নারী, কোথায় তোমার বাড়ি? - Women Words

নারী, কোথায় তোমার বাড়ি?

স্বপ্না দে

তিনি জয়ীতা চৌধুরী। মাথায় কাঁচা পাঁকা চুল, চেহারায় একটা ভারিক্কি ভাব আছে, বয়স মধ্যগগনে। চশমা ছাড়াই দিব্যি চলে যাচ্ছে। এখনো মিছিলের শোরগোল শোনা গেলে শরীর মনে আগুন জ্বলে।

এহেনো মানুষ হঠাৎ করেই একদম দমে গেলেন একটি ফোন কল পেয়ে। উনার স্বামী অনিরুদ্ধ বাবুর উর্দ্ধতন অফিসার ফোন দিয়েছিলেন। চূড়ান্ত দেনাপাওনার চেক টি কার নামে ইস্যু হবে। অনিরুদ্ধ বাবু দীর্ঘদিন থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে শয্যাশায়ী। কর্তৃপক্ষ আর অপেক্ষা করতে পারবেন না, দেনাপাওনা মিটিয়ে নিতে হবে। উনি দু সেকেন্ড ভেবে নিয়ে উত্তর দিলেন, ’যার পাওনা তার নামেই দিয়ে দিন।’

কিছুক্ষন পর আবার ফোন এলো, তিনি তো স্বশরীরে উপস্থিত হতে পারবেন না। এমতাবস্থায় কাকে এড্রেস করা হবে। জয়িতা চৌধুরী জানালেন তাহলে যেনো তার নামেই দিয়ে দেওয়া হয়। বাঁধ সাধলেন অফিসার। একথা সেকথা নানাভাবে বোঝাতে লাগলেন যেহেতু উনাদের সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গিয়েছে সেহেতু পুরো পাওনা উনারা একজনের নামে দিতে পারবেন না। ছেলে সন্তান আইনত বাবার পুরো সম্পদের হকদার! এমতাবস্থায় ছেলের লিখিত অনুমতি লাগবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

হায় হতভাগ্য মা, হায় নীতি নির্ধারনী আইন, এদেশের প্রতি ঘরে ঘরে আশ্রিত অবগুণ্ঠনে ঢাকা পরাশ্রয়ী পতিব্রতা নারী! না নারীকে বিশ্বাস করার উপায় নেই। কেননা তিনি হয়তো অসুস্থ স্বামীকে ফেলে রেখে চলে যেতেই পারেন। কিন্তু সাবালক ছেলে সন্তান বিয়ে করে সংসারী হয়ে বৃদ্ধ অশীতিপর পিতার দেখভালের দায়িত্ব নিবে এতে নিশ্চয়ই কোন সন্দেহের কারণ নেই আশা করি। আমাদের দেশের বৃদ্ধাশ্রম গুলো কেন এবং কি করে দিন দিন ব্যাপ্তি লাভ করছে কর্তৃপক্ষ তলিয়ে দেখবেন সেই আশাও করছি!