মার্কিন নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে খিজির আঙ্কেল - Women Words

মার্কিন নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে খিজির আঙ্কেল

দুই সপ্তাহ আগে ডেমোক্রেটরা খিজির খানকে নিয়ে একটি দারুণ বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞাপনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে খিজির খানের প্রশ্ন, আপনার আমেরিকায় আমার সন্তানের কি কোনো স্থান আছে? ইরাক যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন হুমায়ুন খানের (২৭) বাবা খিজির খান।
পাকিস্তানি মুসলিম খিজির খান কয়েক মাস আগে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় কনভেনশনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তার ছেলের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে মুসলিমবিদ্বেষী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুলোধোনা করেছিলেন। বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর খিজির খান মার্কিন রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। দক্ষিণ এশিয়ান মার্কিনিদের কাছে তিনি এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়-খিজির আঙ্কেল।
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাজে প্রার্থী আখ্যা দিয়ে খিজির খান জানান, ডেমোক্র্যাটিক কনভেনশনে বক্তৃতা ও তার সূত্রধরে ট্রাম্পের সমালোচনার শিকার হওয়ার পর সারাদেশ থেকে মানুষ তাকে উৎসাহিত করেছে। সাধুবাদ জানিয়ে তিনি ও তার স্ত্রীকে উদার আমেরিকার প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেছেন অনেকে।
অথচ ২০০৮ সালের নির্বাচনেও খিজির খানের এতখানি গুরুত্ব পাওয়া সম্ভব হত না। সেই বছর বারাক ওবামার একটি সমাবেশে হিজাব পরা দুই মহিলাকে মঞ্চের কাছে বসতে বাধা দেয় এই ডেমোক্র্যাট স্বেচ্ছাসেবকরাই। বারাক ওবামার বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে চলা মুসলিম গুজব ঠেকাতেই এমনটা করা হয়েছিল। বেশ কয়েক বছর ধরেই ওবামাকে এটি সহ্য করতে হয়েছে।
২০০৩ সালে বুশ ও ২০০৮ সালে ম্যাককেইনের প্রচারের জন্য বড় অঙ্কের তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন মুসলিম ফর আমেরিকা সংস্থার কর্তারা। এবার অধিকাংশই হিলারির পক্ষে। কারণ একটাই, ডোনাল্ড ট্রাম্প!
নির্বাচনে মুসলিম ভোটাররা ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন বলে মনে করছেন ভোট বিশেষজ্ঞরাও। এবারই প্রথম মুসলমানরা একটি গ্রুপ হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে আবির্ভূত হয়েছেন বলে মনে করেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল ইকোনমি বিভাগের অধ্যাপক শারিন হেলোরান।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের পর মুসলিম ভোটাররা আগের চেয়ে অধিক সচেতন হয়েছেন। বিশেষ করে এবারই প্রথম আমেরিকার মসজিদগুলি ভোটারদের উদ্ধুদ্ধ করতে ভূমিকা পালন করছে। শুধু তাই নয় ভোটার রেজিষ্ট্রেশন করেই মুসলিম কমিউনিটির নেতারা ক্ষান্ত হননি। ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখছেন মুসলিম কমিউনিটির নেতারা।