You are here
নীড়পাতা > ফিচার > আজ বিজয়ের দিন

আজ বিজয়ের দিন

Your ads will be inserted here by

Easy Plugin for AdSense.

Please go to the plugin admin page to
Paste your ad code OR
Suppress this ad slot.

শীতের কুয়াশা ভেদ করে পূর্ব দিগন্ত রাঙিয়ে প্রতিদিনের মতো আরেকবার হাজির ভোরের সূর্য। তবে প্রতিদিনের মতো নয় আজকের সূর্য। আজকের সূর্য অন্য এক অর্থ বহন করে, অন্য এক গৌরবের স্মারক। পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির দিন আজ। আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের স্মৃতিবিজড়িত দিন। শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষি প্রতিটি মানুষ আজ দিনটি পালন করবে বিপুল আনন্দ-উৎসব এবং একই সঙ্গে বেদনা নিয়ে। দেশের স্বাধীনতার জন্য যে অকুতোভয় বীর সেনানীরা জীবন তুচ্ছ করেছিলেন, জাতি আজ গভীর বেদনা ও পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে সেইসব মৃত্যুঞ্জয়ী বীরদের।

এ দিন আমাদের। এ বাংলাদেশ আমাদের, এ স্বাধীনতা আমাদের। এ বিজয় আমাদের। এ দিনে বাঙালি কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করবে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতাসহ স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যান্য নেতা, শহীদ এবং বেঁচে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সম্ভ্রম হারানো মা-বোনদের। লাল-সবুজ পতাকা আন্দোলিত হবে সারা বাংলায়, থাকবে অগণিত মানুষের হাতে হাতে। এবারের বিজয় দিবস জাতির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া চলছে। বিজয়ের দিনে তাই বাঙালি জাতি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্য দিয়ে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করার দাবি জানাবে।

১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান এ কে নিয়াজি ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেন। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামে নতুন এক রাষ্ট্রের। ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন অবসানের সময় ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান নামের দেশটির দুই অংশের মধ্যে দূরত্ব ছিল প্রায় দেড় হাজার মাইল। পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ভৌগোলিক সংযোগ যেমন ছিল না, তেমনই ছিল না সাংস্কৃতিক ঐক্যও। এরই মধ্যে পাকিস্তানিদের দুরভিসন্ধি, তাদের স্বরূপ দ্রুতই উন্মোচিত হয়েছিল বাঙালির কাছে। তারা প্রথম আঘাত হেনেছিল আমাদের মাতৃভাষার ওপর। সেই থেকে আত্ম-অনুসন্ধানে উদ্দীপ্ত বাঙালির নিজের অধিকার বুঝে নেওয়ার সংগ্রাম শুরু। ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধিকার ও স্বাধীনতার দীর্ঘ সংগ্রামে বারবার বুকের রক্ত দিয়েছেন বাংলা মায়ের অকুতোভয় সন্তানরা। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ জাতিকে এ মুক্তির সংগ্রামে অংশ নিতে নির্দেশ দিয়ে তিনি যার যা কিছু আছে তা-ই নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেছিলেন। এরপর এলো ২৫ মার্চের কালরাত এবং ৯ মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানি হানাদারদের পাশাপাশি তাদের এদেশীয় দোসর শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীও হামলে পড়েছিল বাঙালির ওপর। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও এদেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধ করে বাঙালি জাতি ছিনিয়ে আনে বিজয়ের লাল সূর্য, স্বাধীন বাংলাদেশ।

আজ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে অগণিত মানুষ নিবেদন করবে পুষ্পাঞ্জলি। রাজধানীসহ সারা দেশেই সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবে বিজয় উৎসবে।

Similar Articles

Leave a Reply