পিরিয়ড সামলাতে কাপ কিংবা বিশেষ আন্ডারওয়্যার - Women Words

পিরিয়ড সামলাতে কাপ কিংবা বিশেষ আন্ডারওয়্যার

আধুনিক অনেক নারী পিরিয়ডের সময় প্রচলিত পদ্ধতিতে প্যাড এবং তুলা ব্যবহার কতটা স্বাস্থ্যসম্মত তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তারা ব্যবহার করেন কাপ, পুনঃব্যবহারযোগ্য প্যাড এবং বিশেষভাবে তৈরি আন্ডারওয়্যার।

আধুনিক নারীরা পিরিয়ড নিয়ে খোলামেলা কথা বললেও তা একসময় যেন আলোচনার নিষিদ্ধ কোনো বিষয় ছিল। তারা পিরিয়ডের জন্য স্বাস্থ্যকর পণ্য চাইছেন পাবলিক বিশ্রামাগারে। এমনকি ট্যাক্স ফ্রি প্যাড ও তুলা চাইছেন।

বিভিন্ন পদ্ধতি বিশ্বজুড়ে পিরিয়ড-সংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজারকে প্রভাবিত করে। এই বাজার ১৯ বিলিয়র ডলারের। যদিও প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে আর যেসব উপায় গ্রহণ করা হয়, তা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে অনেক নারীর কাছে এসব বিকল্প পদ্ধতিই বেশি স্বাস্থ্যসম্মত, কম খরচের এবং এতে বর্জ্যও কম হয়।

একটি বিকল্প পদ্ধতি মিনস্ট্রুয়াল কাপ। ২৫ বছর বয়সী আন্দ্রিয়া ভেলাজকুইজ এর ব্যবহার সম্পর্কে জানার পর গত তিন বছরে কোনো প্যাড কেনেননি। একটি কাপ বার বার ব্যবহার করা যায়। অনেক স্বাস্থ্যসম্মত এবং খরচ অনেক কমে এসেছে তার। প্যাড বা তুলা ব্যবহার করতে গেলে অনেক অর্থ লেগে যায় বলেই মনে করেন তিনি। তা ছাড়া এগুলো ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া ঝামেলার কাজ। এমনকি একটি প্যাকেট কিনে তা লুকিয়ে রাখতে হয়।

ডিভা ইন্টারন্যাশনালের চিফ এক্সিকিউটিভ ক্যারিন চেম্বার্স। তিনি বানিয়েছেন ডিভাকাপ। এর ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে অন্য নারীরা তথ্য পান। তারা এর সম্পর্কে ধারণা নেন। তবে একে নতুন কিছু বলে মনে করার দরকার নেই।

আরেকটি বিকল্প হলো পুনঃব্যবহারযোগ্য কাপড়। থিংক্স পিরিয়ড আন্ডারওয়্যার এমন এক কাপড় যা ময়েশ্চার শুষে নেয়। এটা ধুয়ে আবারো ব্যবহার করা যায়। এসব আন্ডারওয়্যার কটু গন্ধ শোষণ করে এবং এর মধ্য দিয়ে বায়ু চলাচল করে। থিংক্স সাধারণত এমন আন্ডারওয়্যার তৈরি করে যাকে ব্যবহারের পর ফেলে দিতে হবে না। এগুলো তৈরি করা হয় রেয়ন এবং ব্লিচড কটন দিয়ে। নাইলন, ময়েশ্চার শোষণকরী এবং জীবাণুনাশক তিনটি স্তরে তৈরি করা হয় এগুলো। সহজে ফুটো হয় না পণ্যগুলো। অনেক নারী অবশ্য ব্লিচ করা পণ্য থেকে কোনো রাসায়নিক পদার্থের ক্ষতির আশঙ্কা করেন। আবার অনেকে শুষে নিতে সক্ষম তুলায় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নিয়ে চিন্তিত।

সোশাল মিডিয়াতে বেশ প্রচার পেয়েছে থিংক্স। ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে নারীদের। মানুষের সামনে এসব পণ্য নিয়ে নানা অস্বস্তিবোধের ইতি ঘটছে ক্রমশ।

প্রচলিত পণ্যগুলো কার্যকারিতা নিয়ে চরম সন্দেহের সৃষ্টি হয় যখন লন্ডন ম্যারাথনে সংগীতশিল্পী কিরণ গান্ধী তার রক্তাক্ত লেগিংস নিয়ে দৌড় শেষ করেন। আগের রাতে তার পিরিয়ড হয় এবং তিনি প্যাড ও তুলার ব্যবহার যথেষ্ট বলেই মনে করেছিলেন। পরে তিন ব্লগে লিখেছিলেন, আমি যখন দৌড়াচ্ছিলাম তখন পা বেয়ে রক্ত পড়ছিল। ব্যথা সামলে নিয়ে আমি দৌড়াচ্ছিলাম। মনে করার চেষ্টা করছিলাম যে পিরিয়ডের কোনো অস্তিত্বই নেই। একে জয় করে নিয়েই দৌড়ানোর চেষ্টা করছিলাম আমি।

সবকিছু চিন্তা করেই ডিভাকাপ ব্যবহার শুরু করেছেন ২৪ বছর বয়সী ম্যাগি ওয়ালেন। প্রথমে খুব বাজে লাগত। কিন্তু পরীক্ষমূলকভাবে ব্যবহার করতে থাকেন।

থিংক্স এর চিফ এক্সিকিউটিভ এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা মিকি আগারওয়াল জানান, পিরিয়ডের বিকল্প ও কার্যকর স্বাস্থ্যকর পণ্যের সঙ্গে নারীদের পরিচিত হতে হবে। এটা আসলে অভ্যাস ও দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। প্রকৃতির নিয়মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। নারীরা এখন এসব নিয়ে লজ্জা নয়, বরং এর জন্য স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ের খোঁজ করেন।
সূত্র : নিউ ইয়র্ক টাইমস, কালের কন্ঠ