‘নোবেলবঞ্চিত’ বিজ্ঞানী রোজালিন্ডের নামে মঙ্গলযান


নিউজটি শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীর সুর
জীবনলিপি লেখা আছে যে ডিএনএতে, সেই অণু যে দেখতে মোচড়ানো মইয়ের মতো-এমন সত্য প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন রোজালিন্ড ফ্রাংকলিন। কিন্তু জীবন-অণুর সেই মানচিত্র নকল করে নোবেল পেয়েছিলেন অন্য দুই বিজ্ঞানী। নোবেল তো দূরের কথা, জীবদ্দশায় কাজেরই স্বীকৃতি পাননি এই ব্রিটিশ রসায়নবিদ। গতকাল তার নামে একটি মঙ্গলযানের নামকরণ করা হয়েছে রোজালিন্ড ফ্রাংকলিন রোভার। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইসা) গতকাল তাদের ওয়েবসাইটে এ খবর দেয়।

বিশ্ব বিজ্ঞানমহল এমন উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। বাংলাদেশের বিজ্ঞান লেখক খালেদা ইয়াসমিন ইতি গতকাল টেলিফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এমন স্বীকৃতি সত্যিকার অর্থে বড় পাওয়া। ফ্রাংকলিন বেঁচে থাকতে এমন কিছু হলে তিনি কিছুটা আনন্দ পেতেন। আমি বলব, এমন স্বীকৃতির মাধ্যমে যুক্তরাজ্য তাদের ঐতিহাসিক অপারাধবোধ কিছুটা কমাল।’

২০২০ সালে মঙ্গলের উদ্দেশে উড়ে যাবে রোজালিনন্ড ফ্রাংকলিন রোভার। একুশ সালে লালগ্রহের মাটিতে অবতরণ করবে স্বয়ংক্রিয় এই রোবট-গবেষণাগার। মঙ্গলের মাটিতে, আবহাওয়া কিংবা অন্দরমহলে কোথাও জীবনের কোনো চিহ্ন রয়েছে কিনা, অনুসন্ধান চালিয়ে সেই সত্য খুঁজে বের করবে এই রোবট।

ইসা এবং রুশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমস যৌথভাবে এক্সোমার্স মিশন নামে যে প্রকল্প পরিচালনা করছে, রোজালিন্ড ফ্রাংকলিন রোভার তারই একটা অংশ। এর আগে এই মিশনের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৬ সালে ১৪ মার্চ উড়ে গিয়েছিল মঙ্গলযান টিজিও। সে বছর অক্টোবরে অবতরণের সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় শিয়াপারেল্লি রোভার।

দ্বিতীয় পর্যায়ের রোভারের নাম কী হবে, এ নিয়ে গত বছর জুলাইয়ে নামকরণ প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেয় ব্রিটিশ মহাকাশ সংস্থা। ইসার সদস্যরাষ্ট্রগুলো থেকে ৩৬ হাজারের বেশি নাম পড়ে। এদের মধ্য থেকে বেছে নেওয়া হয় রোজালিন্ড ফ্রাংকলিনকে।

ইংল্যান্ডের স্টিভেনেজে এয়ারবাস ডিফেন্সের ‘মঙ্গল উঠানে’ গতকাল সকালে রোজালিন্ড ফ্রাংকলিন রোভারের নাম ঘোষণা করেন ইসার নভোচারী টিম পিক। তিনি বলেন, ‘এরই মধ্য দিয়ে আমরা রোবটিক অভিযানের ইতিহাসে আমাদের ইউরোপীয় ঐতিহ্যকে নির্মাণ করছি এবং একই সঙ্গে নবপ্রযুক্তির উদ্ভাবন করছি।’

ইসা জানিয়েছে, মঙ্গলের বিষুবরেখার কাছে অক্সিয়া প্লানামে রোজালিন্ড ফ্রাংকলিনকে নামানো হবে। একসময় ওই প্রাচীন পরিবেশ ছিল জলসমৃদ্ধ। ধারণা করা হয়, সেখানে একদা আদি প্রাণের বিকাশও ঘটেছিল।

বিজ্ঞানী রোজালিন্ড ফ্রাংকলিন গর্ভাশয় ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৫৮ সালে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে মারা যান। ডিএনএ কাঠোমোর নকশা আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬২ সালে নিউজিল্যান্ড বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ আণবিক জীববিজ্ঞানী মরিস উইলকিনসের সঙ্গে যৌথভাবে মেডিসিনে নোবেল পান মার্কিন জিনতাত্ত্বিক জেমস ওয়াটসন ও ব্রিটিশ জীবপদার্থবিদ ফ্রান্সিস ক্রিক। ওয়াটসন ও ক্রিক ফ্রাংকলিনের নকশা নকল করেছিলেন। মরণোত্তর নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় না। ফলে এক অর্থে ফ্রাংকলিনকে নোবেলবঞ্চিত বলা যায় না। কিন্তু বঞ্চিত ও উপেক্ষিত নারী বিজ্ঞানীদের জীবনকর্ম নিয়ে লেখা ‘বিজ্ঞানের পথে পথে’ গ্রন্থের রচয়িতা খালেদা ইয়াসমিন ইতি বলেন, ‘ফ্রাংকলিন এমনকি আরএনএ গবেষণার সূচনা করে গিয়েছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো দু-দুটো নোবেল পেতে পারতেন।’

প্রখ্যাত বিজ্ঞানীদের নামে এর আগেও ইসা নানা অভিযান ও রোবটের নামকরণ করেছে; যেমন নিউটন, প্ল্যাংক ও ইউক্লিড।

সূত্র : আমাদের সময়

এই বিভাগের আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *