আসমা ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন | | Women Words

আসমা ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

মাদ্রাসাছাত্রী আসমা খাতুনকে ধর্ষণের পর হত্যার বিচারের দাবিতে আজ শুক্রবার সকালে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

পঞ্চগড় জেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ঢাকাস্থ পঞ্চগড়বাসী জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,’পঞ্চগড় থেকে আসমা তার প্রেমিক মারুফ হাসান বাঁধনের সঙ্গে ঢাকায় এসেছিল। পথে ট্রেনের মধ্যেই পালাক্রমে ধর্ষণের পর তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। আমরা আমাদের বোন আসমা হত্যা এবং ধর্ষণের বিচার চাইতে এসেছি।’

গত ১৯ আগস্ট রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের বলাকা কমিউটার ট্রেনের পরিত্যক্ত বগির টয়লেট থেকে মাদ্রাসাছাত্রী আসমা খাতুনের গলায় ওড়না পেঁচানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি আসমা পঞ্চগড় জেলা সদরের সিংপাড়া গ্রামের দিনমজুর আবদুর রাজ্জাকের মেয়ে।

বক্তারা বলেন, পঞ্চগড় থেকে আসমা তাঁর প্রেমিক মারুফ হাসান বাঁধনের সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন। পথে ট্রেনের মধ্যেই পালাক্রমে ধর্ষণের পর তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। গণমাধ্যমের খবরে আমরা এসব জানতে পেরেছি। তাঁরা বলেন, এমন একটি লোমহর্ষক খুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সন্দেহভাজন প্রেমিক বা হত্যাকারী, ধর্ষকদের কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা আমাদের বোন আসমা হত্যা এবং ধর্ষণের বিচার চাইতে এসেছি। দোষীদের এমন শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে আর কোনো বোন ধর্ষিত না হয়।

মানববন্ধনে ঢাকার পঞ্চগড়বাসীর সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন সরকার বলেন, এর আগে দিনাজপুরের মেয়ে ইয়াসমিন হত্যার বিচারের দাবিতে গোটা উত্তরবঙ্গ ফুঁসে উঠেছিল। আসমা হত্যা ও ধর্ষণের বিচার না হলে আবারো ফুঁসে উঠবে উত্তরবঙ্গ। কাজেই আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অনুরোধ করব অবিলম্বে আসমা হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম মনা বাবু বলেন, ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ায় দিন দিন ধর্ষণের মাত্রা বেড়েই চলছে। যাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তারাও আইনের ফাঁকফোঁকর দিয়ে বের হয়ে যায়। তাই সরকারের উচিত বিশেষ আইন করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ধর্ষণকারীদের বিচার করা। আমাদের বোন আসমার ধর্ষণকারীদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন আশরাফুল ইসলাম (মনাবাবু) ও মিনহাজ প্রধান। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তসলিমা প্রধান, ডা. আহসান ফিরোজ, আবদুস সালাম, ড. রনিক শামসুজ্জামান, সফিউল আলম, মেহেদী হাসান বাবলা, খালেদ শামস প্রধান রুম্মান, নয়ন তানভীরুল বারি, মুক্তাপ্রধান, ব্যারিস্টার হিমু, অন্তু, যুক্তি, বিমল, সুমন, জুলফিকার, তুষার, সাইদুর, ফেরদৌস প্রমুখ। 

সূত্র: কালের কন্ঠ