স্বামীর সঙ্গে মীমাংসার কথা বলে গৃহবধূকে 'গণধর্ষণ' | | Women Words

স্বামীর সঙ্গে মীমাংসার কথা বলে গৃহবধূকে ‘গণধর্ষণ’

যৌতুকের জন্য নির্যাতিত এক গৃহবধূকে স্বামীর সঙ্গে ‘ঝামেলা মিটিয়ে’ দেওয়ার কথা বলে দুইজন মিলে ‘ধর্ষণ’ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার ঢাকার ধামরাই উপজেলার চাপিল গ্রামের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে থানায় একটি গণধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

গতকাল রবিবার সকালে ওই গৃহবধূকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের চাপিল গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে তিন বছর আগে ওই গৃহবধূর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য তাকে মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে বাবার বাড়িতে চলে যায়।

গতকাল শনিবার বিকেলে শিউলী তার স্বামীর বাড়িতে আবার ফিরে এসে দেখে তার ঘরে তালা ঝুলছে। এ সময় শ্বাশুড়ির কাছে চাবি চাইলে তিনি চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। সন্ধ্যার দিকে মালঞ্চ গ্রামের আব্দুল আলীর ছেলে তোফাজ্বল হোসেন (৪০) ও পথহারা গ্রামের এরশাদ (৩০) ওই গৃহবধূকে জানায় তার স্বামী নাছিম মেম্বারের বাড়িতে রয়েছে। এ সময় স্বামীর সঙ্গে তারা ঝামেলা মিটিয়ে দেবে বলে ওই গৃহবধূকে তাদের সঙ্গে মেম্বারের বাড়িতে যেতে বলে।

তাদের কথা মতো ওই গৃহবধূ তোফাজ্বল ও এরশাদের সঙ্গে মেম্বারের বাড়িতে যাওয়ার জন্য রওনা দেয়। কৌশলে তারা ওই গৃহবধূকে নিয়ে চকের মাঝপথ দিয়ে রওনা দেয়। চকের মধ্যে নির্জন একটি কলাবাগানের কাছে আসতেই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে তারা।

পরে ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় একটি গণধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ তার ওপর অমানুষিক নির্যাতনের বিচার চান।

এ প্রসঙ্গে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিপক চন্দ্র সাহা দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘ভিকটিমকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।’