সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ রুখতে সিলেটে শত হাতে আলোক প্রজ্জ্বলন - Women Words

সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ রুখতে সিলেটে শত হাতে আলোক প্রজ্জ্বলন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মাধবপুর ও ছাতকে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার প্রতিবাদে এবং সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ রুখতে সিলেটে শত হাতে আলোক প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় ‘মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সাংস্কৃতিক মঞ্চ, সিলেটের’ উদ্যোগে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। সিলেটের বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠন ও ব্যাক্তির উপস্থিতিতে সম্মিলিতভাবে শত আলো প্রজ্বলন করা হয় ।

এই কর্মসূচিতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রবীন রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার আরশ আলী, সিপিবি সিলেট জেলার সাবেক সভাপতি কমরেড বাদল কর, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সিলেট শাখার সভাপতি ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেট শাখার সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, বাংলা মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আল আজাদ, পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাড. মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, আবৃত্তি শিল্পী মোকাদ্দেস বাবুল, রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী রানা কুমার সিনহা, তথ্যচিত্র নির্মাতা নিরঞ্জন দে যাদু, সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম প্রমুখ।

আলোক প্রজ্বলন কালে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধ্যে লড়ে যাওয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করে বক্তারা বলেন, “ধ্বংসযজ্ঞে মাটিতে লুটিয়ে পরা বঙ্গবন্ধুর ছবি বলে দেয় অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশকে অন্ধকারে ঢেকে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে । কালীপুজার আনন্দকে আঁধারে ঢেকে দিয়ে ব্রাম্মনবাড়িয়া, মাধবপুর ও ছাতকে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলা এরই অংশ । ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াতে হবে। নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়াতে হবে । হামলার উস্কানীদাতাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনে জ্বেলে দিতে হবে আস্থার আলো।”

মৌলবাদ ও ‘সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সাংস্কৃতিক মঞ্চ, সিলেট-এর সমন্বয়ক ও সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট-এর সভাপতি মিশফাক আহমেদ মিশু আয়োজকদের পক্ষ্য থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, কালীপূজার উৎসবের আলো আঁধারে ঢেকে দিয়েছে ব্রাম্মনবাড়িয়া, মাধবপুর ও ছাতকে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা। এসব ঘটনায় একাধিক পূজামন্ডপ ও মন্দির-আখড়া ভাংচুর হয়েছে। শতাধিক সনাতন ধর্মীয় পরিবারের বসত-বাড়ি ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। শারিরীক ভাবে নিগৃহীত মানুষের সংখ্যা শতাধিক । এরমধ্যে অনেকেই আহত হয়েছেন । নারী-শিশুসহ নিগৃহীত ও লুটপাটে সর্বস্ব হারানো মানুষগুলোর এই নারকীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কারন এরা সংখ্যালঘু, এদের পরিচয় এরা সনাতন ধর্মীয়। ব্রাম্মনবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় রসরাজ নামের এক হিন্দু যুবকের ফেইসবুকে দেয়া পোষ্টের সূত্রধরে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখান থেকে সাম্প্রদায়িক উস্কানী দিয়ে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় হামলা চালানো হয়। যার বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ সেই রসরাজ এমন পোষ্টের কথা অস্বীকার করে । স্থানীয় এলাকাবাসী তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করে । অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে পুলিশে সোপর্দ করার পরেও নারকীয় উল্লাসে হামলা চালানো হয়। নিমিষে ধ্বংস করা হয় বিভিন্ন পূজামন্ডপ। কালীপূজা বা দেওয়ালীর জন্য আলোকিত উৎসবপ্রাঙ্গণ পরিনত হয় বিভীষিকার অন্ধকারে। একের পর এক বাড়ি ঘর লুট হয়। নারীদের নির্যাতন করা হয় । শিশুরা আতংকে কাঁপতে থাকে । এসব ঘটনাকালে স্থানীয় প্রশাসন নির্লিপ্ত আচরণ করে। যা লুটেরাদের সাহস যোগায়। সরকারের ধামাচাপা মনোভাবে ব্রাম্মনবাড়িয়ার ঘটনা হবিগঞ্জের মাধবপুর এমনকি সুনামগঞ্জের ছাতক পর্যন্ত বিস্তৃত হয় । এই ঘটনায় সারা দেশের বিবেকবান মানুষ ব্যাথিত।

তিনি সকলের পক্ষ্য থেকে হামলার উস্কানীদাতাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনে আস্থার আলো জ্বেলে দিতে শুভবোধ সম্পন্ন মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান ।