‘বছরে ৭ হাজার নারীর মৃত্যু হয় স্তন ক্যান্সারে’ - Women Words

‘বছরে ৭ হাজার নারীর মৃত্যু হয় স্তন ক্যান্সারে’

দেশে প্রতিবছর ১২ হাজারের বেশি নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। যাদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার রোগীই মারা যান। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এ রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এ রোগের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে সবার আগে আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। স্তন ক্যান্সার বিষয়ক এক হেল্থ ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র (ডিআরইউ) নারী সদস্য ও পরিবারের জন্য আজ শুক্রবার দিনব্যাপী এ স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং হেল্থ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিআরইউ সাগর-রুনী মিলনায়তনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই ক্যাম্প চলে। জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ইপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের নেতৃত্বে নারী চিকিৎসক দল ক্যাম্পে অংশ নেন।

হেল্থ ক্যাম্প চলাকালে বেলা ১১টায় স্তন ক্যান্সার বিষয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা অনুষ্ঠিত হয়। ডিআরইউ সভাপতি ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

ডিআরইউ কল্যাণ সম্পাদক কাওসার আজমের সঞ্চালনায় হেল্থ ক্যাম্পে মূল আলোচক ছিলেন অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এনামুর রহমান বলেন, দেশে স্তন ক্যান্সারের ব্যাপকতা ‍রুখতে জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। প্রাথমিক অবস্থায় এটা নির্ণয়ের জন্য স্ক্রিনিং কর্মসূচি জনগণের নাগালের মধ্যে নেয়া প্রয়োজন। সরকার ইতিমধ্যে ৮টি বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২৩শ’ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নতুন ক্যান্সার কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসার পাশাপাশি সচেতনতা ও স্ক্রিনিং মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে।

ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও নারীদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিবছর বাংলাদেশে সাড়ে ১২ হাজারের বেশি নারী আক্রান্ত হন এই রোগে। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার রোগীই মারা যান। দেরীতে রোগ ধরা পড়া, সঠিক ও পুরো চিকিৎসা না নেওয়া বা সুযোগ না থাকা, চিকিৎসা-পরবর্তী ফলোআপ না হওয়া স্তন ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, স্তন ক্যান্সার হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী হচ্ছে সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো। তাই সন্তানকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য সকল মায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ডা. রাসকিন বলেন, নিঃসন্তান নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া বেশি বয়সে সন্তান, ৩০ বছর বয়সের পর বিয়ে ও প্রথম সন্তানের মা হওয়া স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। শাকসবজি ও ফলমূল না খেয়ে চর্বি ও প্রাণীজ আমিষ জাতীয় খাবার বেশি খেলে স্তন ক্যান্সার বেশি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

রাজধানীর লালমাটিয়ায় ‘কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টারে (৭/৯ বি ব্লক) শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা ও অন্যান্য দিন বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ডিআরইউ সদস্য ও পরিবার চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।

রেডিয়্যান্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটিডে ও কমিউনিটি অনকোলজি ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর সহায়তায় এই হেল্থ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সারিয়া তাসনিম, সার্জিক্যাল অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামান, ডিআরইউ’র অর্থ সম্পাদক জিয়াউল হক সবুজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল বারী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক এমদাদুল হক খান, আপ্যায়ন সম্পাদক এইচ এম আকতার, কার্যনির্বাহী সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ, মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন ও রাশেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।