‘বসন্ত বাতাসে সই গো ’

নিউজটি শেয়ার করুন

‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।
তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে
কোরো না বিড়ম্বিত তারে’।
কবিগুরুর কবিতার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আজ। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন পয়লা ফাল্গুন আজ। স্বাগত হে বসন্ত। প্রাণ খুলে তাই কবির ভাষায় বলা যায়, ‘আহা আজি এ বসন্তে/ এতো ফুল ফোটে/এতো বাঁশি বাজে/এতো পাখি গায়’। ষড়ঋতুর দেশে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতিতেই মূলত বসন্ত জানান দেয় তার আগমনী বার্তা। গ্রামের মেঠোপথ, নদীর পাড়, গাছ, মাঠভরা ফসলের ক্ষেত বসন্তের রঙে রঙিন হয়ে উঠবে আজ।

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম বসন্তকে নিয়ে লিখেছেন-‘বসন্ত বাতাসে সই গো’ বিখ্যাত গান। নগর জীবনেও বসন্ত ছন্দ তোলে মৃদু হিল্লোলে। কংক্রিটের নগরীতে কোকিলের কুহুস্বর ধ্বনিত হয় ফাগুনের আগমন সামনে রেখে। যানজট, কোলাহল ছাপিয়েও যেটুকু সবুজ খুঁজে পাওয়া যায় নগরে, একেই অতি আপন করে নেন নগরের কর্মব্যস্ত মানুষ। আজ ফাগুন হাওয়ার দোল লাগবে বাংলার মাঠ ঘাট তরুলতা আর দূরের দিগন্তবিস্তৃত মাঠে। বসন্ত সমীরণে রঙিন হয়ে উঠছে প্রকৃতির মায়াবী ক্যানভাস। শীতে খোলসে ঢুকে থাকা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম এখন অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠেছে।

তবে বসন্ত শুধুু অশোক-পলাশ-শিমূলেই উচ্ছ্বাসের রং ছড়ায় না, আমাদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের রক্তরঙিন পুষ্পিত রক্তের স্মৃতির ওপরও রং ছড়ায়। একুশের পলাশরাঙা দিনের সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস আর বাঁধভাঙা আবেগের জোয়ার যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। তাইতো ফুল পাখির আবহে ফাগুনের প্রথম দিনে আজ তারা মিলিত হবেন মনকে বসন্তের রঙে রাঙিয়ে। প্রীতির বন্ধনে আপন মহিমায় খুঁজে নেবেন বসন্তকে। তারা বাসন্তী রঙের পোশাকে নিজেদের রাঙিয়ে নেবে। তরুণীরা বাসন্তী রঙের শাড়ি পরে খোঁপায় হলুদ গাঁদা, পলাশসহ নানা ফুল গুঁজে আর তরুণরা বাসন্তী রঙের পাঞ্জাবি ও ফতুয়ায় নতুন করে নিজেদের রাঙাবে নতুন আভায়। সেজে নেমে আসবেন পথে পথে। নগরীর বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়, খোলা প্রাঙ্গণ অথবা পর্যটন এলাকা তাদের পদচারণায় থাকবে মুখর। মুঠোফোন, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলবে তরুণ তরুণীদের বসন্তের শুভেচ্ছা বিনিময়। প্রাণের উচ্ছ্বাসের জয়গান। বসন্তকে সামনে রেখে গ্রাম বাংলায় মেলা, পুতুল নাচ, বায়োস্কোপ, সার্কাসসহ নানা আয়োজনের সমারোহ থাকবে। ভালোবাসার মানুষেরা মন রাঙাবে বাসন্তি রঙ্গেই। শীতের সঙ্গে তুলনা করে চলবে বসন্তকালের পিঠা উৎসবও।

বাঙালির জীবনে বসন্তের উপস্থিতি অনাদিকাল থেকেই। সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শনেও বসন্ত ঠাঁই করে নিয়েছে তার আপন মহিমায়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে আধুনিককালের বাউল কবির মনকেও বারবার দুলিয়েছে ঋতুরাজ বসন্ত। একইসাথে বসন্তের আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য, বাঙালিস্বত্বা। সে ঐতিহ্যের ইতিহাসকে ধরে রাখতে পারলেই বসন্ত উৎসবের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্ম ছড়িয়ে দিতে পারবে বাঙালি চেতনাকে। সেই থেকে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে।

এদিকে, সিলেটের বিভিন্ন সংগঠন আজ নানা আয়োজনে বরণ করে নেবে ঋতুরাজকে। বসন্তের প্রকৃতি বর্ণনা ও বন্দনা করা ছাড়াও এসব অনুষ্ঠানে বাঙালির জীবনে বসন্তের প্রভাব নানা ব্যঞ্জনায় ফুটিয়ে তোলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *