মিতু বালা Archives - Women Words

Tag: মিতু বালা

’বাইশে শ্রাবণ’ এবং শান্তিনিকেতন

’বাইশে শ্রাবণ’ এবং শান্তিনিকেতন

মিতু বালা “বাইশে শ্রাবণ” শুনলেই মনের মধ্যে হাজার ভাবনা খেলা করে, তা কেবল মৃত্যু ভাবনা'য় সীমাবদ্ধ থাকে না। রবি ঠাকুরের পদচারণা বৃহত্তর জগৎ জুড়ে। তাই মৃত্যু নিয়ে তাঁর ধ্যান-ধারণা ছিলো ব্যতিক্রম। মৃত্যুর মধ্যেও যে সৌন্দর্য আছে এবং এটাও যে সহজ সাবলীল তা বোধহয় রবীন্দ্র সৃষ্ট সাহিত্যই প্রথম আমাদের জানান দিয়েছিলো। তিনি মৃত্যুকে খুব সুন্দর ভাবে গ্রহণ করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের কাব্য মানস পটে মৃত্যু চিন্তার নানা ভাবের প্রতিফলন ঘটেছিলো। মৃত্যুকে কখনও তিনি বন্ধু রূপে কল্পনা করেছেন, কখনও সখা কিংবা প্রেমিকের রূপে ভেবেছেন। আবার কখনও মৃত্যুকে “অতি নিচ”,“অনুদার”,“সর্বগ্রাসী” বলে কটুকাটব্য করেছেন। পারিবারিক ভাবে মৃত্যু শোকে বারবার জর্জরিত হয়েছেন। তাই মৃত্যু ভাবনা উড়ো মেঘের মতো ঘুরেফিরে এসে নাঁড়া দিয়েছে তাঁর মানস লোকে। জীবনের শেষ বেলার উপলব্ধি অবশ্য কিছুটা দার্শনিক গোছের ছিলো; কিছুটা সংশয়,অস্পষ্টতা, উদাসীনতা
তুলতুলের তুতুন

তুলতুলের তুতুন

মিতু বালা শপিংমলে প্রবেশ করতেই তুলতুলের নজরে এলো সাদা দাড়ি বিশিষ্ট স্থূলকায় হাস্যমুখর এক ব্যক্তির। পরনে ছিল সাদা কলার ও কাফযুক্ত লাল কোট, সাদা কাফযুক্ত লাল ট্রাউজার্স, কালো চামড়ার বেল্ট ও বুটজুতো।আর কাঁধে বিশাল এক ঝোলা । এমন কিম্ভূতকিমাকার চেহারা বিশেষত তার ঐ আলখাল্লার মতো পোশাকটা দেখে তুলতুলের  চিনতে অসুবিধা হলো না ; এই তো সেই সান্টাক্লজ ! টেলিভিশন আর মোবাইলের পর্দায় সে তো বহুবার সান্টাকে দেখেছে। না,তার চিনতে একদম ভুল হচ্ছে না। জীবন্ত সান্টাকেই সে দেখছে। তবে সান্টা শপিংমলে কি করছে ? তখন ওর  মনে হলো, আরে কিছুদিন বাদেই তো বড়দিন। এ সময়তো সান্টা ভালো ছেলেমেয়েদের বাড়ি ঘুরে ঘুরে উপহার দিতে আসেন। শিশুদের আচরণ অনুযায়ী তাদের  একটা তালিকাও প্রস্তুত করেন  । আর এদের  একদলে থাকে দুষ্ট বাচ্চারা, অন্যদলে লক্ষ্মী বাচ্চারা।  তারপর খ্রিষ্টমাস ইভের রাতে তিনি লক্ষ্মী ছেলেমেয়েদের জন্য খেলনা, লজঞ্
বেগম রোকেয়া’র লেখনীতে সমাজচিন্তাই মূর্ত হয়েছে

বেগম রোকেয়া’র লেখনীতে সমাজচিন্তাই মূর্ত হয়েছে

মিতু বালা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নামটির সঙ্গে অনেক ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে, আধুনিক যুগের ইতিহাস আওড়াতে গিয়ে তাঁর নামটা কোনোভাবে এড়িয়ে যাওয়ায় দায় নেই। তারপরও নয়'ই ডিসেম্বর তাঁকে বিশেষ ভাবে স্মরণ করা হয়।তাঁর জন্ম-মৃত্যুর দু'টো তারিখই নয় ডিসেম্বর। তাই, এই দিনটি বাংলাদেশে “রোকেয়া দিবস”হিসেবে পালিত হয়। তাঁকে স্মরণ করতে গিয়ে তাঁর লেখা একটা চিঠির অংশ তুলে ধরবো পাঠক সম্মুখে। ভগিনী মরিয়ম কে লেখা : “ভগিনীরে এই যে হাড়ভাঙ্গা গাধার খাটুনী-ইহার বিনিময় কি জানিস? বিনিময় হইতেছে, “ভাঁড় লিপকে হাত কালা”অর্থাৎ উনুন লেপন করিলে উনুন বেশ পরিষ্কার হয়, কিন্তু যে লেপন করে তাহারই হাত কালিতে কালো হইয়া যায়। আমার হাড়ভাঙ্গা খাটুনীর পরিবর্তে সমাজ বিস্ফোরিত নেত্রে আমার খুঁটিনাটি ভুল ভ্রান্তির ছিদ্র অন্বেষণ করিতেই বদ্ধ পরিকর।” লেখকদের চিঠিকে তাঁদের সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়,তাই চিঠি গুলো এখনও সহজলভ্য। চাইলে সেটা পড়
মোহঘোর

মোহঘোর

মিতু বালা আজ লিথিলার বিয়ে।মিষ্টি সুরে সানাই বাজছে। সানাইয়ে’র সুর মেঘের মতো উড়ে উড়ে জানান দিচ্ছে বিয়ের। আমার ব্যালকনি থেকে ওদের টিনের বাড়িটা দেখা যায়। টিনের গায়ে গাঢ় আকাশী রঙের প্রলেপের জন্য বাড়িটা দূর থেকেই চকচক করে। বিয়ের সাজে আজকে বাড়িটাকে আরো বেশি রঙিন মনে হচ্ছে। কাক ভোরে দধি মঙ্গলের আয়োজন হয়েছিল; শঙ্খধ্বনি,  উলুধ্বনির আওয়াজে ঘুম ভেঙেছিল আমার। এখন, গায়ে হলুদ উপলক্ষ্যে কলসি কাঁখে জল আনতে পুকুরে যাচ্ছে সবাই। গায়ে হলুদের জল আনতে গিয়ে হঠাৎ দু’ মিনিটের ঝুম বৃষ্টির জল সবাইকে সিক্ত করে দিলো। পাশেই ঘাটলা বাঁধা একটা পুকুর আছে। ছোটবেলা থেকে পুকুরটা দেখছি। পুকুরটা এখনও জীবিত। শুনেছি পুকুরের মালিকানা বহুজনের নামে। ভাগবাটোয়ারা করলে খুব সামান্য অংশ সবাই পাবে। হয়তো-বা এজন্যই পুকুরটার অস্তিত্ব এখনও আছে। বরে’র বাড়ি থেকে বরে’র গায়ে মাখানো হলুদ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা নিয়ে সবার হৈচৈ লেগেছে। এবং নানা স্ত্র
ছন্নছাড়া চড়ুইভাতি

ছন্নছাড়া চড়ুইভাতি

মিতু বালা সময়  যেন থমকে গেছে। ঝুম বৃষ্টি দমকা হাওয়ায় উড়ে গেছে।লাজুক বৃষ্টি উড়ে এসে জুড়ে বসেছে। আমি ভয়ংকর ভাবনায় বুঁদ হয়ে আছি। শেষ প্রহরের আলো নিভু নিভু করছে। ঘুমের ঘোরে অচেতন আমি। হঠাৎ কলরবে আচমকা চেতন এলো । এই রুমের  ভেন্টিলেটরে এক চড়ুই যুগলের বসবাস।তাদের বহুকণ্ঠীয় কিচির মিচির আওয়াজে সমস্ত ঘোর কেটে গেলো।চোখ রগড়াতে রগড়াতে ব্যালকনিতে চলে এলাম।  গোধূলি জুড়ে মৃদুমধুর শীতল হাওয়া চোখের ক্লান্তিকে এক ঝটকায় যেন ছিনিয়ে নিয়ে গেলো। আযানের ধ্বনি চারিপাশ জুড়ে সুরে বেসুরে ভেসে আসছে। অদূরে শঙ্খধ্বনি চারপাশটাকে সরব করে তুললো।হঠাৎ কণ্ঠস্বর সমস্ত অনুভূতির ছেদ ঘটালো। কি তোমার  ঘুম ভাঙল?অনেক বার হলো তোমার রুমে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিলাম।দেখলাম তুমি অঘোরে ঘুমোচ্ছ। হ্যাঁ,তবে ঘুম ভাঙ্গেনি ঘুমকে জোর করে ভাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনি কখন এলেন? এই একলা ঘর আর এই অচেনা গ্রামে আমার দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম হচ্ছিল। তা  ঘু