মুক্তমত

‘ঘরজামাই’ নয় প্রসঙ্গ মানবিক বোধের

‘ঘরজামাই’ নয় প্রসঙ্গ মানবিক বোধের

অদিতি দাস মানুষের আগ্রহের কোন সীমা পরিসীমা নেই। প্রয়োজনে, নিতান্ত প্রয়োজন নেই এমন বিষয়েও তাদের জানার তুমুল আগ্রহ। নিজের গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকুও অনেকে অনায়াসে ব্যয় করে ফেলেন অন্যের বিষয়ে নাক গলিয়ে। আত্মীয়, বন্ধু কিংবা পাশের ফ্ল্যাটে আসা ভাড়াটিয়া নিয়েও কৌতুহলি হন অকারণে। আর সেলিব্রেটি কেউ হলে তো রেহাই নেই। তাদের একান্ত ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কেও আদ্দ্যেপান্থ জানা চাই। সেই জানার  'ক্ষুধা' নিবারণে গণমাধ্যমগুলোও 'যা নজরে আসে' কিংবা 'নজরের বাইরের’ বিষয়গুলোও দিব্যি প্রকাশ করে। যেমনটা সম্প্রতি সময়ে বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিংকে নিয়ে।  ‘দীপিকার বাড়িতে গিয়ে থাকছেন রণবীর’-তা নিয়ে গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে চর্বিত চর্বন। বিয়ের পর নিজের বাড়িতে না থেকে স্ত্রী দীপিকার বাড়িতে গিয়ে উঠেছেন রণবীর। তা নিয়ে যে যার মতো মন্তব্য করছেন অনেকে। গবেষণা চলছে তিনি  ‘ঘরজামাই' হলেন কিনা? র
এই গ্লানি কোথায় রাখি?

এই গ্লানি কোথায় রাখি?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল আমি প্রতি দুই সপ্তাহ পর পর পত্রপত্রিকায় লিখি। এই সপ্তাহের জন্যেও লিখতে বসেছিলাম। সবেমাত্র একটা ইলেকশন শেষ হয়েছে, মোটামুটি সবাই জানতো আওয়ামী লীগের মহাজোট জিতে আসবে কিন্তু ফলাফল দেখে আমরা সবাই কম-বেশি চমকে উঠেছি। সত্যি সত্যি দেশের সব মানুষ আওয়ামী লীগের পক্ষে চলে গিয়েছে নাকি এর মাঝে অতি উৎসাহী মানুষের অবদান আছে বোঝার চেষ্টা করছিলাম। একটা জিনিস স্পষ্ট, এই দেশে এখন মানুষ মন খুলে কথা বলতে ভয় পায়, পত্রপত্রিকাও যথেষ্ট সতর্ক। সবকিছু মিলিয়ে আমি আমার নিজের মতো করে কিছু একটা লিখে প্রায় শেষ করে এনেছি, তখন হঠাৎ করে সংবাদপত্রে একটা সংবাদে চোখ আটকে গেলো। নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকায় চার সন্তানের জননীকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্যে গণধর্ষণ করা হয়েছে (আজকাল প্রায়ই গণধর্ষণ শব্দটি চোখে পড়ে কিন্তু এখনও আমি এটাতে অভ্যস্ত হতে পারিনি, বাংলা ভাষায় এর চাইতে ভয়ঙ্কর কোনও শব্দ আছে কিনা আমার জান
মেয়েরা স্বামীর অবহেলায় এক সময় বদলে যেতে থাকে

মেয়েরা স্বামীর অবহেলায় এক সময় বদলে যেতে থাকে

আশিক রাহমান আমার কাছে মেয়েদের পুতুলের মত লাগে। উহু খেলার পুতুল না, আহ্লাদি পুতুল। পুতুল খেলার বয়স এক সময় পেরিয়ে যায়, ছোট বেলার আদরের পুতুল বড় বেলায় কোনো কাজে আসেনা। কিন্তু মেয়েদের প্রয়োজন কখনোই ফুরায় না। জীবনের শেষ বয়সটাতেও নিজেকে অসহায় মনে হয় যদি সারাজীবনের বুড়িটা পাশে না থাকে। একদম ছোট বেলা থেকে, যখন ছেলেরা খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি করতাম তখনও দেখতাম মেয়েদের একটু পটাতে পারলে পুরো টিফিন বক্সটাই দিয়ে দিত। আমি খুব অবাক হই কত অল্পতে মেয়েরা খুশি হয়ে যায়! পাহাড় পর্বত জয় করেও যেখানে অনেকের খুশি লাগেনা, মেয়েরা সেখানে ছাদের কিনারায় দাঁড়াতে পেরেই বেজায় খুশি। পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে পাঁচ টাকার এক গোলাপ খোঁপায় গুজে দিলে মেয়েটা খুশিতে কেঁদে দেয়। কত ছোট তাদের চাওয়া গুলো, কত ছোট ছোট খুনসুটি, মান অভিমান! সামান্য এক বক্স চকলেট পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায় আবার একটু খানি ইগনোর করলে চোখে পানি চলে আসে। সামান্য একট
ভালো থেকো মা অন্যলোকে

ভালো থেকো মা অন্যলোকে

রোমেনা লেইস কুচবিহারের হেমকুমারীতে ১৯৩৪ সালের এক শীতে আমার মায়ের জন্ম।ব্যবসায়ী বাবার প্রথম সন্তান।রাবেয়া খাতুন। সবার খুব আদরের।আমার মায়ের কাছেই ডুয়ার্সের চা বাগানের গল্প শুনেছি।আংড়াভাসা নদী আর  ‘নয়া নয়া বথুয়া নুন তেল পায় ‘...শুনে শুনে বড় হয়েছি।পরে সমরেশ মজুমদারের বণর্নায় সে ছবি মিলিয়ে নিয়েছি।স্কুলে ভর্তি করার জন্য পরবর্তীতে হলদিবাড়িতে আমার নানা বাড়ি কিনেছিলেন।আমার মায়ের সাথে হলদিবাড়ি একবার বেড়াতে যাবার কথা ছিলো কিন্তু আর যাওয়া হয়ে উঠলো না। আমার মায়েরা চারবোন, দুইভাই। মায়ের পরে এক ভাই।তারপর একবোনের পরে আরো এক ভাই।সবার শেষে আরো দুই বোন।শৈশব কৈশোর খেলাধুলা,স্কুলে যাওয়া, আনন্দ, হাসি, গান, গল্পে কেটে যাচ্ছিলো দিন।হিন্দু মুসলিম কোন ভেদাভেদ নাই।মিলে মিশে বেশ আত্মীয় পরিজনের মত দিন কাটছিলো।মায়ের বড়চাচাকে ডাকেন বড়বাজান।তাঁর তিনছেলে। বড়চাচীকে ডাকতেন বড়মা।।একান্নবর্তী পরিবারে সব ভাইবোন।আর অন্য চাচা
পরকীয়া নিয়ে ভারতের সুপ্রীম কোর্টের রায় ও কিছু কথা

পরকীয়া নিয়ে ভারতের সুপ্রীম কোর্টের রায় ও কিছু কথা

তমিস্রা তিথি পরকীয়া নিয়ে বেশ হুলুস্থুল হলো ভারতীয় সুপ্রীম কোর্টের রায়ে। পরকীয়া কি জানার আগে জানতে হবে মানুষের প্রবনতাকে, প্রায় সব সমাজবিজ্ঞানীরা স্বীকার করেছেন মানুষের প্রবণতা হলো বহুগামিতা। এখন বহুগামিতা ব্যাপার টা কি? বহুগামিতা মানে শুধুই যৌনতা নয় বা যৌনতা নির্ভর নয়। আদিম মানুষ দলবদ্ধ থেকেছে, তখন পরিবার প্রথার উদ্ভব হয়নি, মানুষের জীবন ছিলো প্রকৃতির আইনে চালিত। প্রকৃতি ও প্রবণতা তাকে যা বলেছে, সে তার ঐ প্রবনতা বা ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে চলেছে। তারপর সম্পত্তির ধারণা বিকাশ লাভ করলো, সৃষ্টি হলো ট্রাইব বা কৌম, কৌমের অধিপতি তার সম্পত্তি নারীদেরকে রক্ষা করতেন! নারী তখন তার সবটুকু মর্যাদা হারিয়ে হয়ে গেলো সম্পত্তি। ধর্ম এসে নারীর শরীর কেন্দ্রিক সতীত্ব ধারণার জন্ম দিলো। নারীর ডানা কেটে তাকে খাঁচায় পুরে পুরুষ সমাজ, ধর্মের হর্তাকর্তা সবাই বেশ নিশ্চিন্ত হলেন, কিন্তু নিজেরা কেমন যেনো ‘ঘরকা মুরগী ডা
বাংলাদেশের ২ হাজার মেয়েকে মুখ খুলতে হবে: তসলিমা

বাংলাদেশের ২ হাজার মেয়েকে মুখ খুলতে হবে: তসলিমা

প্রখ্যাত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন শুরু থেকেই #মিটু আন্দোলনের সমর্থন দিয়ে আসছেন। তিনি নিজেই তার জীবনের অনেক নিপীড়নের গল্প প্রকাশ করেছেন বইয়ের পাতায়। এবার তিনি মুখ খুললেন বাংলাদেশে #মিটু আন্দোলন নিয়ে। এখন পর্যন্ত দুজন নারী সোশ্যাল সাইটে ‘যৌন হয়রানির শিকার হওয়া’র দাবি করে সোশ্যাল সাইটে মুখ খুলেছেন। তসলিমার মতে, এই প্রতিবাদীর সংখ্যা আরও বেশি হওয়া উচিত। নিজের ভেরিফায়েড ফেসুক অ্যাকাউন্টে তসলিমা লিখেছেন, ‘বিশ্বজোড়া #মিটু আন্দোলন চলছে। বাংলাদেশের মাত্র দুটি মেয়ে মুখ খুলেছে। দুটি নয়, দুই হাজার মেয়েকে মুখ খুলতে হবে। মেয়ে দুটি বিদেশে থাকে। বিদেশ থেকে নয়, বাংলাদেশ থেকে বলতে হবে কোন নামি দামি ভদ্রলোক তাদের যৌন হেনস্থা করেছে। বলেছে বলে কাউকে নিশ্চয়ই তসলিমার মতো নিগৃহীত হতে হবে না। যদি হতে হয় তাহলে বুঝতে হবে সমাজ সামান্যও বদলায়নি। দুইশ বছর আগে যা ছিল, দুইদশক আগে যা ছিল, এখনও তাই আছে।’
লজ্জিত হই কিন্তু দমে যাই না…স্বপ্ন দেখতে ভালো লাগে

লজ্জিত হই কিন্তু দমে যাই না…স্বপ্ন দেখতে ভালো লাগে

ফজিলাতুন্নেসা শাপলা দেশে ফেরার পর যখনই শিক্ষা ক্ষেত্রে কোন ভালো উদাহরণ দিতে গেছি, তখনই আমাকে নানা রকম প্রতিকূল ভাবনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। শুনতে হয়েছে,“বাংলাদেশ তো আর জাপান না। খামোখা ঐ দেশের উদাহরণ এই দেশে টেনে এনে কী লাভ?”অনেকেই নানাভাবে আমাকে লজ্জা দেন। আমি তাতেও দমে যাই না। লজ্জিত হইনা। বারবার করে নানা উদাহরণ টেনে আনি। কারণ জাপানও আমাদের মতো অবস্থায় ছিলো। জাপানিজরা আচার আচরণে বরাবরই ছিলো গোঁড়া এবং শিক্ষা ব্যবস্থা ছিলো আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার মতো। জাপানিজ শিক্ষা ব্যবস্থাকে পূণর্গঠণ করা হয়েছে খুব বেশি দিন হয়নি। জাপান মানেই চোখে ভেসে ওঠে সামুরাইদের চেহারা। একসময় জাপানিজরা নিষ্ঠুর জাতি হিসেবে গোটা বিশ্বে পরিচিত ছিল। অন্যদের কাছে থেকে জাপানিজদের শিক্ষা-দীক্ষা নেবার ব্যাপারে ছিল চরম উন্নাসিকতা। এদো (edo) পিরিয়ডে পশ্চিমাদের সাথে মেশার ব্যাপারে আইন ছিল খুব কড়া। কোন জাপানিজ লেখ
স্পটলাইটে স্কুল-অভিভাবক সম্পর্ক

স্পটলাইটে স্কুল-অভিভাবক সম্পর্ক

নমিতা দাশ সানি সেবাদাতাআরগ্রহীতাসবখানেইমুখোমুখিদাঁড়িয়েযাচ্ছেন যেন।স্কুলগুলোরবিরুদ্ধেযেভাবেঅভিযোগকরাহচ্ছেমনেহয় এগুলোস্কুলনয়-‘ক্লিনিক’, আর শিক্ষকরা ‌‌‘কসাই’। মানে ক্লিনিকগুলোকসাই-জীবিকারতাগিদে এইঅভিযোগঅথবারক্তযোগদেখেশুনেঅসারঅনুভূতি।কিন্তুনবমশ্রেণীরছাত্রীঅপমানসহ্যকরতেনাপেরেআত্মহত্যার ঘটনারআগেথেকেইচারপাশেরমা–বাবারাস্কুলআরশিক্ষকদের নিয়েএতোবিরূপমন্তব্যকরে আসছেন, এমনকিআমারনিজেরস্কুলনিয়েওঅনেকেরকাছেইখারাপমন্তব্যশুনি।শুনলেমনেহয়, আমাদেরচামড়া বোধ হয় মোটাছিলো, কিংবা বোকাছিলাম, মোবাইলছিলোনা, নেটের তো তখন জন্মই হয়নি–তাই আমাদের শিক্ষকরামারলেও, বকলেও তাঁদেরইভালোবাসতাম।আরশিক্ষকরাও মা–বাবাদের সঙ্গে সবসময় ভালো ব্যবহার করেছেন। বাচ্চার অন্যায়কে বাবা–মা’র অন্যায় মনে করে উদোর পিণ্ডি উনাদের ঘাড়ে চাপাননি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখে গেছেন, ‘যার কাছে দেনা পাওনার সম্বন্ধ, তাকে ভালোবাসা যায় না।’ স্কুলআরঅভিভাবকদেরস
‘টিন আর গম চুরি করব না’

‘টিন আর গম চুরি করব না’

  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী কনক চাঁপা। কেন নির্বাচনের কঠিন যুদ্ধে নামার সিদ্ধান্ত? সে বিষয়টি তাঁর প্রিয়জনদের জানাতে লিখেছেন এই লেখাটি। তাঁর প্রিয়জনদের এবং উইমেন ওয়ার্ডস -এর পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো- রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা বন্ধুরা, আমার ভালবাসা নিও। (তোমরা আমার পরিবারের মতো হয়ে গেছো, আমার জীবন তোমাদের সামনে খোলা বইয়ের মতোই। আমার সব সুখ-দুঃখ তোমাদের বলি অকপটে। আজও তাই কিছু কথা বলি। এরপর ও কিছু জানার থাকলে বল, আমি উত্তর দেবো।) যাইহোক, ছোটবেলা থেকেই আমি আমার মাকে সমাজসেবায় নিয়োজিত থাকতে দেখেছি। তাঁর মানবসেবা দেখে দেখে বড় হয়েছি। দুইমুঠো ভাত থেকেও যে আরেকজনকে সহায়তা করা যায় নিরবে, তা দেখে বিস্মিত হয়েছি। মানুষের প্রতি ভালবাসা, পশুর প্রতি ভালবাসা, অসহায়ের পক্ষে কথা বলা এগুলো আমার মায়ের বাড়াবাড়ি রকমের অভ্যা