আদালত থেকে ধর্ষণের আসামীর পলায়ন, ২ পুলিশ সাময়িক বরখাস্ত - Women Words

আদালত থেকে ধর্ষণের আসামীর পলায়ন, ২ পুলিশ সাময়িক বরখাস্ত

গারো তরুণী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি রাফসান হোসেন ওরফে রুবেল আদালত এলাকা থেকে পালিয়ে গেছেন। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আজ রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে দুই পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রুবেলের পালিয়ে যাওয়ার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাড্ডা থানার পুলিশ কনস্টেবল কায়সার আহমেদ।

আদালত সূত্র জানায়, আজ রুবেলকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করানোর জন্য ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। সেখান থেকে কৌশলে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে আসামি রুবেল পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, পুরান ঢাকায় সিএমএম কোর্টের নতুন ভবনে হাকিমের খাসকামরার সামনে রুবেলকে জবানবন্দির জন্য নেওয়া হয়। সেখানে দাপ্তরিক কাজের জন্য এসআই ইমরানুল হাসান কামরার ভেতরে গিয়েছিলেন। আর কনস্টেবল দীপক বাথরুমে ছিলেন। তবে হাতকড়া লাগানো অবস্থায় রুবেল কীভাবে পালিয়ে গেলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরানুল হাসান ও কনস্টেবল দীপক চন্দ্র পোদ্দারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল শনিবার রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় গারো তরুণীকে (১৮) ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি রুবেলকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয় বলে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানায় র‍্যাব।

উত্তর বাড্ডায় গারো তরুণীকে (১৮) ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত শুক্রবার রাজধানীর বিমানবন্দর চত্বরের রেলস্টেশনের সামনে থেকে ‍র‌্যাবের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। র‌্যাব এর এ অভিযানে রুবেলের কাছ থেকে একটি মুঠোফোন সেট ও প্রায় সাড়ে নয় হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, এগুলো ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর হবু স্বামীর কাছ থেকে ছিনতাই করেছিলেন রুবেল।

র‌্যাব জানায়, ওই তরুণী ঢাকার একটি বিউটি পারলারে কাজ করেন। তাঁর হবু স্বামী উত্তর বাড্ডা এলাকার পুরোনো থানা রোডে হাজি রুহুল আমিনের মেসে ভাড়া থাকতেন। গত ২৫ অক্টোবর বিকেলে সেখানে হবু স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে যান ওই তরুণী। এ সময় মেসের ব্যবস্থাপক হানিফ তাঁর হবু স্বামীকে বলেন, এখানে মেয়েদের আসা নিষেধ। এ সময় সালাউদ্দিন, আল আমিন ও রনি নামের মেসের কয়েকজন ভাড়াটে হানিফের সঙ্গে ছিলেন। মেসের ভাড়াটেরা স্থানীয় রুবেলকে ডেকে আনেন। পরে সালাউদ্দিন ও আল আমিনকে সঙ্গে নিয়ে ওই তরুণীকে পাশের হাজি মোশারফ মিয়ার পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন রুবেল।

এ ঘটনায় ওই তরুণী গত ২৮ অক্টোবর মামলা করেন। পরে পুলিশ সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। রুবেলের সহযোগী আল আমিনসহ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সূত্র: প্রথম আলো