফিরতেন বেশ রাত করেই, আব্বু কখন আসবেন আর গেট খুলবেন সেই অপেক্ষাতেই থাকতাম আমি আর শিপ্লু… এবং আব্বুর গেটের টোকাও ধরে ফেলতে পারতাম খুব সহজেই… চড়ুই পাখির মত উড়াল দিতাম টের পেলেই… প্রথমেই তাকাতাম আব্বুর হাতের দিকে চকলেট এনেছেন কিনা… মজার বিষয় হচ্ছে এখনো আব্বু আসছেন টের পেলেই উড়ে যাই আর হাতের দিকে তাকাই! ছোট বেলা যেমন নিরাশ হইনি এখনো হই না… কিছু না কিছু আব্বু আনেনই আমাদের জন্য। ভালো আছি, অনেক সুখে আছি… আব্বু আম্মু আমি আর শিপ্লু… আমাদের সুখের পরিবার… ভালো থাকুক আমার বাবাটা… বাবা দিবসে এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার নেই আমার …

fahmida-fammi-4-womenwords

 

 

Similar Articles

Leave a Reply