বাঁধা পেরিয়ে শান্তনার কৃতিত্ব - Women Words

বাঁধা পেরিয়ে শান্তনার কৃতিত্ব

বাবার অসুস্থতা, ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ, অভাবের সংসার সবকিছু মিলিয়ে মেধাবী মেয়েটি একদিন পোশাক কারখানায় চাকরির সন্ধানে চলে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষকদের প্রেরণা, নিজের অদম্য ইচ্ছা আর সকলের সহযোগিতায় তিনি এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়টির ভর্তি পরীক্ষায় ‘খ’ ইউনিটে তিনি ৮৫০তম স্থান অর্জন করেছেন।

তিনি নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের সাতগাঁও গ্রামের অদম্য মেধাবী শান্তনা রানী সরকার। নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার আদর্শনগরের শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় থেকে এবার মানবিক বিভাগে জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন।

ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা করতে হয়েছে শান্তনা রানী সরকারকে। এসএসসি পরীক্ষার আগে শান্তনার কৃষক বাবা সজল সরকার প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তখন শান্তনার চোখে ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। বাধ্য হয়েই তিনি টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা ও সংসার চালাতে শুরু করেন। সেইসঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া ছোট ভাইটির পড়াশোনাও চালিয়ে নেন। কিন্তু এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় অভাবের সংসার যখন কিছুতেই চলছিল না, তখন বড় ভাইয়ের মতো তিনিও পোশাক কারখানায় চাকরি করার সিদ্ধান্ত নেন। সে সময় শিক্ষকদের প্রেরণা ও সকলের সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকেন শান্তনা। তার এই অদম্য চেষ্টার সফলতা আসে এইচএসসি পরীক্ষায় শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় থেকে জিপিএ ফাইভ পাওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্যে দিয়ে তিনি তার স্বপ্নের আরও একধাপ এগিয়ে গেছেন।

শান্তনা সরকার জানান, তিনি ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করতে চান। তার স্বপ্ন পড়াশোনা শেষ করে বিসিএস দিয়ে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি করা। শুধু নিজের সংসারের অভাব ঘোচানোই নয়, দেশ ও সমাজের জন্য তিনি কিছু করতে চান।

তিনি বলেন, আমার এই সাফল্যের জন্য আমি আমার পরিবার, কলেজের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের একান্ত চেষ্টাতেই এতোটা পথ পাড়ি দিতে পেরেছি।

সেইসঙ্গে তিনি শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘স্যার আমাদের এই হাওরাঞ্চলে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করার জন্যই এলাকার সুযোগবঞ্চিত মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারছে। উনার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

শান্তনা রানী সরকারের এই সাফল্যে তার কলেজের শিক্ষক, প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন সবাই খুশি। তারা সকলেই আশীর্বাদ করেন শান্তনা যেন তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। সূত্র : আরটিভি অনলাইন