হুসনাকে সেইফহোমে নেওয়া হয়েছে - Women Words

হুসনাকে সেইফহোমে নেওয়া হয়েছে

ভিডিও বার্তায় সৌদি আরব থেকে দেশে আসতে আকুতি জানানোর পর নারী গৃহকর্মী হুসনাকে পুলিশের নজরদারিতে সেইফহোমে নেয়া হয়েছে। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল শ্রম কল্যাণ উইং এর প্রথম সচিব কেএম সালাউদ্দিনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবে কর্মরত নারী গৃহকর্মী হুসনাকে উদ্ধারের জন্য কনসুলেট তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। নাজরান পুলিশকে ঘটনাটি অবহিত করা হয়েছে। কনস্যুলেটের প্রতিনিধিও সৌদি এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। হুসনা পুলিশের নজরদারিতে সেইফহোমে আছেন বলে ওই এজেন্সি জানিয়েছে। কনস্যুলেট প্রতিনিধিও হুসনার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

গৃহকর্মী হুসনা আক্তার (২৪) হবিগঞ্জের বাড়ি আজমিরীগঞ্জ উপজেলার আনন্দপুর গ্রামে। গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে ৭ নভেম্বর ‘আরব ওয়ার্ল্ড ডিস্টিভিউশন’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যান তিনি। সেখানে গৃহকর্তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কয়েক দিন আগে স্বামী শফিউল্লার কাছে ওই ভিডিওবার্তা পাঠান তিনি।

পরে বার্তাটি পাওয়ার পর হুসনার স্বামী ‘আরব ওর্য়াল্ড ডিস্টিভিউশন’ এজেন্সিতে গিয়ে এসব কথা জানালে এজেন্সির সংশ্লিষ্টরা তার কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেন এবং হুসনা সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। কোনো উপায় না পেয়ে স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য তিনি ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করান।

হুসনার পরিবার জানায়, বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় বাবা-মাকে আর্থিক সহযোগিতা করার জন্য সৌদি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন হুসনা। প্রায় ২০ দিন আগে হবিগঞ্জের শাহিন নামের একজন দালাল ‘আরব ওর্য়াল্ড ডিস্টিভিউশন’-এর মাধ্যমে গৃহকর্মী হিসেবে তাকে সৌদিতে পাঠায়। এজেন্সি থেকে বলা হয়, বাসা-বাড়ির কাজ করতে হবে। এজন্য তাকে ২২ হাজার টাকা বেতন দেয়া হবে। কিন্তু সৌদি গিয়ে কাজে যোগদানের পরই স্বপ্ন ভেঙে যায় হুসনার। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও গৃহকর্তার নির্যাতনে শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।