অনলাইনে পরিচয়ের পর ধর্ষণ করে খুন করতেন তিনি - Women Words

অনলাইনে পরিচয়ের পর ধর্ষণ করে খুন করতেন তিনি

প্রথমে অনলাইন ডেটিং সাইটে আলাপ। তার পর বন্ধুত্ব। তারপর ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে খুন। এই ভাবে দুই নাবালিকাসহ সাতজন বিদেশি নারীকে খুন করেন তিনি।

জানা গেছে, ২০১৬’র সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮’র অগাস্টের মধ্যে খুনগুলি করে সাইপ্রাসের বাসিন্দা নিকোস মেটাসাস(৩৫)। তিনি দেশটির সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। পরে একাধিক নারীকে খুন করার অপরাধে গত বছর তাকে মোট ১৭৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে দেশটির আদালত।

যদিও প্রথম দিকে ওই নারীদের খুনের কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। গত বছরের ১৪ এপ্রিল মেরি রোজ টিবারসিও (৩৮) নামের ফিলিপিন্সের এক নারীর দেহ একটি তামার খনির কাছের জলাশয়ে ভেসে ওঠে। তার কিছু দিন পরেই আরিয়ান পালানাস লোজানো (২৮) নামের অপর এক নারীর দেহ পাওয়া যায় ওই জলাশয় থেকেই।

তারপর ওই দুই নারীর ব্যাপারে খোঁজ শুরু করে সে দেশের পুলিশ। তাতে দুজনেরই অনলাইন অ্যাকাউন্টে নিকোসে সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ মেলে। নিকোসের সঙ্গে ওই নারীদের হওয়া কথাবার্তা দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের।

এরপর সন্দেহভাজন হিসাবে নিকোসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুরু হয় তদন্ত। মারিকার ভালতেজ আরকুইলা নামের ৩১ বছরের ফিলিপিন্সের এক নারী ২০১৭ সাল থেকে নিঁখোজ ছিলেন। নিকোসকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাঁর দেহ সেনাবাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জের একটি কুয়ো থেকে উদ্ধার করে।

এরপর একে একে বাকি নারীদের মৃত্যুর কথাও জানতে পারে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় একাধিক দেহ। সেইসঙ্গে খুন করা এসব নারীদের কিভাবে ফাঁদে ফেলতেন তাও জানতে পারে পুলিশ।

জানা গেছে, প্রথমে একটি ডেটিং সাইটের মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে আলাপ জমাতো নিকোস। তার পর একটু বন্ধুত্ব গাঢ় হলেই শারীরিক সম্পর্কের জন্য আমন্ত্রণ জানাত। তাতে রাজি হলেই আটকে রেখে চালাতো ধর্ষণ। তার পর গলা টিপে বা মাথায় আঘাত করে মেরে ফেলতেন নিকোস।

আর এ খুনের অপরাধে নিজের পদও হারালেন এই এই সিরিয়াল কিলার। ইতিমধ্যেই নিকোসকে সেনাবাহিনীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।