হেলমেটহীনদের ভাইফোঁটা দিল পুলিশ - Women Words

হেলমেটহীনদের ভাইফোঁটা দিল পুলিশ

হেলমেট না পরেই বাড়ি থেকে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন সুশীল। বাড়ির গলি ছাড়িয়ে বড় রাস্তায় যখন আসলেন, তখন মনে পড়ল হেলমেট না পরার কথা। আর এই অপরাধে রাস্তার মোড়ে পুলিশি নজরদারির মুখে পড়তে হতে পারে। আবার কিছুটা দূর এগোয় তাঁর বাইক। টেনশনে কপাল থেকে কানের পাশ বেয়ে ঘাম চুঁইয়ে পড়ছে তখন।

রাস্তার পাশের বাড়িগুলো থেকে উলু আর শঙ্খধ্বনি। সুশীলের আবার মনে পড়ল দিদি প্রতিবার ফোঁটা দেওয়ার সময় বলেন, ‘ভাঁইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা।’’ আজ তো ফোঁটাটাও নেওয়া হয়নি, তা হলে কি যমের দুয়ারে কাঁটা পড়ল না তাঁর জন্য?  এ দিকে হেলমেটটাও পরা হয়নি। মনের মধ্যে ভয় আরও গেড়ে বসতে শুরু করেছে তখন। এই সব সাত-পাঁচ ভাবনার মধ্যে কখন যে বড় রাস্তার মোড়ে তিনি এসে পৌঁছেছেন খেয়ালই হয়নি।

হঠাৎ পথ আটকে দাঁড়াল বেশ কয়েক জন পুলিশকর্মী। তত ক্ষণে ভয়ে তাঁর হৃদস্পন্দন কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে কাকুতি-মিনতি জুড়ে দিয়েছেন তিনি। হঠাৎই কিছু অল্পবয়সী মেয়ে উর্দিধারী পুলিশের পিছন থেকে এসে দাঁড়াল সুশীলের সামনে। হাতের চন্দনের বাটি থেকে কিছুটা চন্দন নিয়ে এক্কেবারে ভাইফোঁটার মন্ত্র উচ্চারণ করে চন্দনের ফোঁটা পরিয়ে দিল সুশীলের কপালে। আর এক জন পরম স্নেহে একটা মিষ্টি মুখে গুজে দিলেন। ভ্যাবাচ্যাকা সুশীল!

কী হল, কেন হল বুঝেই উঠতে পারলেন না তিনি! শুধু সুশীলের সঙ্গে এমনটা নয়, অনেকের সঙ্গেই এই রকম ঘটনাই ঘটল কলকাতার হাওড়া ময়দানের কাছে ফাঁসিতলার মোড়ে। হেলমেট বিহীন সমস্ত বাইকচালকে ধরে ভাইফোঁটা দিল হাওড়া সিটি পুলিশ।

‘সেফ ড্রাইভ সেফ লাইফ’ কর্মসূচি মেনে সর্বক্ষণ প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। আর সেই প্রচারের অঙ্গ হিসেবে এই অভিনব কর্মসূচি নিল হাওড়ার পুলিশ। হেলমেট না পরে যে সব বাইকচালকরা ফাঁসিতলা মোড় দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁদের পাকড়াও করে ফোঁটা দিয়ে, মিষ্টি খাইয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন তাঁরা। পুলিশের ট্রাফিক গার্ড অশোক চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘এই অনুষ্ঠানটি পুরোপুরিই প্রতীকী। ভাইফোঁটার দিন ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের সঙ্গে পুলিশের গাঁধিগিরি।’’ এমনই অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী রইল হাওড়া। ব্যারাকপুরেও একই ঘটনা ঘটেছে। মহিলা পুলিশ ধরে-বেঁধে হেলমেটহীনদের ফোঁটা দিলেন। কিন্তু ঘটনার শেষে পুলিশের ছোট্ট সংযোজন ‘আজ ফোঁটা দিয়েছি। কাল কেস দেব। সব গাড়ির নম্বর টুকে রেখেছি।’

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা