‘খোলামেলা’ পোশাক পরায় কারাদণ্ডের মুখে মিশরীয় অভিনেত্রী

নিউজটি শেয়ার করুন

নভেম্বরে অনুষ্ঠিত কায়রো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে খোলামেলা পোশাক পরার দায়ে অভিযুক্ত মিশরীয় অভিনেত্রী রানিয়া ইউসেফকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে। যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম বিবিসি’র খবরে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

তার এই পোশাক পরা সামাজিকভাবে রক্ষণশীল দেশটিতে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে তিনি ক্ষমাপ্রার্থনা করে বলেন, আমি আমার দর্শক-শ্রোতাদেরকে বলতে চাই যা ঘটেছে তা ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। যদি আমি ভুল করে থাকি, তবে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দেন। দিন শেষে আমি একজন মানুষ…এবং আমরা সবাই তাই। এজন্যে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমি আপনাদেরকে ভালোবাসি।

এভাবে ক্ষমাপ্রার্থনা করার পর বেহায়াপনা ছড়ানো দায়ে রানিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন সামির সাবরি এবং আমরো আব্দেলসালাম নামের দুই আইনজীবী।

সাবরি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত, সৃজনশীলতাও। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও অনৈতিকতার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। সব কাজই সৃজনশীলতা বলে বিবেচিত হতে পারে না। সুতরাং এটার বিরুদ্ধে নেয়া কোনও পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত না।

তিনি বলেন, প্রত্যেকেই যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে অবশ্যই সামাজিক, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে টিভির মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতাদেরকে দেয়া ধ্বংসাত্মক বার্তা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

মিশরের শীর্ষস্থানীয় এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে বিভক্ত হয়ে গেছে রাজধানী কায়রোবাসী।

এক নারী বলেন, মনে হচ্ছে আমরা ১০০ বছর আগে ফিরে যাচ্ছি। ষাটের দশকের মিশরীয় চলচ্চিত্রগুলোতে মিনিস্কার্ট পরা নারীদের দেখা যেত। তখন কেউ কোনও অভিযোগ করেনি। রানিয়ার পোশাকটি ছিল বাথিং স্যুটের মতো। আমরা ইনস্টাগ্রামে অনেক মানুষকে তাদের বাথিং স্যুট পরা অবস্থায় দেখি এবং কেউ কিছুই বলে না।

রাজধানীর এক পুরুষ বলেন, মিশর ও আরব দেশগুলোতে বিদ্যমান প্রথায় বলা হয়েছে যে আল্লাহ নারীদেরকে তাদের মাথা ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এটাই এখানে শালীনতার সবচেয়ে সহজ ধরন।

এর আগে ২০১৭ সালে একটি মিউজিক ভিডিওতে অশ্লীলতা নির্দেশ করে কলা খাওয়ার দৃশ্য দেখা গেলে মিশরীয় গায়িকা শায়মাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

সূত্র: আরটিভিঅনলাইন

এই বিভাগের আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *