মেরী দেনিসকে লেখা সিমোন দ্য বোভোয়ার-এর তিনটি চিঠি | | Women Words

মেরী দেনিসকে লেখা সিমোন দ্য বোভোয়ার-এর তিনটি চিঠি

.

ফরাসী থেকে ভাষান্তর: অদিতি ফাল্গুনী

মেরী দেনিস ১৯২০ সালে বেলজিয়ামে জন্মগ্রহণ করেন। অনুজ এই নারী ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিককে সিমোন দ্য বোভোয়ার (জন্ম: ১৯০৮) মোট চব্বিশটি মিতায়তন বা সংক্ষিপ্ত চিঠি লেখেন যার পাঁচ/ছয়টি চিঠি অন্তর্জালে পাওয়া যায়। সেখান থেকেই তিনটি চিঠি উইমেন ওয়ার্ডস-এর পাঠকদের জন্য অনুবাদ ও প্রকাশ করা হলো। খুব সংক্ষিপ্ত এই তিনটি চিঠিতেও অনুজ লেখকদের প্রতি ব্যক্তি সিমোনের সহৃদয়তা, সৌজন্য ও অগ্রজ লেখকের দায়িত্বসুলভ পরামর্শ প্রদানের বিষয়টি আমাদের চোখে ধরা পড়ে:

২৮ অক্টোবর ১৯৬৩

মাদাম,

আপনার সদয় ও সহৃদয় চিঠির জন্য ধন্যবাদ। এবং আমার প্রতি আপনার বিশ্বাস স্থাপনের জন্যও ধন্যবাদ। আমাকে পাঠানো আপনার দু’টো ছোটগল্পই আগ্রহ ও আনন্দের সাথে পড়লাম। বিশেষত: আপনার এক মাসী তাঁর জীবনে যা কিছু করেছেন বা তাঁর জীবন সংগ্রাম নিয়ে লেখা গল্পটি আমার খুবই ভাল লেগেছে। সেই বিবরণ সত্যিই বড় সূক্ষ্ম, আপনাকে যা কিছু স্পর্শ করছে বা প্রভাবিত করছে সেই সব বিষয় দিয়ে পাঠককে জোর করে প্রভাবিত করার কোন ইচ্ছে যেন আপনার নেই। বরং আপনার গল্পে আপনি যেন নিজের কাছে বা নিজের ভেতরেই এক যাত্রা সম্পন্ন করেছেন, সে আপনার রচনাশৈলীর কল্যাণেই বটে, আপনার আছে ভারি সূক্ষ্ম সংবেদনশীলতা: আপনার লেখার আকাঙ্খা মোটেই অসঙ্গত নয়। আর একটু জোর দিন, যা বলতে চান তা’ হৃদয়ের সবটুকু জোর দিয়ে বলুন, নয়তো তা’অন্যকে স্পর্শ করবে না। আপনি কি বলতে চান এবং কিভাবে বলতে চান সেটা নিয়ে গভীর ভাবে ভাবুন। এবং খাটুন। এবং আমাকে আরো অন্য লেখা পাঠান।

আমার সহৃদয়তা রইলো।

সিমোন দ্য বোভোয়ার।

১৬ ডিসেম্বর ১৯৬৩

মাদাম,

আপনার সমবেদনার জন্য ধন্যবাদ; যেভাবে আপনি আমার কাছে আপনার সমবেদনা প্রকাশ করেছেন তা’ যথার্থ আমাকে ছুঁয়েছে। আমি আপনার কবিতা সত্যিই ভালবাসি- ভালবাসি তাদের নিজস্বতা ও আবেগকে। আরো নতুন কবিতা লিখলেন কী? আমার মা’র খুব একটা মরার ইচ্ছা ছিল না, আমি ও আমার বোন গত একমাস তাঁকে জানতে দিই না যে তাঁর ক্যান্সার হয়েছে। আমরা মা’র কাছে তাঁর অসুখের কথা গোপন রাখতে সফল হয়েছিলাম। তাই কোন যন্ত্রণা বা উদ্বেগ ছাড়াই খুব শান্তভাবে তিনি এই জীবনের মায়া পরিত্যাগ করে চলে গেলেন যে জীবনকে তিনি এত ভালভাবে জানতেন! আপনাকে এসবই বলছি আমাদের বন্ধুত্বের স্বাক্ষ্য হিসেবে।

আপনাকে আবারও ধন্যবাদ জানাতে চাই।

সিমোন দ্য বোভোয়ার। 

(মেরি দেনিসের পার্শ্বটীকা: সিমোন দ্য বোভোয়ার এর মায়ের মৃত্যুর পর আমি তাঁকে মৃত্যু বিষয়ক খুব কোমল চরিত্রের একটি কবিতা পাঠিয়েছিলাম। কবিতাটির নাম ছিল : ‘যদি তুমি মরে যাও!

৯ মার্চ ১৯৬৪

মাদাম,

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ এবং আরো ধন্যবাদ যে আস্থার সাথে আপনি আমার সাথে কথা বলেছেন তার জন্যও। বিশেষত: আপনার চিঠির এই প পংক্তিটির জন্য সত্যিই আপনার ধন্যবাদ প্রাপ্য: ‘জাঁ পল সার্ত্রের সাথে মত বিনিময় করতে পেরে আমার দারুণ লেগেছে।’

আপনার শেষ লেখা যেটা পাঠিয়েছেন সেখানে এখানে ওখানে কিছু বিমূর্ত বাক্যবন্ধ একটু বদলাতে হবে; তবে আমি আপনার লেখার প্রকরণ, আঙ্গিক ও আবহ পছন্দ করি। এটা কি কোন উপন্যাসের শুরু? নাকি একটি ছোটগল্প? আপনার পৃষ্ঠাসংখ্যা পর্যাপ্ত। তবে, এটি একটি ছোটগল্প হয়ে থাকলে নতুন করে লিখুন। আপনি ত’ জানেন যে আমি লেখা বিচারের ক্ষেত্রে খুবই কঠোর এবং দশজনে ন’জনের লেখা চিঠি-পত্রেরই না আমি উত্তর দিই বা পাল্টা কোন জবাব লিখি।

আপনার সামনের কাজের বিষয়েও অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব আমাকে জানাবেন।

গভীর অন্তরঙ্গতায় শেষ করছি।

সিমোন দ্য বোভোয়ার ।

(মেরী দেনিসের পার্শ্বটীকা: সিমোন দ্য বোভোয়ার এখানে যে লেখাটির কথা উল্লেখ করেছেন তা’ একটি উপন্যাসের শুরু যা পরে আর আমার লেখা হয়নি। তবে সিমোন দ্য বোভোয়ার আমাকে উপন্যাসটি লিখতে অনেক আগ্রহ যুগিয়েছেন ও কাজটির অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইতেন)।