মতামত

‘ভারতীয় নারীরা যেন বস্তুসামগ্রী’

‘ভারতীয় নারীরা যেন বস্তুসামগ্রী’

মনিরুল ইসলাম বঙ্গের দুই অভিনেত্রী মিমি ও নুসরাত লোকসভা নির্বাচনের পদপ্রার্থী হলে তাঁদের অশ্লীল ট্রোলের শিকার হতে হয়। ভারতে প্রতি তিন মিনিটে এক জন নারীর বিরুদ্ধে ঘটে অপরাধ। তাহলে কি খুব জোর দিয়ে বলা যায়, হ্যাঁ নারীরা তাঁদের যোগ্য সম্মান পাচ্ছেন? সালটা ১৮৪২। মাইকেল মধুসূদন দত্ত তখন হিন্দু কলেজের ছাত্র। বয়স মাত্র আঠারো বছর। নারীশিক্ষা বিষয়ক প্রবন্ধ লিখে প্রথম হয়েছিলেন তিনি। সেই প্রবন্ধে তিনি লিখেছিলেন, ‘ভারতীয় নারীরা যেন বস্তুসামগ্রী—তারা আসবাবপত্রের মতো। তারা শুধু ভোগের উপকরণ মাত্র’।  পরবর্তী কালে সেই নারীসমাজ রামমোহন, বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীদের হাত ধরে অন্ধকার ঘরের কোণ ছেড়ে মুক্তির পথ খুঁজেছে। বিশ্বজয় করার পরে, স্বামী বিবেকানন্দ ভারতবর্ষের মূল সমস্যা খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “ভারতের দুই মহাপাপ—মেয়েদের পায়ে দলানো আর জাতি জাতি করে গরিবগুলোকে পিষে ফেলা।” তিনি বুঝেছিলেন, “
ভালো মনের দাম গহনার চাইতে বেশি

ভালো মনের দাম গহনার চাইতে বেশি

আশিক রাহমান দামি গহনা মেয়েদেরকে বিশেষ কোনো দিনের জন্য সুখি করে, কিন্তু সামান্য দশ টাকার বেলি ফুলের মালা তাদের আজীবন সুখি করে। কারণ একদিনের ওই গহনার জন্য আজীবন খোটা শুনতে হয় কিন্তু ফুলের জন্য কেউ খোটা দেয়না। মেয়েরা উপহারে যতটা খুশি হয় তার চেয়ে হাজার গুণ কষ্ট পায় খোটা শুনতে। সামান্য একটা ফুল সামান্য নয় কারণ, টাকা হলে উপহার সবাই দিতে পারে, কিন্তু সুন্দর একটা মন না থাকলে কেউ কাউকে ফুল দিতে পারেনা। গহনা টা দরকার ভালো আছি সেটা দেখানোর জন্য, আর নিয়ম করে একটু অনুভূতি নিয়ে ছুঁয়ে দেয়া, দুটো ভালোবাসার কথা বলা, চুড়ি,নুপুর কিংবা লুকিয়ে আনা ফুলের দরকার হয় ভালো আছি সেটা বোঝার জন্য। কেউ কেউ দেখবা সারা গা গহনা দিয়ে মুড়িয়ে দিয়েও ভালোবাসা পায়না, আর কেউ কেউ সামান্য একটা ফুল দিয়ে জড়িয়ে ধরে কাঁদিয়ে দেয়। ভালো থাকার জন্য টাকা দরকার, ভালোবাসার জন্য মন দরকার, ভালো মনের জন্য একটা ভালো মানুষ দরকার। মান
পরীক্ষা না থাকলে কী হয়?

পরীক্ষা না থাকলে কী হয়?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল আমি জানি আমার এই লেখার শিরোনাম দেখে সবাই চমকে উঠবে। অনেকে ভাববে আমি মনে হয় পাগল হয়ে গেছি। যারা আমাকে চেনেন তারা ভাববেন এটি নিশ্চয়ই এক ধরনের কৌতুক কিংবা স্যাটায়ার। আমাদের লেখাপড়ার পুরো ব্যাপারটিই হচ্ছে পরীক্ষানির্ভর। সারা বছর ছেলেমেয়েরা পরীক্ষা দেয়, যে স্কুল যত “ভালো” তাদের পরীক্ষা তত বেশি। বারো বছর লেখাপড়া করার সময় তারা একবার কিংবা দুইবার নয়, চার চারবার পাবলিক পরীক্ষা দেয়। স্কুলের লেখাপড়ার (কিংবা পরীক্ষার) ওপর অভিভাবকদের ভরসা নেই, তাই তাদের ছেলেমেয়েদের কোচিংয়ে ঢুকিয়ে দেন, সেখানেও তারা পরীক্ষার পর পরীক্ষা দেয়। নানা নামে গাইড বই বিক্রি হয়, সেখানে প্রশ্ন এবং উত্তর লেখা থাকে, ছেলেমেয়েরা সেগুলো মুখস্থ করে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। দেশের নামিদামি পত্রিকারা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আহাজারি করে কুম্ভিরাশ্রু বিসর্জন করে, কিন্তু তারা নিজেরা নিয়মিত গাইড বই ছাপিয়ে যায়, ছেলেমেয়েরা যেন ঘরে বসে
‘মুখের কুলুপ ভাঙতে হবে’

‘মুখের কুলুপ ভাঙতে হবে’

অদিতি দাস ‘ভাবি সমান, হই চৌকস, বদলাই নতুনে’ স্লোগানে পালিত হলো এবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস। প্রতিবছর নিয়ম করেই দিবসটি আসে। আমরা ঘটা করে পালন করি। আর ভাবি, ‘এবার হবে’। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে মার্কিন মুল্লুকে রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা। এ ঘটনাই আন্তর্জাতিক নারী দিবসের পটভূমি রচনা করে। এরপর ১৬২ বছর ধরেই নারীরা দৃশ্যত লড়ে চলেছেন নিজের সমঅধিকার আর মানুষ হিসেবে প্রাপ্ত মর্যাদাটুকু প্রতিষ্ঠা করতে। দীর্ঘ দেড়শ বছরের অধিক সময়ের সেই লড়াই আর প্রতি বছর দিবস পালনে কতটুকু কী হয় বা হয়েছে সে হিসাব আপাতত থাক। বরং সম্প্রতি সময়ের কিছু ঘটনার আলোকপাত করি। যেগুলো বিশেষ করে নারীদের পরোক্ষভাবে দারুণ প্রভাবিত করতে পারছে বলে আমার মনে হয়। এসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র, বিক্ষিপ্ত এবং আপাত দৃষ্টিতে অতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে না হলেও গভীরভাবে কান পাতলে সেসব ঘটনাবলী সত্যিকার অর্থেই যেন কানে কানে বলে
কিশোরীর চোখের বিস্ময় আর অবিশ্বাস আমার ঘুম কেড়ে নেয়

কিশোরীর চোখের বিস্ময় আর অবিশ্বাস আমার ঘুম কেড়ে নেয়

অদিতি দাস আজ বিশ্ব নারী দিবস। এবারের দিবস এমন একটা দিনে আমরা পালন করছি, যখন দেশের নারী অগ্রযাত্রার অগ্রভাগে মশাল হাতে যে মানুষটি দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ‘ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী’ কে আমরা বিদায় জানাবো, সমাহিত করবো। তিনি এমন একটা সময় চলে গেলেন, যখন তাকেই আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল। তাঁর প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা। নারী দিবস যত ঘনিয়ে আসছিল, ততই ভেতর থেকে তাগাদা অনুভব করছিলাম কিছু একটা লেখার। যদিও নারী কেন্দ্রিক, নারীকে ঘিরে ঘটনা ও বিষয়াদি নিয়েই কাটে আমার বছর। নারী বিষয়ক বিভিন্ন লেখা সংগ্রহ, পরিচর্যা করে পাঠককুলের সামনে তুলে ধরার কাজটি করছি প্রতিদিন, মাস, বছরজুড়ে। নারী বিষয়ক অনলাইন প্লাটফর্ম উইমেন ওয়ার্ডস এর কাজ করতে গিয়ে প্রতিদিনই কত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হই, নারীদের নিদারুণ কন্টকমাখা জীবনরেখা-চিত্র দেখি আর ভাবি আহা কবে এমন দিন আসবে, যেদিন শুধু নারীর সাফল্যগাঁথাই তুলে ধরবো। ছাপার জন্য খোঁজেও পাবো
শারীরিক নির্যাতন

শারীরিক নির্যাতন

অনন্যা হক সহমরণ বন্ধ হয়েছিল, বিধবা বিবাহ চালু হয়েছিল একসময়।নারীদের কে তখন জন্তু, জানোয়ারের মত এবং শুধু মাত্র ভোগ্য পণ্য হিসেবে গণ্য করা হতো। একই মানুষ, শুধু শারীরিক গঠনে ভিন্ন বইতো আর কিছু না। মানুষের মধ্যে কতটা পশু প্রবৃত্তি থাকলে, এসব বর্বরতা করা সম্ভব! অন্দরমহলে নারীদের  অব্যাহত লড়াই তো ছিলই, আর কিছু গভীর  অনুভূতি সম্পন্ন, সাহসী,  আলোকিত পুরুষ এগিয়ে  আসার কারণে, এসব বর্বরতা থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি হয়। হয়তো কিছু  অন্ধকারে  আলো ঢুকেছে, তাই বলে কি সব অন্ধকার ঘুচে গিয়েছে ?কখনও না । এরই আলোকে এই লেখাটা।সেটা হলো, শারীরিক নির্যাতন। এখনও ঘরে ঘরে অন্দরমহলে, নিম্নবিত্তে তো অহরহ, মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত সব মহলে নারীদের উপর, বহু শারীরিক নির্যাতনের নজির আছে। যে গুলো নারীরা একেবারে নিরুপায় না হলে ,পারতপক্ষে গোচরে আনে না কিন্তু অগোচরে বেশি দিন ঢেকেও থাকে না। কিন্তু  এসবের পাশে দাঁড়ানোর কাউকে পাও
অস্তিত্ব

অস্তিত্ব

অনন্যা হক দুই জন নারী, পুরুষ বিয়ে করে দুজনের সমান প্রয়োজনে।বিয়ে করলে কারো শরীরের রক্ত কি পাল্টে যায়? তাহলে ঠিকানা, পদবী এগুলো কেন পাল্টে দেয়া হয়? নারীদেরও দেখি খুব  অহংকারের সাথে স্বামীর পদবী কাঁধে ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়। তখন তাদের নিজেদেরকে ঠিক কি মনে হয়,  জানতে ইচ্ছে করে। কখনও বাবার ,কখনও স্বামীর, তাহলে নিজের পরিচয় কি? যার দুই  অথবা তিন বিয়ে হয়, তার কতবার পদবী পাল্টাতে হবে, এটা  অনেক বড় প্রশ্ন। একজনের সাথে বনিবনা না হলে আর এক বিয়ে হবে এটাই স্বাভাবিক । ঠিকানা এবং পদবী পাল্টে কেন পরিচিত হতে হবে, এতে কি লাভ, কিসের এত আহ্লাদের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়? একজন আমি কি আমি হিসেবে যথেষ্ট নয়? একটা মেয়ে হোক অল্প শিক্ষিত, না করুক বাইরে কাজ, একটা সংসারে একজন নারী প্রথমত মানুষ হিসেবেই তার আমিত্ব’র একটা সন্মান থাকা উচিত। এর পর সংসারে তার যে পরিমাণ আত্মত্যাগ থাকে, এটাই যথেষ্ট তার পরিচয়ের জন্য। এখন যুগ কত পাল্টে গ
সাহেব-ই-দাওয়া

সাহেব-ই-দাওয়া

জেসমিন চৌধুরী গতবছর ঢাকায় আমার স্বামীর এক বন্ধুর বাসায় তার পিতার মৃত্যু পরবর্তী মিলাদ মাহফীলে গেছি। আর সবার সাথে দুই হাত তুলেছি মোনাজাতে অংশ নেবার জন্য। একপর্যায়ে প্রার্থনাটি পুরুষতান্ত্রিক রূপ নিয়ে নিল যখন সুললিত কন্ঠে হুজুর গাইতে লাগলেন, ‘হে আল্লাহ, আমাদের যাদের যাদের পুত্রসন্তান উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশে আছে, তুমি তাদের হেফাজত করো। হে আল্লাহ আমা...দের যাদের যাদের পুত্রসন্তান চাকরিবাকরি করছে তাদেরকে তুমি তরক্কি দাও...।’ এভাবে একের পর এক আল্লাহপাকের দরবারে সাতটি আরজি পেশ করা হলো খাস করে পুরুষসন্তানদের জন্য। প্রতিটি নতুন আরজির সাথে হুজুরের কন্ঠস্বর আরো চড়া হতে লাগল, সেইসাথে আবেগের মাত্রাও। শুনতে শুনতে আমার কান গরম হয়ে উঠতে লাগল, মোনাজাতের উদ্দেশ্যে তোলা হাত দু’টো শিথিল হয়ে নিজেরই কোলে এসে পড়লো। মোনাজাত শেষ হলে সমবয়েসী কয়েকজনের সাথে বারান্দায় বসে কাচ্চি আর বুরহানি খেতে খেতে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আ
পরকীয়া-স্বকীয়া কোনটাই নারী-পুরুষ সম্পর্কের অনিবার্য পরিণতি নয়

পরকীয়া-স্বকীয়া কোনটাই নারী-পুরুষ সম্পর্কের অনিবার্য পরিণতি নয়

প্রীতি ওয়ারেছা কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে বসে বসে পরকীয়া বিষয়ক সার্কাস দেখলাম, চলমান যদিও। অতি লেবু কচলানিতে মনে হচ্ছে নারীর সার্বিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন এখন গিয়ে পরকীয়ায় ঠেকেছে। প্রতিনিয়ত প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে এভাবে- নারীবাদীরা কী তবে উগ্র যৌনতায় বিশ্বাসি! প্রায় বছরখানেক আগের একটি পরকীয়া বিষয়ক লেখা সম্প্রতি এসে নিউজফিড কাঁপাচ্ছে। সেই লেখাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন মুগ্ধ পাঠক ও সতীর্থরা পরকীয়াকে মহান দাবী করে সেটাকে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগে সামিল হচ্ছেন, অন্যদিকে একের পর এক সমালোচনার হাতুরিপেটাও চলছে। লেখার একজায়গায় নারীকে গর্ব করে বলতে বলা হয়েছে- পরকীয়া না, বল স্বকীয়া করি! আচ্ছা ধরে নিলাম কোন নারীর কাছে পরকীয়া অনৈতিক নয়। ঠিক একই কাজ সেই নারীর স্বামী করলে সেই প্রতিক্রিয়াও নিশ্চিত সমান্তরালই হবে, তাইতো! তিনি স্বামীর মহান পরকীয়াকে সম্মান দিতে স্বামীর বর্তমান নারীকে নিশ্চয়ই বলবেন- এসোগো সতীন
কন্যা সন্তানেরা জাগো (পর্ব-দুই)

কন্যা সন্তানেরা জাগো (পর্ব-দুই)

অনন্যা হক এটা একটা স্বাভাবিক রীতিতে দাঁড়িয়ে গিয়েছে, পরিবারের ভেতরে ছেলে এবং মেয়েকে ব্যাবধানে রেখে বড় করা।অনেক সূক্ষ সূক্ষ বিষয় থাকে, যে গুলো ঠিক সামনে আনা যায় না, মেয়েরা অবিরত ফেস করতে থাকে, এবং একটা চাপা দুঃখ নিয়ে বড় হতে থাকে। এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা মুখ ফুটে বলে না এসব অনাচারের কথা, কিন্তু সন্মানে আঘাত লাগতে থাকে। ক্ষুদ্র পরিসর থেকে শুরু করে, বড় পরিসর, সব জায়গাতেই এই বৈষম্য দেখা যায়। সব চেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা বাবা, চাচাদের থেকে, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এই নারী সমাজ দিয়েই বেশি অবহেলিত হয়। যারা ব্যতিক্রম, এই মনোভাব থেকে বের হয়ে এসেছে, তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে আলাদা করে রাখছি। বড় বড় বিষয়গুলো আইন ও রেওয়াজে রুপ দিয়েছিল পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, তাদের নিজেদের স্বার্থে। আর মা, চাচী,খালা, ফুফু গোত্রের নারীরাও আর কিছু না মানুক, এই ব্যাপার গুলো তে খুবই সোচ্চার। অনেক সময় দেখা যায়, বাবা