মুক্তমত Archives - Women Words

মুক্তমত

কোভিড পরিস্থিতি ও  একজন অভিযোগহীন মানুষ

কোভিড পরিস্থিতি ও একজন অভিযোগহীন মানুষ

রাজীব দে সরকার ভাবলাম নিজের ডেস্কে বসে একটা ছবি তুলে রাখি। গভীর এক দুঃসময়ের মুখোমুখি দাঁড়াতে যাচ্ছি। আমি, আমার শিক্ষকেরা, আমার সহকর্মীরা, আমার অনুজেরা। একটি উদ্ভ্রান্ত উদাসীন সম্প্রদায়কে আমরা সচেতন করতে চেয়েছিলাম। আমরা পারিনি। এর ফলাফল প্রতিদিন টিভি স্ক্রলে দেখতে পাচ্ছি। আজ পরিচিত বেশ কয়েকজন রোগীকে অনেক গলদঘর্ম হয়ে স্যারদের সহযোগিতায় হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এই মানুষগুলোর অক্সিজেন এর বড্ড প্রয়োজন ছিলো। এই মানুষগুলোর প্রাইভেট সেবাসদনে গিয়ে অক্সিজেন কেনার সামর্থ্য তেমন ছিলো না। কারন অক্সিজেন প্রয়োজন লিটারে লিটারে। প্রতি মিনিটে ৫০ থেকে ৭০ লিটার! কোথায় পাবে এতো!! সবাইকে বিছানায় তুলে অক্সিজেন এর ব্যবস্থা করে নিজের রুমে এসে ভাবলাম, যদি আজ আমার অক্সিজেন লাগে, কীভাবে জোগাড় হবে? যদি আমার মায়ের লাগে, কোথায় নিয়ে যাবো? কারন আমার হাসপাতালে আর একটা করোনা বেডও তো ফাঁকা নাই! খুব ব্যস্ত সময়ে ঢুকে যাবো
আয়নাঘর

আয়নাঘর

সুশান্ত পাল ভালোবাসার মানুষটি নিজের একটি আয়নাঘর। যে আয়নায় নিজেকে সম্পূর্ণ দেখা যায়, যে আয়নায় নিজের অস্তিত্বের কিছুই আড়াল থাকে না। ভালোবাসার মানুষ এমন একটি নির্ভার জায়গা, যেখানে নিজেকে সবটুকু ঢেলে দিয়ে মুক্ত পাখির মতো উড়ে বেড়ানো যায়। আমরা যেমন আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজের স্বরূপ স্পষ্ট দেখতে পাই, ভালোবাসার মানুষটিও আমাদের নিজস্ব ঘরের সে আয়নার মতোই, যে আয়নায় নিজের অবয়ব অবিকল প্রতিফলিত হয়। ভালোবাসার দুটি আত্মাই আসলে একে অপরের কাছে আয়নার মতো। যদি কোনও কারণে সেই আয়নাটি ভেঙে যায়, তখন সেখানে দুজনের কাউকেই আর দেখা যায় না। আয়নায় যেমন আমাদের শরীরের সকল ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র দাগও চোখ এড়ায় না, তেমনি ভালোবাসার মানুষের কাছের আমাদের কিছুই অপ্রকাশ্য, অজানা থাকে না। নিজেকে জানাবার ও বোঝাবার সীমাবদ্ধতায় কখনও ভালোবাসা থাকে না। যে ভালোবাসার সম্পর্কে দুজনের কেউই একে অপরের আয়না হতে জান
বাচ্চার মায়েদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

বাচ্চার মায়েদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

দিনা ফেরদৌস বাচ্চার মায়েদেরই দুঃশ্চিতা থাকবেই। বিশেষ করে প্রথম বাচ্চার বেলায় মায়েদের একটু সময় লাগে বাচ্চার আচরণ বুঝতে বুঝতেই। প্রথম বাচ্চার বেলায় একটু বমি করলেই যে ভয় পেতাম, দ্বিতীয় বাচ্চার বেলায় সেই ভয় পাই নাই। প্রথম বাচ্চাকে সময় মতো খাওয়ানো, ঘুম, গোছল, সব করিয়েছি। কিন্তু দ্বিতীয়টাকে টাইম বেটাইম কোন কিছুর হিসাব না করে তার ঘুম ভাঙলে ধীরে সুস্থে খাওয়াই, মাঝেমধ্যে বিকেলেও গোসল দেই। তবে একটা বিষয় ক্লিন বুঝি, তা হলো মা যেইভাবে সন্তানের আচরণ, ভাষা, প্রয়োজন বুঝে, দুনিয়ায় কারো পক্ষেই তা বুঝা সম্ভব না, হয়তো সারাক্ষণ পাশে থাকার জন্যেই এই বোঝাপড়া। প্রতিটা মায়েরই বাচ্চা পালনের পদ্ধতি আলাদা। ঠিক আমার মতো করে আরেকজন তার বাচ্চা পালন করছেন না, আমি যা খাওয়াই তা খাওয়াচ্ছে না, বলে তারটা ভুল বলার সুযোগ নেই। কথা হচ্ছে বাচ্চা সুস্থ-সবল আছে কি না, খেলছে কি না, ঠিকমতো প্রশ্রাব -পায়খানা করছে কি না। আর একটা
বেগম রোকেয়া’র লেখনীতে সমাজচিন্তাই মূর্ত হয়েছে

বেগম রোকেয়া’র লেখনীতে সমাজচিন্তাই মূর্ত হয়েছে

মিতু বালা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নামটির সঙ্গে অনেক ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে, আধুনিক যুগের ইতিহাস আওড়াতে গিয়ে তাঁর নামটা কোনোভাবে এড়িয়ে যাওয়ায় দায় নেই। তারপরও নয়'ই ডিসেম্বর তাঁকে বিশেষ ভাবে স্মরণ করা হয়।তাঁর জন্ম-মৃত্যুর দু'টো তারিখই নয় ডিসেম্বর। তাই, এই দিনটি বাংলাদেশে “রোকেয়া দিবস”হিসেবে পালিত হয়। তাঁকে স্মরণ করতে গিয়ে তাঁর লেখা একটা চিঠির অংশ তুলে ধরবো পাঠক সম্মুখে। ভগিনী মরিয়ম কে লেখা : “ভগিনীরে এই যে হাড়ভাঙ্গা গাধার খাটুনী-ইহার বিনিময় কি জানিস? বিনিময় হইতেছে, “ভাঁড় লিপকে হাত কালা”অর্থাৎ উনুন লেপন করিলে উনুন বেশ পরিষ্কার হয়, কিন্তু যে লেপন করে তাহারই হাত কালিতে কালো হইয়া যায়। আমার হাড়ভাঙ্গা খাটুনীর পরিবর্তে সমাজ বিস্ফোরিত নেত্রে আমার খুঁটিনাটি ভুল ভ্রান্তির ছিদ্র অন্বেষণ করিতেই বদ্ধ পরিকর।” লেখকদের চিঠিকে তাঁদের সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়,তাই চিঠি গুলো এখনও সহজলভ্য। চাইলে সেটা পড়
’বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে এতো নোংরামি করার কি আছে?’

’বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে এতো নোংরামি করার কি আছে?’

আশরাফুল আলম খোকন বিয়ে একটি স্বাভাবিক ঘটনা। দাম্পত্য কলহও খুবই স্বাভাবিক। বিবাহ বিচ্ছেদও স্বাভাবিক বিষয়। এটা নিয়ে এতো নোংরামি করার কি আছে। বনিবনা না হলে কি মারামারি করবে? আত্মহত্যা করবে? শমী কায়সার শরিয়তমত বিয়ে করেছেন, এটার মধ্যেও আপনারা নোংরামি করেছেন। শবনম ফারিয়া সুন্দর সমঝোতার ভিত্তিতে ঘোষণা দিয়ে সংসার জীবনের ইতি টেনেছেন। এর মধ্যেও এসে নোংরামি করছেন। ওনাদের ঘটনাগুলো খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। যা দেশ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে অহরহ ঘটে। অস্বাভাবিক অর্থাৎ নোংরা মানসিকতা হচ্ছে আপনাদের। সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবেশ নষ্টকারী আবর্জনা আপনারা। (লেখাটি প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকনের ফেসবুক দেয়াল থেকে নেয়া)
একজন ভুলে-ভরা মানুষ

একজন ভুলে-ভরা মানুষ

সুশান্ত পাল আমি একজন ভুলে-ভরা মানুষ। আমি প্রায়ই খুব সহজ সহজ কাজে ভুল করে বসে থাকি। যে-কাজে অন্য কেউ ভুল করে না, সে-কাজেও আমার ভুল হবেই, এমন একটা ব্যাপার হয়ে গেছে। আমার ইদানীং খুব শ্বাসকষ্ট হয়, আর আমি ক্রমাগত ডাক্তারের পকেটে পয়সা ঢুকাই। এই ভুলটা আমাকে সান্ত্বনা দেয়। ক্লাসরুমে পৌঁছই দেরিতে, ওদিকে আবার রেলস্টেশনে পৌঁছে যাই বাড়াবাড়ি রকমের আগেভাগে। আমি জানি, ক্লাস কয়টায় শুরু হবে। আমি এ-ও জানি, ট্রেন কয়টায় আসবে। এবং আমি আরও জানি, তবু ভুলটা আমার হবেই। ইচ্ছে করে ভুল করি, এমন নয়। ভুল হয়ে যায়। আমি খুব আবেগ মিশিয়ে রাজ্যের যত সুন্দর ভাবনা জড়ো করে করে গুছিয়ে লেখা একটি মেসেজ ভুল মানুষকে পাঠিয়ে দিই। আবার সব সময়ই রং-নাম্বারটাই রিসিভ করি। এমন ভুল হয়ে আসছে। কিছুতেই বেরুতে পারছি না এখান থেকে। বেরুতে আমি চাইছি না, তা নয়। সত্যিই পারছি না। আমি বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁতের শাড়ি পরি, আর
স্তন ক্যান্সার ও সামাজিক রক্ষণশীল মানসিকতা

স্তন ক্যান্সার ও সামাজিক রক্ষণশীল মানসিকতা

কবরী বিশ্বাস অপু স্তন ক্যান্সার বিশ্বজুড়েই নারীর মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এটি সমানভাবে বিবেচ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৫ হাজারের বেশি মানুষ স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। এদের মধ্যে ৯৮ শতাংশের বেশি নারী, তবে খুব অল্প সংখ্যক পুরুষও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ এ রোগে মারা যান।" সংখ্যাটা নেহায়েত কম নয়। অথচ সচেতনতার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ প্রায় ১০০ ভাগ নিরাময় সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বেশির ভাগ সময় আমরা স্তনের সমস্যা নিয়ে সংকোচবোধ করি, গুরুত্ব দেইনা। পুরুষ ডাক্তার দেখানোর লজ্জায় অনেকসময় আমরা এই সমস্যাগুলো পুষে রাখি। আমাদের সামাজিক রক্ষণশীলতার কারণে আক্রান্তের অধিকাংশই ডাক্তারের শরণাপন্ন হননা, হলেও যে পর্যায়ে হন ততদিনে অনেকটা সময় চলে যায়। রোগ নিরাময়ের সম্ভাবনা থাকে
যদি কোনো নারীকে গলাতে চাও, তাকে ভালোবাসো, তাকে সম্মান করো

যদি কোনো নারীকে গলাতে চাও, তাকে ভালোবাসো, তাকে সম্মান করো

আশিক রাহমান বিশ্বাস করো যত বড় বাঘা পুরুষ ই হওনা তুমি, নারী মনে প্রবেশ করা তোমার পক্ষে অসম্ভব -যদি সে মনের দ্বারে তুমি আঘাত করে ঢুকতে চাও! ভাঙা দরজা ভেদ করে ওপাশে তুমি কিছুই পাবেনা ক্ষত বিক্ষত থলথলে মাংস পিন্ড ছাড়া!! বুকের উপর বুক চাপিয়ে তুমি শুধু নরম মাংসের আস্বাদন পাবে- যা তুমি তুলার বালিশ ধরেও পাবে। নারীকে ছুঁতে চাইলে তার ধমনিতে বহমান রক্ত কণিকাকে জাগিয়ে তুলতে হবে তোমার। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে অথবা কামড়ে-খামচে তুমি সে শীতল রক্তে উষ্ণতা জাগাতে পারবেনা কখনোই, যদি না জানো নারী কি চায়! ধারালো তলোয়ার দিয়ে তুমি পালোয়ানের শিরচ্ছেদ ঘটাতে পারো, কিন্তু নারীকে ধরাশায়ী করতে চাই নিখাদ ভালোবাসা। কিছু পুরুষের ধারণা- বিছানাটা এলোমেলো করে দিয়ে শরীর ঝাকিয়ে বুঝি নারীকে জয় করা যায়! নির্বোধ তুমি, তোমার মত বীর বাহাদুর তাকে ছিড়ে কুটি কুটি করে ফেললেও নির্বিকার ভঙ্গিতে তোমার দিকে তাকিয়ে থাকার ক্ষমতা সে রাখে।
নারী, কোথায় তোমার বাড়ি?

নারী, কোথায় তোমার বাড়ি?

স্বপ্না দে তিনি জয়ীতা চৌধুরী। মাথায় কাঁচা পাঁকা চুল, চেহারায় একটা ভারিক্কি ভাব আছে, বয়স মধ্যগগনে। চশমা ছাড়াই দিব্যি চলে যাচ্ছে। এখনো মিছিলের শোরগোল শোনা গেলে শরীর মনে আগুন জ্বলে। এহেনো মানুষ হঠাৎ করেই একদম দমে গেলেন একটি ফোন কল পেয়ে। উনার স্বামী অনিরুদ্ধ বাবুর উর্দ্ধতন অফিসার ফোন দিয়েছিলেন। চূড়ান্ত দেনাপাওনার চেক টি কার নামে ইস্যু হবে। অনিরুদ্ধ বাবু দীর্ঘদিন থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে শয্যাশায়ী। কর্তৃপক্ষ আর অপেক্ষা করতে পারবেন না, দেনাপাওনা মিটিয়ে নিতে হবে। উনি দু সেকেন্ড ভেবে নিয়ে উত্তর দিলেন, ’যার পাওনা তার নামেই দিয়ে দিন।’ কিছুক্ষন পর আবার ফোন এলো, তিনি তো স্বশরীরে উপস্থিত হতে পারবেন না। এমতাবস্থায় কাকে এড্রেস করা হবে। জয়িতা চৌধুরী জানালেন তাহলে যেনো তার নামেই দিয়ে দেওয়া হয়। বাঁধ সাধলেন অফিসার। একথা সেকথা নানাভাবে বোঝাতে লাগলেন যেহেতু উনাদের সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গিয়েছে সেহেতু পু
বিয়ে নারীকে কী দেয়?

বিয়ে নারীকে কী দেয়?

তসলিমা নাসরিন তারকা জেমসের প্রথম স্ত্রী রথিকে মনে আছে? ফটোসুন্দরী হয়েছিলেন, এক সময় বিজ্ঞাপনচিত্রে, নাটকে, টেলিছবিতে এমন কি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। সেই রথিকে বিয়ের পর অভিনয় ছাড়তে হয়েছিল, কারণ স্বামীর আদেশ। স্বামী জেমস সোজা বলে দিয়েছিলেন নাটক সিনেমা করা চলবে না। শেষ অবধি দুটো সন্তান জন্মাবার পর জেমস তালাক দেন স্ত্রীকে। অন্য একটি বিয়েও তখন তিনি করে নিয়েছেন। সন্তান নিয়ে রথিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে হয় ২০০৩ সালে। সেই থেকে তিনি নিজেই সন্তান বড় করেছেন। আমাদের জনপ্রিয় জেমস সন্তান লালন-পালনে কোনও রকম সাহায্য করেননি, নিজের ধন-দৌলতের কিছুই খরচ করেননি তাদের জন্য। বিয়ের পর রথিকে তাঁর অভিনয় থেকে সরে আসতে হয়েছিল, জেমসকে কিন্তু তাঁর গান থেকে সরে আসতে হয়নি। আজও সমাজে এমন ঘটনা ঘটে। মেয়েদের স্বাধীন এবং স্বনির্ভর হওয়ার পথে শিক্ষিত সচেতন পুরুষ বলে যাঁদের বিশ্বাস করি, তাঁরাই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান। বিয়ে