'মীতৈ চনু' মুকুট জিতলেন বাংলাদেশের মেয়ে | | Women Words

‘মীতৈ চনু’ মুকুট জিতলেন বাংলাদেশের মেয়ে

মীতৈ চনু মানে মণিপুরি কন্যা। গত চার বছর ধরে ভারতের মণিপুর রাজ্যে আয়োজন হচ্ছে ‘মীতৈ চনু প্রতিযোগিতা। মণিপুর রাজ্যে লাইনিংথৌ সনামহি সনাপুং মনিপুর এর আয়োজনে চতুর্থবারের মত মীতৈ চনু-২০১৯ প্রতিযোগীতার শিরোপা জিতলেন বাংলাদেশের মেয়ে লৈফ্রাকপম সুচনা চনু।

লৈফ্রাকপম সুচনা চনু কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের তেতইগাঁও গ্রামের সমাজসেবক ও কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা লৈফ্রাকপম ইবুংহল সিংহ শ্যামল ও ছনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কুঞ্জ রানী সিনহার কন্যা। তিনি সিলেটের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর সুচনা ভারতের মণিপুর রাজ্যে লাইনিংথৌ সনামহি সনাপুং এর আয়োজনে ৪র্থতম “মীতৈ চনু-২০১৯” (মণিপুরি কন্যা) প্রতিযোগীতায় বাংলাদেশী মনিপুরিদের প্রথম ও একমাত্র প্রতিযোগী হিসেবে অংশ গ্রহণ করেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রথম অডিশনে ত্রিশ জন নির্বাচিত হয়। প্রায় মাসব্যাপী চলন্ত প্রতিযোগীতার ফাইনাল গত ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়।

সেই প্রতিযোগীতায় ভারতের আসাম, ত্রিপুরাসহ মনিপুরের অংশগ্রহণকৃত বহু প্রতিযোগীদের পিছনে ফেলে বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র প্রতিযোগী লৈফ্রাকপম সুচনা চনু “মীতৈ চনু-২০১৯” বিজয় মুকুট অর্জন করে। তার এ বিজয় বাংলাদেশ মনিপুরিদের জন্য স্বর্ণখচিত গৌরবময় ঐতিহাসিক বিজয়।

মনিপুরে বাংলাদেশে বসবাসকারী মনিপুরীদের সম্মান ও পরিচয় সমুন্নত করার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কারণ “মীতৈ চনু-২০১৯” প্রতিযোগীতা শুধুমাত্র সুন্দরী প্রতিযোগীতা নয়, এ প্রতিযোগীতায় প্রতিযোগীকে একজন মনিপুরী নারী, সংসার জীবন, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে মনিপুরিদের প্রচলিত সকল জাতিগত প্রথার গুণ সম্বলিত হয়।
সবদিক দিয়ে সেরা বিবেচিত হয়ে সেরা প্রতিযোগী নির্ধারিত হয়। সাথে সাথে তার বক্তব্য উপস্থাপনের মার্জিত ভাষা, শিষ্টাচার, চলার ভঙ্গি, জাতিত্বের মার্জিত পোষাক, গৃহস্থালির কাজ, জাতির প্রতি ভালবাসা, দৈহিক গঠন, কথা ভঙ্গি, চুল, মেধা (আইকিউ) সবকিছুই যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হলে সুচনাকে সেরা খেতাব ও বিজয় মুকুট অর্জন পরিয়ে দেয়া হয়।
সাথে ভারতীয় ১ লক্ষ টাকার প্রাইজমানি ও ট্রফি, দূর থেকে যাওয়ার কারণে ১০ হাজার টাকা ও ট্রফি এবং সনদপত্র প্রদানসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

এবিষয়ে লৈফ্রাকপম সুচনা চনু বলেন, “আমি আনন্দিত। আমার এই অর্জনে পিতা-মাতাসহ সকলেই সহযোগিতা করেছেন। সকলের আশির্বাদ ও দোয়া কামনা করছি”।