মেয়েরা স্বামীর অবহেলায় এক সময় বদলে যেতে থাকে

নিউজটি শেয়ার করুন

আশিক রাহমান

আমার কাছে মেয়েদের পুতুলের মত লাগে। উহু খেলার পুতুল না, আহ্লাদি পুতুল। পুতুল খেলার বয়স এক সময় পেরিয়ে যায়, ছোট বেলার আদরের পুতুল বড় বেলায় কোনো কাজে আসেনা। কিন্তু মেয়েদের প্রয়োজন কখনোই ফুরায় না। জীবনের শেষ বয়সটাতেও নিজেকে অসহায় মনে হয় যদি সারাজীবনের বুড়িটা পাশে না থাকে। একদম ছোট বেলা থেকে, যখন ছেলেরা খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি করতাম তখনও দেখতাম মেয়েদের একটু পটাতে পারলে পুরো টিফিন বক্সটাই দিয়ে দিত। আমি খুব অবাক হই কত অল্পতে মেয়েরা খুশি হয়ে যায়! পাহাড় পর্বত জয় করেও যেখানে অনেকের খুশি লাগেনা, মেয়েরা সেখানে ছাদের কিনারায় দাঁড়াতে পেরেই বেজায় খুশি। পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে পাঁচ টাকার এক গোলাপ খোঁপায় গুজে দিলে মেয়েটা খুশিতে কেঁদে দেয়। কত ছোট তাদের চাওয়া গুলো, কত ছোট ছোট খুনসুটি, মান অভিমান! সামান্য এক বক্স চকলেট পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায় আবার একটু খানি ইগনোর করলে চোখে পানি চলে আসে। সামান্য একটু প্রশংসায় দুই গাল লাল হয়ে যায় আবার ছোট্ট এক ধমকে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। ভালোবাসতে বাসতে শাসন করে, ঠোঁট উল্টে অভিমান করে, আবার একটু খানি আদরে গলায় ঝুলে আহলাদ করে। কত ছোট ছোট জিনিস গুলা কত যত্নে সে রাখে, তার আয়নাটার দিকে তাকালেই মন ভরে যায়। ছোট ছোট লিপষ্টিক, টিপের পাতা, কাঁচের চুড়ি, একটু একটু করে কত কিছু! একটা মেয়ে যখন খুশি মনে সাঁজতে বসে তার চেয়ে সুন্দর দৃশ্য আর হয়না। ঝুমতে ঝুমতে গাইতে গাইতে সে কাপড়ে কুঁচি দেয়, মায়া করে পাউডার মাখে, চুড়ি গুলা টুং টাং করে, কি এক অদ্ভূত দৃশ্য। কতটা অবিশ্বাস্য সরলতা সেই সাজে! এই মায়াটা মেয়েদের সব খানেই, বাবার জুতা থেকে স্বামীর টাই পর্যন্ত। বাবা ঘরে ফেরার পর দৌড়ে ছুটে আসার অভ্যাস টা থেকে যায় স্বামীর ঘরেও। তবে বাবার মত করে সব স্বামী এসে দুহাতে পাগলিটাকে জড়িয়ে ধরেনা। সব স্বামীরা আহ্লাদিদের ন্যাকামি পছন্দ করেনা। সব স্বামীরা মেয়েদের সাজের মূল্য বোঝেনা! পানির মাছ ডাঙায় এসে যেভাবে ছটফট করে কিছু মেয়ে স্বামীর ঘরে এভাবে ছটফট করে এক সময় বদলে যেতে থাকে। তার আয়নায় ধুলা জমে, আদর মাখা গাল দুটো মলিন হতে থাকে। হাত দুটো শক্ত হতে হতে বুঝিয়ে দেয় স্বপ্ন আর সংসার দুটো এক জিনিস নয়!

এই বিভাগের আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *