শিক্ষকের যৌন হয়রানির জেরে জাবি ছাত্রীর আত্মহনন চেষ্টা - Women Words

শিক্ষকের যৌন হয়রানির জেরে জাবি ছাত্রীর আত্মহনন চেষ্টা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার বিভাগের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন ওই ছাত্রী। যৌন হয়রানির বিচার দাবি করে বিভাগের সভাপতি বরাবর একটি অভিযোগপত্রও দিয়েছেন তিনি। অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সানওয়ার সিরাজের বক্তব্য বারবার চেষ্টা করেও জানা যায়নি।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ওই ছাত্রী যৌন হয়রানির বিচার চেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। তিনি তা গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলে পাঠিয়েছেন।

এ ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদা আখতারকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলের প্রধান অধ্যাপক রাশেদা আখতার বলেন, তিনি অভিযোগপত্রটি পেয়েছেন। তারা সব ধরনের নথিপত্র তৈরি করেছেন। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ওই ছাত্রী ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তার সহপাঠীরা বলেন, পরে তাকে সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তিনি একদিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।

লিখিত অভিযোগপত্রে ওই ছাত্রী বলেন, ‘আমি তৃতীয় বর্ষে সানওয়ার সিরাজের কোর্সে কম নম্বর পাই। ফলে আমি ওই কোর্স মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিতে চাই। আর এ জন্যই আমি সানওয়ার সিরাজের শরণাপন্ন হই। এ সময় তিনি আমার মোবাইল ফোন নম্বর নিয়ে রাখেন। তিনি আমাকে বলেন, যে কোনো কারণে যেন যোগাযোগ করি। পরীক্ষার দিন (গত বছরের ১২ মার্চ) তিনি ফোন করেন। পরীক্ষা কেমন হলো জানতে চান। পরে ওই রাতেই তিনি ফেসবুক মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করেন এবং আমার সঙ্গে ঘোরাফেরা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এ সময় ওই শিক্ষক বলেন, আমার প্রতি তীব্র শারীরিক আকর্ষণ বোধ করেন, আমার সঙ্গে সময় কাটাতে চান, ঘুরতে চান।’ তিনি জানান, ধারাবাহিকভাবে সিরাজের এমন আচরণে চরম বিব্রত হয়ে ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাক্টিভ রাখতেন। তবে তিনি নিয়মিত তাকে উত্ত্যক্ত করে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।

ওই ছাত্রী বলেন, ‘পরে তিনি আমাকে আবারও কল দিয়ে ড্রেস গিফট করা, ঢাকা এবং সাভারের রেস্টুরেন্টে খাওয়া, রাতে একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া এবং স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার বাসায় রাত যাপন করার প্রস্তাব দেন। এ সময় তিনি আরও কিছু অশালীন কথাবার্তা ও কুপ্রস্তাব দেন।’

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, পরে সিরাজের যৌন নিপীড়নমূলক কথাবার্তা, ফোনকল রেকর্ড ও মেসেঞ্জারে চ্যাটের প্রমাণ বিভাগের তৎকালীন সভাপতি শামসুন্নাহার খানমের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি। তবে তা শুনে শামসুন্নাহার তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন এবং বলেন যাতে বিভাগে লিখিত অভিযোগ না দিই। একপর্যায়ে তিনি এসব ভুলে গিয়ে ওই ছাত্রীকে ক্যারিয়ারের দিকে নজর দিতে বলেন। কিন্তু বিষয়টি তিনি শিক্ষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেন।

এ অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক শামসুন্নাহার বলেন, ‘ওই ছাত্রী যা বলছে তা মিথ্যা, বানোয়াট।’

অভিযোগপত্রে ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেলের প্রধান অধ্যাপক রাশেদা আখতারের বিষয়ে বলেন, ‘আমার তিক্ত অভিজ্ঞতাপ্রসূত কারণে আমি নিশ্চিত যে, তিনি ওই কমিটির প্রধান থাকলে এ ধরনের নিপীড়নকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করবেন। অভিযোগকারী হিসেবে আমি সুবিচার পাব না।’

অনাস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক রাশেদা বলেন, ‘এটা তার ধারণাপ্রসূত বিষয়। এ কমিটিতে শুধু আমি নই, আরও ছয় সদস্য আছেন। সবার তদন্তের মাধ্যমে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে।’ এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সিরাজের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল ফোন নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে। সূত্র : সমকাল