রাহিমা বেগম

ভাল বীজ সংরক্ষণ করা কষ্টকর । খারাপ বীজ যে কোন ভাবে ফেলে রাখলেও মাটি-পানির স্পর্শ পেলে নতুন চারার জন্ম দেয়। তারপর বিস্তার করতে থাকে তার শাখাপ্রশাখা। একাত্তরের খুনী ধর্ষণকারীদের তখনই যদি শাস্তি দেওয়া হতো তাহলে হয়ত এদেশের রাস্তা-ঘাটে, বাস-টার্মিনালে, মসজিদ, মন্দির, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমনকি সংরক্ষিত নিরাপদ সেনানিবাসে এত ধর্ষণকারী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থেকে নির্ভিগ্নে ধর্ষণ করে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারতনা। তখনকার ধর্ষণকারী বীজগুলো নষ্ট না করায় আজ এদের মাধ্যমে এত এত বিষ বৃক্ষের জন্ম হয়েছে। সব বিষবৃক্ষ সমূলে উৎপাটন করা শুধু কষ্টকর নয় অসম্ভব ও বটে। তবে সকল বিষবৃক্ষগুলো ধ্বংস করতেই হবে, এর কোন বিকল্প নেই।

একাত্তরের ধর্ষণকারী, ধর্ষণের সহযোগীতাকারী, ধর্ষণ আড়ালকারী, প্রশ্রয়দাতা আর বর্তমান সময়ের ধর্ষণকারী, ধর্ষণকাজে সহযোগীতাকারী, মদদকারী, আশ্রয় প্রশ্রয়দানকারী সকলে আমার কাছে সমান অপরাধী। এসকল অপরাধীদের বিচারকাজে যত দেরী হবে এদেশের বাতাস ততবেশী সম্ভ্রমহারা মা-বোনদের কান্নায় ভারী হতে থাকবে। এদেশের মেয়েগুলো মুক্ত বাতাসের জন্য ছটফট করতে থাকবে, বিষবৃক্ষে ঘেরা সবুজ বাংলাদেশে বিশুদ্ধ অক্সিজেন অভাবে তাদের দম বন্ধ হয়ে আসবে, আতুর ঘরে তাদের মৃত্যু হবে, জীবনের স্বাদ তারা কোনদিনও স্বাধীনভাবে নিতে পারবেনা।

আমি চাই তনু, আফসানা, রিশা, করিমুন, নসিমুন নাম না-জানা সকল বোনের ধর্ষণকারীদের সমান বিচার হোক, দ্রুত বিচার হোক। নষ্ট বীজ, দুষ্টু মানব এরা সকলে বন্দি থাকুক- অনু, মিনু, রিয়া আর আয়েশারা মুক্ত হয়ে চলাফেরা করুক, শান্তিতে স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠুক। তাদের নিরাপদ পথচলা এদেশের এগিয়ে যাওয়াকে আরো গতিময় করুক।

লেখকের অন্য কলাম-
অনুভূতিহীন রোবট সন্তানরাই জঙ্গিবাদে পা দিচ্ছে

………………………………………………………………………………………..
মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। womenwords.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে womenwords.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

Similar Articles

Leave a Reply