আবারও কংগ্রেসের হাল ধরলেন সোনিয়া | | Women Words

আবারও কংগ্রেসের হাল ধরলেন সোনিয়া

রাহুল গান্ধীর ছেড়ে দেওয়া পদ সামলাতে চলেছেন তাঁর মা সোনিয়া গান্ধী। শনিবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির ম্যারাথন বৈঠক শেষে ঠিক হয়েছে সোনিয়া গান্ধীই হবেন অন্তর্বর্তী সভাপতি। সর্বসম্মতিক্রমে ওয়ার্কিং কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার রাত এগারোটায় হরিয়ানার কংগ্রেস নেতা কুমারী শৈলজা এই খবর জানিয়ে বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ওয়ার্কিং কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্য দিয়ে এটাও বোঝা গেল, গান্ধী পরিবারের বাইরের কাউকে দলের সভাপতি করার বিষয়ে রাহুল তাঁর যে দৃঢ় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন, ওয়ার্কিং কমিটি তা মানল না। দলের সবাই গান্ধী পরিবারের প্রতিই তাদের আনুগত্য প্রকাশ করল। সোনিয়াও তা মেনে নিতে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হলেন। যদিও তিনি নিজেই বলেছিলেন, রাহুলের কথা অনুযায়ী এই দায়িত্ব গান্ধী পরিবারের বাইরে কাউকে দেওয়া হোক।

আড়াই মাসের দোদুল্যমানতা কাটিয়ে নতুন সভাপতি ঠিক করতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি বৈঠকে বসে শনিবার বেলা এগারোটায়। ২৪, আকবর রোডে দলের সদর দপ্তরে তার আগেই পৌঁছে যান সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী। চলে আসেন প্রিয়াঙ্কাও। বৈঠকের শুরুতেই রাহুল জানিয়ে দেন, তাড়াহুড়া না করে সব মহলের সঙ্গে আলোচনার পর যেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিভিন্ন রাজ্যের কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী, দলীয় সাংসদ ও প্রদেশ সভাপতিরা এই বৈঠকে যোগ দেন। এঁদের অনেকের সঙ্গে রাহুল শুক্রবারই আলাদাভাবে কথা বলেছিলেন। শনিবার ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক বেশ কিছু ক্ষণ চলার পর সোনিয়া ও রাহুল চলে যান। যাওয়ার সময় সোনিয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নিরপেক্ষতার স্বার্থে তাঁরা চলে যাচ্ছেন। বৈঠকে অংশ নিয়ে সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে চান না। রাহুলের লক্ষ্য, ওয়ার্কিং কমিটি সব দিক খতিয়ে দেখে সবার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সভাপতি বেছে নিক। সোনিয়া ও রাহুল বৈঠক ছেড়ে চলে গেলেও প্রিয়াঙ্কা থেকে যান।

সোনিয়া-রাহুল চলে গেলে প্রতিনিধিদের পাঁচটি গোষ্ঠীতে ভাগ করা হয়। দেশের ভৌগোলিক চরিত্র অনুযায়ী এই পাঁচটি গোষ্ঠীকে ভাগ করা হয় পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। এই পাঁচ সাব কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে রাত আটটায় আরও একবার বসে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক। তার পর ঘোষণা হয় পরবর্তী সভাপতির নাম।

লোকসভা ভোটের ফল বের হওয়ার দুই দিন পর গত ২৫ মে রাহুল গান্ধী দলের সভাপতি পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের ১৩৪ বছরের ইতিহাসে দল কখনো এইরকম সভাপতিহীন অবস্থায় ছিল না।