পূজো হচ্ছে না শুনে উদ্যোগী হলেন নারীরাই - Women Words

পূজো হচ্ছে না শুনে উদ্যোগী হলেন নারীরাই

সুনামগঞ্জ জেলায়  এবার সবমিলিয়ে ৪১০টি মণ্ডপে শারদীয় দূর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তার মধ্যে একটু ব্যতিক্রম বলা চলে জেলার শ্রী শ্রী কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি নাট মন্দিরের পূজা। কারণ কেবলমাত্র নারীদের ব্যবস্থাপনায় জেলার প্রথম পূজা  অনুষ্ঠিত হচ্ছে এখানে। দুর্গা পূজার আয়োজক সংগঠনের নাম ‘শ্রী শ্রী সার্বজনীন ভ্রাতৃ সংঘ পূজা কমিটি’ হলেও পরিচালনা করছেন নারীরাই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কালীবাড়ি নাট মন্দিরের পূজাই নারীদের ব্যবস্থাপনায় জেলার প্রথম পূজা।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট বিমান কান্তি রায় বলেন, ‘আমার জানা মতে নারীদের আয়োজনে সুনামগঞ্জে এটাই প্রথম দুর্গাপূজা। আমরা তাদেরকে সব সময় উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে উৎসাহ দিচ্ছেন ও সহযোগিতা করছেন।’

পূজা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, উৎসবমুখর পরিবেশেই তারা দুর্গাপূজা করছেন। নারীরা পূজার সকল আয়োজন করলেও পাড়ার পুরুষরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করছেন। আর্থিকসহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুটের স্ত্রী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুসনা হুদা ও পৌর মেয়র নাদের বখতের স্ত্রী ফেরদৌস আরা বখত ঝরনাসহ আরও অনেকে নারী। সহযোগিতা করেছেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপলও।

পূজার আয়োজকরা জানান, কালীবাড়ি নাট মন্দিরে প্রতি বছর পাড়ার পুরুষরাই দুর্গাপূজা করে আসছেন। তবে পাড়ার কিশোর-যুবকরা লেখাপড়াসহ নানা কাজে বাহিরে থাকায় এবার পূজা হবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কা ছিল। ‘পূজা হবে না’ বিষয়টি শুনে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিকালে কালীবাড়ি নাট মন্দিরে বসেন মন্দিরের আশপাশের নারী। ওই দিনের সভায় ৪১জন নারী উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত নারীরা সিদ্ধান্ত নেন সার্বজনীন ভ্রাতৃ সংঘ পূজা কমিটির নামেই দুর্গাপূজা করবেন তারা। সভায় পৌর মেয়র নাদের বখতের স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। এরপর নিজেরাই অর্থ সংগ্রহ ও চাঁদা তোলে পূজার কাজ শুরু করেন। তবে অন্যান্য মন্দিরের কিছু পরে কাজ শুরু করায় তারা সিলেট থেকে ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে মাটির তৈরি প্রতিমা সংগ্রহ করেন ও পূজার পুরোহিত সিলেট থেকে এনেছেন।

পূজা কমিটির সভাপতি চঞ্চলা দে ও সাধারণ সম্পাদক শিউলী রানী পাল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কালীবাড়িতে দুর্গাপূজা হচ্ছে। পাড়ার সবাই মিলেমিশে এই পূজাটি করেন। কিন্তু হঠাৎ করে আমরা শুনি অধিকাংশ ছেলেরা শহরের বাইরে থাকায় পূজা নাকি হবে না। তাই আমরা পাড়ার নারীরা একদিন মন্দিরে বসি। উপস্থিত সবাই পূজা করার জন্য একমত পোষণ করেন ও উৎসাহ দেন। এর পরপরই আমরা আগের পূজা কমিটির নামেই পূজার আয়োজন শুরু করি। আগের পূজা কমিটিসহ পাড়ার সবাই আমাদেরকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।’

সার্বজনীন ভ্রাতৃ সংঘ পূজা কমিটির গেল বারের সাধারণ সম্পাদক আশিষ কান্তি দাস বলেন, ‘এবার পাড়ার নারীরা দুর্গাপূজা করতে আগ্রহী হয়েছেন। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে তাদেরকে সবধরনের সহযোগিতা করছি।’ সূত্র : সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর