ফেসবুকে প্রেম : প্রেমিকার গয়না নিয়ে চম্পট | | Women Words

ফেসবুকে প্রেম : প্রেমিকার গয়না নিয়ে চম্পট

পুলিশ পরিচয়ে ছুটিয়ে প্রেম করছেন। লেকটাউনের সেই নারীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের পর যে দিন প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে যান প্রেমিক, সেই দিন মাঝপথে ওই নারীকে রেখে তাঁর গয়না নিয়ে চম্পট দেয় সে। সৌমিত্র মণ্ডল নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

পুলিশের জেরার মুখে উঠে এসেছে দুলাল হালদার নামে তার এক সঙ্গীর নাম। তাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার হয়েছে খোয়া যাওয়া জিনিসপত্রও।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত আগস্ট মাসে ফেসবুকে লেকটাউনের বাসিন্দা এক গৃহবধূর সঙ্গে আলাপ হয় সন্দেশখালির বাসিন্দা সৌমিত্র মণ্ডলের। নিজেকে পুলিশ বলে পরিচয় দেয় সৌমিত্র।

অন্য দিকে, ওই নারীর একটি মেয়ে রয়েছে। বন্ধুত্ব থেকে ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে দু’জনের। এরপর গত অক্টোবর মাসে ওই নারীকে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন সৌমিত্র। তাতে রাজিও হয়ে যান তিনি।

এরপর শুরু হয় পালানোর ছক কষা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নারীকে সোনাদানা ও টাকাপয়সা নিয়ে আসতে বলেন সৌমিত্র। সেই মতো সপ্তাহ দুয়েক আগে একদিন সকালে মহিলার স্বামী যখন মেয়েকে স্কুলে দিতে যান, সেই ফাঁকে সৌমিত্রের মোটরবাইকে চড়ে পালিয়ে যান তিনি। বাইপাসের আনন্দপুরের কাছে এসে সৌমিত্রের ফোনে একটি কল আসে। তখন সৌমিত্র তাকে নানা অজুহাতে আনন্দপুরে দাঁড় করিয়ে রেখে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে আসার কথা বলে। তিনি যেহেতু পালিয়ে এসেছিলেন বাড়ি থেকে, তাই সৌমিত্রর কথামতো মোবাইলও বন্ধ করে তার কাছে দেন।

আনন্দপুরে সে নারীকে রেখে সৌমিত্র যে গিয়েছিল, তারপর আর ফেরেনি। তারপর দীর্ঘক্ষণ ওই এলাকায় ইতস্তত ঘুরতে দেখে তাকে উদ্ধার করা হলে পুলিশের কাছে সব কথা খুলে বলেন তিনি। এ নিয়ে গত ১৬ নভেম্বর লেকটাউন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই নারী। তারপরেই পুলিশ সৌমিত্রর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে।

শেষ পর্যন্ত পুলিশ সাফল্য পায় ২৫ নভেম্বর। ওই দিন সৌমিত্রকে গ্রেপ্তারের পর বিধাননগর আদালতে তোলা হয়। আদালত সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদেই ফাঁস হয় গোটা ঘটনার। সৌমিত্রের সঙ্গী দুলালকেও ধরে পুলিশ। দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর উদ্ধার হয়েছে খোয়া যাওয়া সোনার গয়নাগাঁটিও।

পুলিশ খতিয়ে দেখছে, এটাই প্রথম ঘটনা ঘটিয়েছে সৌমিত্র-দুলাল, নাকি আগেও তাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের কোনও অভিযোগের নজির রয়েছে।