খাদিজাকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে - Women Words

খাদিজাকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে

আহত কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্কয়ার হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতেই তাকে কেবিনে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালটির পরিচালক চিকিৎসক মির্জা নাজিমউদ্দিন বলেছেন, এটা চিকিৎসার একটা ‘পুনর্বাসন প্রক্রিয়া’।

খাদিজাকে কেবিনে নিয়ে আসা প্রসঙ্গে নাজিমউদ্দিন বলেন “বড় কোন বার্তা এটা নয় তবে চিকিৎসা পদ্ধতিতে এটা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ বলা যেতে পারে”।

তিনি বলছিলেন কিছুটা উন্নতি না হলে হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট থেকে কেবিনে নিয়ে আসাও হয় না একজন রোগীকে।

এর আগে স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক এ এম রেজাউস সাত্তার জানান, খাদিজাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকরা।

তিনি তখন বলেন, কেবিনে নেওয়া হলে খাদিজা পরিবারের সঙ্গ পাবেন এবং তার শারীরিক ও মানসিক উন্নতি দ্রুত ঘটবে। নার্গিস এখন কথা বলছে, পরিবারের সদস্যদের চিনতে পারছে। তবে মাঝে মাঝে চিনতে না পেরে আবার অসংলগ্ন কথা বলছে। মাথায় বড় ধরনের আঘাত পাওয়ায় এ অবস্থা তৈরি হলেও ধীরে ধীরে তা সেরে যাবে বলে মনে করছেন এই চিকিৎসক।

হাসপাতালের চিকিৎসক ও খাদিজার পরিবার জানায়, শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটায় তিনদিন ধরে গোঙানির মতো শব্দসহ নিচু স্বরে ধীরে ধীরে কথা বলতে পারছেন খাদিজা।

এদিকে নার্গিসের বাম পাশ এখনও অবশ রয়েছে বলেও জানান এ এম রেজাউস সাত্তার।  অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ করতে আরও দুই মাস অপেক্ষা করতে হবে বলেও তিনি মনে করেন,।

নার্গিসের বাবা মাশুক মিয়া বলেন, ‘মঙ্গলবার আমাকে বাবা বলে ডেকেছে। দুই দিন ধরে গোঙানির মতো আওয়াজ করছিল। সবসময় আমাদের চিনতে পারছে না।’

প্রসঙ্গত, সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের স্নাতক (পাস) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা গত ৩ অক্টোবর পরীক্ষা দিতে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন। বিকেলে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ও অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র বদরুল আলম। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা তাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। বদরুলের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে।

খাদিজা ও বদরুলকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। ঘটনার দিন রাতে খাদিজার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

খাদিজাকে কুপিয়ে আহত করার ভিডিও ও আলোকচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে গোটা দেশ।

এ ঘটনায় সিলেটের শাহপরাণ থানায় বদরুলকে আসামি করে হত্যা চেষ্টা মামলা করা হয়। হামলার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বদরুল।

সূত্র: বিবিসি, বাংলা ট্রিবিউন