পুরুষ সেক্রিফাইস করে দাতা হয়, মেয়েরা তো হয় দাসী! | | Women Words

পুরুষ সেক্রিফাইস করে দাতা হয়, মেয়েরা তো হয় দাসী!

আশিক রাহমান
এখনো আমাদের দেশের অধিকাংশ মেয়েদের ফ্যামিলির মতামত অনুযায়ী টাকাকে বিয়ে করতে হয়। আমরা ছেলেরা অনেক সময় বলি বা বাবা মায়েরাও ভাবেন, সংসারের জন্য সবচেয়ে বেশি সেক্রিফাইস ছেলেরাই করে।

হ্যা আমরা অনেক সেক্রিফাইস করি। আমার জীবনের এক তৃতিয়াংশ আমি আমার ফ্যামিলির জন্যই বিসর্জন দিয়েছি বা দিচ্ছি।

এই যে এত খাটা খাটুনি, দিনভর পরিশ্রম, বেশির ভাগটাই তো ফ্যামিলির জন্যই।

কিন্তু এর বাইরেও আমার স্বাধীনতা আছে। আমি ঠিক তাকেই বিয়ে করবো যাকে আমার পছন্দ হবে। কারণ আমি আমার সব কিছু দিয়ে দিতে পারি, কিন্তু নিজেকে কিভাবে?

এই নিজেকে দিয়ে দেয়াটা হচ্ছে সব টুকু নিঃশেষ করে দেয়া। এখানে কোনো এক তৃতীয়াংশ বা অর্ধা অর্ধি নেই, পুরোটাই দিয়ে দেয়া।

খেয়াল করুন, খুব ছোট বেলা থেকেই ছেলে-মেয়ে উভয়েই তার পছন্দ অনুযায়ী জামাকাপড় কেনা থেকে পড়াশোনা করা, সব কিছুতে নিজের মতামত দেয়। সে সেটাই করবে যেটা তার জন্য বেষ্ট।

কিন্তু একটা মানুষ সারা জীবন আরেকটা মানুষের সাথে কাটাবে। মানুষ টা চাইলেই তাকে স্পর্শ করবে, যখন যেভাবে খুশি ভোগ করবে, সেই মানুষটাকে যদি পছন্দ করতে হয় ফ্যামিলির কথা ভেবে?

এটা কত বড় বিসর্জন সেটা বোঝার ক্ষমতা কোনো পুরুষের নেই, কারণ পুরুষ সেক্রিফাইস করে দাতা হয় কিন্তু মেয়েরা তো হয় দাসী!

মতের বিরুদ্ধে বা স্বার্থের প্রয়োজনে ছেলেরাও বিয়ে করে কিন্তু একটা ছেলেকে জোর করে তার স্ত্রী ভোগ করতে পারেনা। প্রয়োজনে ছেলেটা দিনের পর দিন অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে রাখতে পারে কিন্তু মেয়েটা?

যত বড় অপছন্দের মানুষই হোক, ঘৃনায় চোখ মুখ বুজে আসুক তবুও তো স্বামী। ‘আমার ইচ্ছা করছে না’, এইটুকু বলার সাহসও তার হবেনা।

গায়ের উপর পোকার মত কিলবিল করে হাপিয়ে ক্লান্ত হয়ে মানুষটা নেমে যাবে। অথচ মেয়েটা একদলা মাংস পিন্ডের মত তছনছ হলো কিন্তু একচুল দোলা লাগেনি তার হৃৎপিণ্ডে!

এই হৃৎপিণ্ড বিসর্জন মেয়েদের চেয়ে ভালো আর কেউ দিতে পারেনা। শত কষ্ট মেনে নেয়া যায় স্বাধীনতার জন্য। কিন্তু স্বেচ্ছায় পরাধীনতা মেনে নিয়ে যে নারী সবাইকে সুখী করে, তার বিসর্জনের তুলনা কোনো কিছুর সাথে হয়না।