You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > মিলনমেলায় আসা যাওয়ার পথের ধারে (১)

মিলনমেলায় আসা যাওয়ার পথের ধারে (১)

জনএফ কেনেডী বিমানবন্দর থেকে আমার ফ্লাইট ১৬ ডিসেম্বর দুপুর দুটোয়। ওইদিন ভোররাত থেকেই স্নো পড়া শুরু হলো। সকাল এগারোটায় এয়ারপোর্টে পৌঁছে বোর্ডিং পাস নিয়ে ওয়েটিং এরিয়ায় বসে আছি। তুষারপাতের মধ্যেই প্রথম ঘোষণা আসলো আধঘন্টা দেরিতে যাত্রা শুরু করবো আমরা। পরে তিনদফা পিছানোর পর দেখা গেলো বিকাল পাঁচটা পনেরোয় যাত্রা করলাম।

বিমান ভ্রমণ কখনো আমি উপভোগ করিনা। কিন্ত এবারই প্রথম, জানি না পাইলটের কারিশমায় না আবহাওয়ার কারণে খুব আরামদায়ক ভ্রমণ ছিলো। আবুধাবি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে স্থানীয় সময় দুপুর দুইটায় নামলো ইত্তেহাদ এয়ারওয়েজের বিমানটি। আর বের হয়ে শুনলাম আমার কানেক্টিং ফ্লাইট অলরেডি বাংলাদেশের পথে যাত্রা করেছে। আমাদের সবাইকে হোটেল প্রিমিয়ার ইন এ রাখার ব্যবস্থা করেছে ইত্তেহাদ ।

romena-lais-abudhabi-womenwords

হোটেলে পৌঁছে লাগেজ রেখে নিচের লাউঞ্জে চলে গেলাম। ইত্তেহাদের পক্ষ থেকে আমাদের একটি কার্ড দিয়েছে যা দেখিয়ে আমরা লাঞ্চ ,ডিনার করতে পারবো। লাঞ্চ করে রুমে গিয়ে শাওয়ার নিলাম। শহরে ঘন্টাখানিক ঘুরলাম। যানযট নাই। গাড়িগুলো যেন শব্দবিহীন। হর্ণ নাই। মরুময় শহর তবুও পামগাছ, খেজুরগাছ, ক্যাকটাস আর অর্কিডে ঢাকা।

আমার ফ্লাইট পরেরদিন একই সময়ে । নির্ধারিত সময়ের আগেই এয়ারপোর্টে পৌঁছালাম।যেন আমি আগে পৌঁছালে বিমান আমাকে নিয়ে আগেই ছুটবে। আজ যথাসময়ে প্লেনে উঠলাম। কিন্তু আজও প্রায় চল্লিশ মিনিট লেট। ঢাকা এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করলাম এরাইভাল সময়ের তিরিশ মিনিট পরে। শাকিলা আযম বুলা , আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু আমার জন্য অপেক্ষায় আছে। লাগেজের জন্য অপেক্ষা করতে হলো দুইঘন্টা ।এয়ারপোর্টের কাস্টমস পার হয়ে কী যে একটা আনন্দ ! বাসায় পৌঁছে দেখি টেবিলে সব প্রিয় খাবার। পাবদামাছ,আইড়মাছ,দেশী মুরগীর ঝোল,গরুর ভুনা আরো কত কী!

পরদিন সকালে গুলশান থেকে ধানমন্ডি গেলাম।ওখানে জরুরী কাজ সেরে পৌঁছে গেলাম মীরপুর ডিওএইচ এস এ পারুলের বাসায় ।ওখানে দুপুরের লাঞ্চ সেরে ফিরে এসে শাওয়ার নিয়ে আবার রেডি হয়ে গেলাম। বন্ধুদের মিলন মেলা। লোক প্রশাসন ডিপার্টমেন্টের বন্ধুরা যারা ঢাকায় আছে, সবাই আসলো বুলার বাসায়। গান গল্প আড্ডা,খাওয়াদাওয়া আর ফটোসেশন লাগাতার চললো। জলি,নিপু,মঈন,নাহিদ,সেলিম,শ্যামল ফজলু ,মুসা ,টিটো, সোমা মিলেছিলাম বন্ধুমেলায়।রাত বাড়লে আমার বন্ধুরা সব ফিরে গেলো তাদের নীড়ে।

পরদিন দুপুর একটায় ইউএস বাংলার ফ্লাইটে আমি ঢাকা থেকে সিলেট এয়ারপোর্টে নামলাম। ডাক্তার লুৎফুন্নাহার জেসমিন ওসমানী বিমান বন্দরে আমার জন্য অপেক্ষায় । সাথে তামান্না আহমেদ লীনা। মূলত মিলনমেলা এখান থেকেই শুরু। বন্ধুদের বুকে জড়িয়ে সেই কিশোরী বেলায় ফিরে গেলাম যেন। আরেক তামান্নাকেও তুলে নেয়া হলো ওর বাসা থেকে, এয়ারপোর্ট থেকে ফেরার পথে। তারপর আসলাম জেসমিনের ডক্টরস গার্ডেনে র বাসায়। সাজানো গুছানো পরিপাটি বাসায় ওর ডাক্তার স্বামীর সাথে দেখা হলো। রান্না করে টেবিল ভরিয়ে রেখেছে। রূপচান্দা ভাজা,চিকেন রোস্ট, গরুর ভুনা আরো কতো কী! আমি যেন ফিরে যাই সেই ফেলে আসা দিনে।আমরা কলকল করতে থাকি। কত যে জমে থাকা কথা। কত সুখ স্মৃতি, কত দুঃখ-ব্যথা ।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে।আমরা চৈতন্য প্রকাশনীর অফিসে যাই। সেখানে রাজিবের সাথে দেখা হলো। আমার বই এর প্রকাশক। চমৎকার ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন ছেলে। বিনম্র স্বভাবের ।অনলাইনে সব কাজ হয়েছে ।যেকোন প্রশ্নের উত্তর সাথে সাথে দিয়ে চিন্তা মুক্ত রেখেছে আমায়। অপরিসীম ভালোবাসা তার সৃষ্টিশীলতার প্রতি। আমার খুব ইচ্ছে ছিলো ধ্রুব এষ আমার বই এর প্রচ্ছদ করবে। রাজিব সেটা করে এনে যেদিন জানালো, আমার খুশী আর ধরে না।

সন্ধ্যার আলো আঁধারীতে জেসমিনের মামা,মামী আর আমি সুনামগঞ্জের পথে যাত্রা করলাম। আটটার দিকে সুনামগঞ্জ পৌঁছে প্রথমেই মায়ের কাছে গেলাম। দুই বছরে মা আমার অনেক বেশী বুড়িয়ে গেছেন।সেই দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ,পান খাওয়া টুকটুকে ঠোঁট ,ঋজু মা অনেকটাই কুঁজো হয়ে গেছেন। মনটা খারাপ লাগলো। আমাদের বাসার সামনে গাড়ি দেখে রুপু আর সিপি ধরে নিয়েছে আমি এসেছি। সিপি আমার শিশুবেলার বন্ধু ।আমি, নীতা আর সিপি আমরা কতো যে ধুলাবালির ঘরকন্না খেলতাম। আর পুতুল খেলতাম। যুদ্ধ শুরুর প্রথম ধাক্কায় নীতারা চলে গেলো ইন্ডিয়ায় ।দেশ স্বাধীনতা পেলো। সিপিরা ফিরে এলো,ফিরলো না নীতারা।

চলবে…..

 

 

Similar Articles

Leave a Reply