ভালোবাসাটা যদি অভ্যাস বানানো যায়…


নিউজটি শেয়ার করুন

আশিক রাহমান

পৃথিবীর প্রায় প্রতিটা মানুষেরই কিছু অদ্ভুত অভ্যাস থাকে। কেউ কেউ আছে দেখবে, সারাদিন ফেইসবুকে ঢুকতে না পারলে তার মনে হবে সারাদিন কি জানি করা হয় নাই। অথচ ফেইস বুকে সে কিছুই করেনা। একটু পর পর ঢুকে শুধু নিউজ ফিড টা চেক করে আবার বেরিয়ে আসে!

কেউ কেউ ঘুম থেকে ওঠে এক কাপ চা না পেলে মনে হয়, এক্ষুনি বোধ হয় কেঁদে ফেলবে। আমি এমন ও মানুষ চিনি যে দিনে বিশ কাপ চা খায়। অথচ এতটা পানি তৃষ্ণাও কারো লাগেনা!

গভীর রাতে সিগারেটের প্যাকেটে হাত দিয়ে এক টুকরা সিগারেট না পেয়ে, কেউ কেউ আবার ফেলে রাখা এস্ট্রে হাতিয়ে নিভিয়ে ফেলা সিগারেটের শেষ অংশ টা আবার একবার জ্বালিয়ে ভাবে- জীবন ফিরে পেল যেন! অথচ কিছুই সে পায়নি যা পেয়েছে তা হলো – ফুসফুস জ্বালিয়ে দেবার মত আরো কয়েক ফোটা নিকোটিনের বিষ!

তবুও মানুষ খুশি। কারন মানুষ তার অভ্যাসে বন্দী।

আচ্ছা ভেবে দেখেছ ভালোবাসাটা যদি এমন অভ্যাস বানানো যায়?

বেশির ভাগ মানুষ আমরা, ভালোবাসার মাঝে শুধু প্লেজার খুঁজতে থাকি। সেই প্রথম দিনের মত প্রথম অনুভূতির মত। অথচ এটাই বাস্তব- ছুরি সেটা যত ধারালোই হোক না কেন, অধিক ব্যবহারে এক সময় তা ভোঁতা হতে থাকে।

রোজ যদি তুমি নিয়ম করে দাও – প্রতি রাতে কপালে চুমু খাবার পর আর কোনো কথা হবেনা। তাহলে দেখবা, প্রিয় মানুষটার কপালে চুমু না খেলে তোমার ঘুম-ই আসবেনা।

রোজ যদি তুমি নিয়ম করে দাও – শত ব্যস্ততার মাঝেও ফোনের শেষ কথাটা আই লাভ ইউ হবে; তাহলে দেখবা, ভুলে ফোনটা রেখে দিলেও মনের ভিতরে খচ মচ করতে থাকবে।

একজন নামাজি লোকের এক ওয়াক্ত নামাজ কাযা হলে তার ঘুম হয়না, প্রতিদিন ভোরে যেই লোকটা কাজে যায়- ছুটির দিনে জোর করেও সে ঘুমাতে পারেনা।

বলতে পারো- শুরুতে এমনটা ছিলো, এখন কেন নাই? কারণ, শুরুতে সেটা অভ্যাস ছিলোনা ; শুধু মুগ্ধতা ছিলো। অভ্যাসের সাথে মুগ্ধতার কিছু নাই। তবে অভ্যাসের দরুন মানুষ মায়ার জালে বন্দী হয়ে পড়ে।

ভালোবাসা যখন তোমার অভ্যাস হয়ে যাবে, তখন মুগ্ধতা কমে গেলেও তুমি মায়ায় জড়িয়ে যাবে। সম্পর্ক গুলা অটুট হবে। ভালো এমন ভাবে বাসো, যেমন করে একটা নেশাখোরকে বেঁধে রাখলে সে পাগল হয়ে যায়।

কিন্তু ভালোবাসা অভ্যাস করবে কেমন করে? ভালোবাসা তো মাপা যায়না দেখা যায়না!

একটা একটা করে নিয়ম বানাও। রোজ সন্ধ্যায় তার সাথে দু’পা মিলিয়ে একটু হাটতে বের হও। সপ্তাহে একদিন দু’জনে মুখোমুখি বসে, চটপটি ফুচকা খেতে বের হও। ঘুমানোর সময় কপালে কপাল ঠুকে ঠোঁটের উপর নিঃশ্বাস ফেলে ঘুমাও। একই জিনিস দেখে বার বার মুগ্ধ হওয়া যায় যদি জিনিস টা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে জানো…

এই বিভাগের আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *