প্রতিক্রিয়া Archives - Page 5 of 5 - Women Words

প্রতিক্রিয়া

‘আমার চেনা কিশোরগঞ্জকে আমি আর চিনতে পারছি না’

‘আমার চেনা কিশোরগঞ্জকে আমি আর চিনতে পারছি না’

কৃষ্ণা বসু কিশোরগঞ্জে হামলার খবরটা পেয়ে মনটা খুব বিষণ্ণ হয়ে গিয়েছে। রাতে ঠিক করে ঘুমাতেও পারলাম না। সত্যি কথা বলতে কি, কিশোরগঞ্জের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ কিন্তু আমার খুব একটা নেই। ছোট থেকেই আমি কলকাতায়। মাত্র একবারই গিয়েছি কিশোরগঞ্জে। সেও খুব ছোটবেলায়। সে সময় কিশোরগঞ্জকে কেমন দেখেছি, তা খুব একটা মনেও নেই। কিন্তু কিশোরগঞ্জে না গিয়েও সে শহরের সঙ্গে যোগাযোগ যেটা ছিল, সেটা প্রত্যক্ষ যোগাযোগের চেয়েও অনেক বেশি। কারণ, বাবা আর কাকার মুখে নিরন্তর শুনতাম ওই শহরটার কথা। কলেজ জীবন থেকেই বাবারা কলকাতায়। কিন্তু তখনও কলকাতার ঠাঁইকে বাবারা বাসা বলতেন, আর কিশোরগঞ্জকে বলতেন বাড়ি। পরে পেশার সূত্রে স্থায়ী ভাবে কলকাতায় থাকা শুরু বাবাদের। কিন্তু তাঁদের গল্প-গুজবে, কথাবার্তায় কিশোরগঞ্জ বার বার উঠে আসত। এই ভাবেই ওই শহরটার একটা নিখুঁত ছবি আঁকা হয়ে গিয়েছিল আমার মনে। আমার মনে হত, কিশোরগঞ্জের সব রাস্তাঘাটও আমার চেন
নীলকণ্ঠ হলেন নাজিহ, প্রমাণ করলেন ইসলামের মুখ তিনিই

নীলকণ্ঠ হলেন নাজিহ, প্রমাণ করলেন ইসলামের মুখ তিনিই

গত শুক্রবার ইরাকের শিয়া অধ্যুষিত বালাদ শহরের সাঈদ মোহাম্মদ বিন আলী আল-হাদির মাজারে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) আত্মঘাতী হামলা চালায়। এ ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ৭৪ জন আহত হন। আইএসের দাবি অনুযায়ি পাঁচজন হামলায় অংশ নেয়। পুলিশের পোষাক পরা এক আত্মঘাতি নিজেকে উড়িয়ে দিতে ওই মাজারে ঢুকে। তার তৎপরতা টের পেয়ে যান নাজির শাকের নামে স্থানীয় এক যুবক। তিনি একটুও দেরি করেননি। দৌড়ে গিয়ে মাজারের মূল অংশে ঢোকার প্রবেশ পথে জঙ্গিকে আটকে দেন তিনি। জঙ্গি তার আত্মঘাতী জ্যাকেটে বাঁধা বোমায় বিস্ফোরণ ঘটানোর আগের মুহূর্তে নাজিহ শাকের তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন। এতে জঙ্গির সাথে তিনিও মারা যান। তবে তাতে অন্তত ৩০০ মানুষের জীবন বেঁচে যায় বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। রাতারাতি তিনি বিশ্বব্যাপি পরিচিতি লাভ করেন। তাঁকে নিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকায় লিখেছেন অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় । পাঠকের জন্য তা তুলে ধরা হলো   নাজিহ শাকিরকে আমরা কেউ
পিশাচ খুঁজি, প্রোফাইলে ভাসে একদল হাস্যোজ্জ্বল তরুণ

পিশাচ খুঁজি, প্রোফাইলে ভাসে একদল হাস্যোজ্জ্বল তরুণ

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিন্দার ঝড় অব্যহত রয়েছে। দেশের খ্যাতিমান নাট্যনির্মাতা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীও সেখানে জানিয়েছেন তার প্রতিক্রিয়া। তরুণ প্রজন্ম যাতে আর জঙ্গিবাদের সর্বনাশা পথে পা না রাখে সেই চেষ্টা ফুটে উঠেছে তাঁর লেখায়...   "দেশটা ভারত নিয়ে নিলো? ইসলাম ধর্মকে ধ্বংস করার চক্রান্ত নিয়ে মাঠে নেমেছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ?" (কতিপয় অনলাইন পত্রিকার ভাইদের বোঝার সুবিধার্থে লিখে দিতে হইলো ইহা 'শিরোনাম' যাহা নেওয়া হইয়াছে ব্রেনওয়াশকারীদের কল্পিত সংলাপ থেকে। ) যারা প্রাণ হারিয়েছে তাদের ছবিগুলোর দিকে তাকাতে পারি নাই। এইসব বিকৃত লাশের ছবি দেখার পরও কিভাবে আমরা গাইবো "এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি"? বিদেশীরা যখন জানতে চায় "বাংলাদেশ কি আফগানিস্তান হতে চলেছে', তখন আমাদের গলায় আর ক
সেরা চিকিৎসা, সেবা নয়

সেরা চিকিৎসা, সেবা নয়

আবদুল্লাহ জুবেরী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল! সম্ভবত দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল। হাসপাতাল নিয়ে যাদের ন্যুনতম অভিজ্ঞতা আছে তারা কেউই এখানে চিকিৎসা নিতে আসতে চাইবেন না এখানকার পরিবেশ এবং ক্ষেত্রবিশেষে হয়রানির কারণে। যারা আসেন, তারা নিতান্তই বাধ্য হয়ে আসেন। এবং এই হাসপাতালের বেশিরভাগ রোগীই অন্য হাসপাতাল থেকে রেফার করা। কারণ একটাই - সম্ভবত দেশের সেরা চিকিৎসা এই হাসপাতালেই পাওয়া যায়। আবারও বলি 'চিকিৎসা', সেবা নয়। সেবা নয় কেন? কারন, যে পরিমাণ রোগি প্রতিদিন আসেন সেই তুলনায়, ডাক্তার, নার্স, অন্যান্য কর্মচারী এবং লজিস্টিক্স খুবই সীমিত। আর দুর্নীতি এবং অপরাধের সিন্ডিকেট তো আছেই। এ বিষয়ে আলাদা আলোচনা দাবী করে। চিকিৎসার কথাই আজ বলি। আমার স্ত্রী আর্লি প্রেগ্নেন্সি কমপ্লিকেশন নিয়ে কয়েকজন ডাক্তার দেখান। তাদের দেয়া বিভিন্ন ইনভেস্টিগেশনে তেমন কিছুই ধরা পড়েনি। একদিন প্রচন্ড ব্যথা নিয়ে সে মিরপুরের মেরি স্টোপস
তাদের ইংরেজি জানার পরিধি, ‘থ্যাংক ইউ’ পর্যন্ত

তাদের ইংরেজি জানার পরিধি, ‘থ্যাংক ইউ’ পর্যন্ত

রোমেনা লেইস দেশের বাইরে আছি পাঁচ বছর। বাইরে বলতে মার্কিন মুল্লুকে। ২০১৫ এর শুরুতে হঠাৎই দেশে ফেরার চিন্তা মাথায় ঢুকলো। আমার বড় বোন রোকসানা লেইস, তিনি কানাডার মাটিতে পড়ে আছেন প্রায় ষোল বছর হলো। হঠাৎ নাড়ির টান তাকেও ভুগাতে লাগলো। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তখন ভালো নয়। হরতাল, পেট্রোল বোমা, অভিজিৎ হত্যা সব মিলিয়ে ভীতিকর অবস্থা। শুভাকাঙ্খিদের সবাই মানা করতে লাগলেন। কিন্তু এসব কিছুই আমাদের দমাতে পারল না। সব বাঁধা উপেক্ষা করে আমরা দেশের পথ ধরলাম। প্রথমে আপা দেশে গেলো ।২০ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমীর বইমেলাও যোগ দিলো। আর আমি পরের মাসে অর্থাৎ মার্চে দেশে এলাম। যেদিন দেশের মাটিতে পা রাখলাম সেদিন ছিল হরতাল। বিদেশী পর্যটক লেখা স্টিকার গাড়িতে সাঁটিয়ে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরতে হলো। দেশে তো ফেরা হলো, এখন মন কত কিছু করতে চায়, কত জায়গায় ঘুরতে। কিন্তু পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে সবাই বারন করতে ল
আমার বাবা ও অবুঝ ‘আখদ আলী’

আমার বাবা ও অবুঝ ‘আখদ আলী’

ফাহমিদা খান ঊর্মি এক. আমরা তিনবোন। আমাদের কোন ভাই নেই। কিন্তু তা নিয়ে কোনদিন আক্ষেপ করতে দেখিনি বাবাকে। বরং তিনি সবসময় গর্ব করে বলেন, ‘আমার মেয়েরাই আমার ছেলে।’ আমাকে তিনি তাঁর বড় ছেলে ভাবতে পছন্দ করেন। সেই ছোটবেলা থেকে আমাদেরকে তিনি ‘স্বনির্ভর’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। উদাহরণ দিয়েই বলি, চার বছর আগের ঘটনা। স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে আমার কলেজ আঙ্গিনায় পা রাখার দিন, তারিখটাও বেশ মনে আছে ২০১২ সালের ২ জুলাই। নিজের জেলা শহরের কলেজে আমি রওয়ানা হলাম বাবার হাত ধরে। কিন্তু বাবা আমাকে নিয়ে কলেজ পর্যন্ত গেলেন না। দূর থেকে হাতের আঙুলে দেখিয়ে দিয়ে বললেন, ‘এই যে তোমার কলেজ। যাও।’ এভাবে মাঝ রাস্তায় আমাকে ছেড়ে দিয়ে তিনি যে চলে আসবেন তা আমার ভাবনায় ছিলো না। তিনি আমাকে একা রেখে চলে গেলেন। আমি অবাক হয়ে চেয়ে দেখলাম তাঁর চলে যাওয়া। নতুন এলাকা, নতুন কলেজ। আশেপাশের মুখগুলোও অচেনা। আমার ভীষণ কান্না পেল। ইচ্ছে হ
‘বাতিঘর কোথাও যায়না, একা দাঁড়িয়ে আলো দিয়ে যায়’

‘বাতিঘর কোথাও যায়না, একা দাঁড়িয়ে আলো দিয়ে যায়’

অদিতি দাস যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে গত বছরের ১৭ জানুয়ারি যৌন সহিংসতার শিকার হন এক নারী। সুনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা সাতারু ব্রুক টার্নার ছিলেন এই কলঙ্কিত ঘটনার হোতা। যিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীও বটে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে, তিনি চৈতন্যহীন অবস্থায় ওই নারীকে ধর্ষণ করেছেন। বিচার প্রত্যাশি নারী গত ৪ জুন শনিবার ধর্ষক ব্রুক টার্নারের উদ্দেশ্যে এক দীর্ঘ বিবৃতি আদালতের মাধ্যমে পেশ করেন। সেখানে যৌন সহিংসতার শিকার হওয়া এবং এরপর বিচার চাইতে গিয়ে নিদারুণ এক মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার বর্ণনাও ছিলো। সেদিনই অনলাইনে বিবৃতিটি প্রকাশ হয়। শুধু বাজফিডেই ৪ মিলিয়ন বা ৪০ লাখ পাঠক লেখাটি পড়েন। মর্মস্পর্শী বিবৃতিটি পৃথিবীব্যাপি ঝড় তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। অজ্ঞান ওই নারীকে ধর্ষনের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার ব্রুক টার্নারকে ছয়মাসের কারাদন্ডাদ