মানুষের গড় আয়ুর সাতকাহন…প্রাক্তন বা অতীত


নিউজটি শেয়ার করুন

শেখ মাহফুজা রশিদ

আপনি কবি তাই প্রাক্তন শব্দটাকে আপনি ভালোবাসতেই পারেন,কারণ আপনি এই শব্দটাকে পুঁজি করে অন্তত ডজনখানেক কবিতা অথবা কবিতার দুর্দান্ত একটা সিরিজ নিখে ফেলতে পারেন। কিন্তু আপনার সহজ সরল পাঠক একটা বড়সড় ধাক্কা খেয়ে ফেলতে পারে।অথবা আনন্দে কেঁদে ফেলতে পারে আপনার প্রাক্তন প্রেমিক/প্রেমিকা, তার জন্য আপনার উৎসাহ এবং দুঃখবোধ অথবা কখনো কখনো তাকে আবারো ফিরে পাওয়ার আগ্রহ দেখানোর জন্য। তারপর হঠাৎ একদিন আপনার মুঠোফোনে বা ইমেইলে পেয়ে যেতে পারেন একটি খুদে বার্তা… পাঠিয়েছে আপনার প্রাক্তন প্রেমিক/প্রেমিকা … “অভিনন্দন!! ইশ তুমি তো দেখছি সত্যি সত্যি কবি হয়ে গিয়েছো! ভালোই তো লিখো…, লিখে যাও, একদিন দেখো সবাই তোমার কবিতা পড়বে। আমি আগেই বুঝতে পেরেছিলাম তুমি একদিন বিখ্যাত কবি হবে।” তারপর বোকা কবি লিখবে আরো ডজনখানেক কবিতা, আরো কতো কতো কবিতার সিরিজ,আরো কতো কতো কাব্যগ্রন্থ। যথারীতি সেই প্রাক্তন প্রেমিক/প্রমিকাকে পড়তে দিবে কবিতাগুলো এবং জানতে চাইবে কেমন হয়েছে বলো? জানো সবগুলো কবিতা তোমার নামে উৎসর্গ করেছি,তুমি খুশি তো? হ্যাঁ খুশি তবে… তবে কি….? এখন যার সাথে প্রেম করছো যাকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছো তার জন্য দু-একটি উৎসর্গ করতে পারতে! আরে নাহ বাদ দাও তুমিই তো আমার সব কবিতার কবিতা। বরং তুমিই থাকো আমার সব কবিতায়।

ধরে নিন একটা গল্প শেষ…তারপর আসবে বর্তমান প্রেমিক/প্রেমিকা, তাকে এড়িয়ে যাওয়া,তার কথা না শোনা, খোঁজ খবর না নেওয়া, সময় না দেওয়া সব মিলিয়ে বিরাট ঝামেলা। কিছুদিন যাওয়ার পরে আবার ব্রেকআপ। আবার নতুন করে প্রাক্তন, আবার নতুন করে প্রেমিক/প্রেমিকা। এইভাবে চলে যায় একটা দীর্ঘ জীবন,পুরো একটা জীবনের গড় আয়ু। নতুন এবং পুরনো প্রেমের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে কিছু কষ্ট, বিষণ্নতা,বিমর্ষতা,না পাওয়া,বেদনা, আবেগ, থমকে যাওয়া সময়,হতাশা, ক্লান্তি এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত। কিন্তু সময় ঠিক চলে যায়। অতীত কখনো বর্তমান হয়না,বর্তমান কখনো কখনো অতীতে ফিরে যায়।নির্মমভাবে বর্তমানটাই শুধু ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অতীত কখনো হাঁটতে পারে না, স্থির থাকে কিন্তু তবুও গতিশীল বর্তমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে। “কিছু মানুষ বলবে অতীত আমার অহংকার- কিছু মানুষ নির্জন কোণে বসে অতীতে বাস করবে বেলায় অবেলায়- কিছু মানুষ হঠাৎ করেই বর্তমান থেকে অতীতে চলে গিয়ে বলবে অতীত ছাড়া জীবন নাকি অপূর্ণ, অতীত হচ্ছে গৌরবময়”। এই কথাগুলো আমাকে ভাবায় উত্তর পাওয়া আর হয়ে ওঠেনা।তবে আমার মনে হয়,আসলে এইসব ভাবনার মানুষজন কখনো বর্তমান সময়ের গুরুত্বই বুঝতে পারেনা। আপনারা যারা প্রাক্তনে বাঁচেন মানসিকভাবে, আর বর্তমান প্রেমিকা/প্রেমিকার বুকে মাথা রেখে পৃথিবীর সুখে আচ্ছাদিত হয়ে যান তাদের মুখে দলা দলা থু থু দিয়েও লাভ নাই। এইসব ডাবল ফেইসের মানুষদেরকে তিন দিনের পুরনো (জমানো) ইউরিনে ডুবিয়ে রাখা উচিত। নিজে নিজে লজ্জা পেতে শিখুন সেই সময়টার জন্য যখন আপনি অন্য একজনকে ফেলে রেখে চলে এসেছিলেন এবং তার জন্য যার ভালোবাসা অস্বীকার করে চলে এসেছিলেন। এবং দেখিয়ে দিন তাকে,যে আপনাকে এবং আপনার ভালোবাসাকে অস্বীকার করে চলে গিয়েছিলো আর মাথা উঁচু করে বাঁচুন সেই খারাপ সময়টা পার করে আসার জন্য। নিজেকে ধন্যবাদ দিন। এই সময়টাতে যে আপনার পাশে ছিলো তাকেও ধন্যবাদ দিন,তাকে ভালোবাসুন এবং তার কাছে কৃতজ্ঞ থাকুন আপনাকে ভালোবাসার জন্য।

এই বিভাগের আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *