একাত্তর প্রসঙ্গে অরুন্ধতীকে একহাত নিলেন তসলিমা | | Women Words

একাত্তর প্রসঙ্গে অরুন্ধতীকে একহাত নিলেন তসলিমা

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানের চলমান যুদ্ধবস্থার মাঝে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন প্রখ্যাত ভারতীয় লেখিকা অরুন্ধতী রায়। হুট করেই গত পরশু থেকে ৯ বছর আগের এক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল সাইটে। সেই ভিডিওতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ‘প্রশংসা’ করতে শোনা যায় অরুন্ধতীকে। একাত্তরে পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করা স্বাধীন বাংলাদেশও জড়িয়ে পড়ে অরুন্ধতীর এই ভিডিও বিতর্কে।

২০১১ সালের এক আলোচনায় অরুন্ধতী বলেছিলেন, ‘ভারত তার দেশের দক্ষিণ পূর্ব, তেলেঙ্গানা, গোয়া এবং কাশ্মীরে যেভাবে সেনাবাহিনী নামিয়েছে, পাকিস্তান তার সেনাবাহিনীকে এভাবে জনগণের বিরুদ্ধে নামায়নি।’ কিন্তু ১৯৭১ সালে বাঙালিদের ওপর যে ভয়াবহ গণহত্যা চালিয়েছিল তখনকার অবিভক্ত পাকিস্তান সরকার; অরুন্ধতী সেটা এড়িয়ে যাওয়ায় দুই বাংলায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

এ প্রসঙ্গে বুকারজয়ী এই ভারতীয় লেখক বলেছেন, তার ৯ বছর আগের এক সাক্ষাৎকারের এক ভিডিও ক্লিপ থেকে যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে সেজন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। আসলে মূল ভিডিও থেকে ১ মিনিট ২২ সেকেন্ডের একটি ক্লিপ উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অরুন্ধতী বলেন, তিনি ওই ভিডিওর ২৯ মিনিট ৩০ সেকেণ্ড বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার কথা উল্লেখ করে ভারতীয় মাওবাদীদের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘কৌশলগত কারণে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার প্রশ্নে তারা নীরব।’

এদিকে অরুন্ধতী রায় ক্ষমা চাওয়ার পর তাকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে বিদ্রুপাত্মক স্ট্যাটাস দিয়েছেন আরেক প্রখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি লিখেছেন, ‘অরুন্ধতী তো মাপ চাইলো। ২০১১ সালে পাকিস্তানী আর্মির গীত গাইছিল। ওরা নাকি দেশের কাউরে আক্রমণ করে না, ভারতের আর্মি করে। পূর্ব পাকিস্তানের ৩০ লাখ বাংগালিরে তো ১৯৭১ সালে পাক আর্মি ভালোবাইসা চুমা দিছিল আর কী! এহন কী কারণে গীত গাওয়ার লাইগা মাপ চাইতাছে, উদ্দেশ্য কী বুঝা যাইতাছে না। ৯ বছর পর কেন টনক নড়ল? এহনকার কীর্তি কলাপের লাইগা কত বছর নিবে মাপ চাইতে কেডা জানে।’