দ্বিতীয় দিন শেষে ৭২ রান পিছিয়ে তামিমরা - Women Words

দ্বিতীয় দিন শেষে ৭২ রান পিছিয়ে তামিমরা

বিরতির মাশুল যেন উইকেট দিয়েই দিতে হলো বাংলাদেশকে । দিনের তিনটি বিরতি বাংলাদেশের ইনিংসে তিন বার বয়ে আনল হতাশা। আর শেষ ভাগটা গোধূলির মতো। আলো থাকলেও অন্ধকারের উপস্থিতি। যা বিদেয় করতে শেষ তিন ওভারেরও বেশি সময় খেলা হলো পুরো ফ্লাড লাইটের আলোয়। আগামীকাল নতুন ভোরে সূর্য হয়ে জ্বলতে হবে সাকিব আল হাসানকে। এমনটাই স্বাগতিক সমর্থকদের প্রত্যাশা।

১৩ ওভারের মধ্যে ইংল্যান্ডের ইনিংসটাকে গুটিয়ে দিয়ে সকালেই কাজের কাজটি করে রাখেন তাইজুল আর মিরাজ। বোলারদের এমন সাফল্যের পর ব্যাটিংটা পানসে করলে কি চলে? মাঠে নেমে দারুণ ব্যাটিং শুরু করেন তামিম ও ইমরুল। তামিম ৭৮ ও মাহমুদউল্লাহ ৩৮ রানে আউট হওয়ার পর দারুণ খেলতে থাকেন মুশফিক। তবে দিনের খেলা শেষ হওয়ার মাত্র দুই ওভার আগে ৪৮ রান করে বিদায় নেন মুশি।

দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২২১ রান। সাকিব ৩১ রানে অপরাজিত রয়েছে। তার সাথে নাইট ওয়াচম্যান শফিউল ইসলাম। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখন ৭২ মাত্র রানে পিছিয়ে টাইগাররা।

তামিম, মুশফিক, রিয়াদরা আউট হলেও দিনটি বাংলাদেশেরই! কারণ ২৯ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এপর ৫ উইকেটে ২২১ রানকে দারুণই বলতে হবে।

ব্যাটিংয়ে নেমে গ্যারেথ বাটি, ক্রিস উকস আর স্টুয়ার্ট ব্রডদের দারুণভাবে মোকাবেলা করেন দুই টাইগার ওপেনার। তবে লাঞ্চের আগে মঈন আলীর করা প্রথম ওভারে খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ওভারের দ্বিতীয় বলে ইমরুলকে বোল্ড করেন মঈন।

এরপর পঞ্চম বলে দ্রুতগতির বলটা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি লাফিয়ে ওঠায় সামলাতে পারেননি মমিনুল। সিলি পয়েন্টে স্টোকসকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান বাংলাদেশের সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান। ২ উইকেট হারিয়ে ২৯ রান নিয়ে মধ্যাহ্নভোজে যায় বাংলাদেশ।

ইমরুল ২১ আর মমিনুল কোনো রান করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন। লাঞ্চ থেকে ফিরে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে বাংলাদেশের স্কোরটাকে এগিয়ে নিয়ে যান তামিম ইকবাল। এর আগে ইংলিশদের বিপক্ষে নবম ইনিংসে এসে পঞ্চম অর্ধশতকের দেখা পান তামিম।

এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্টে দুটি সেঞ্চুরি আর চারটি হাফ সেঞ্চুরি করেন তামিম। দলীয় ১১৯ রানে আদিল রশীদের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন রিয়াদ। স্লিপে দারুণ এক ক্যাচ নেন জো রুট। এর আগে মঈন আলীর বলে আরেকটি দুর্দান্ত ক্যাচ নেন রুট। ধর্মসেনা আঙুলও তুলে দেন তামিমের বিপক্ষে। তবে রিভিউ নিয়ে সে যাত্রায় বেঁচে যান টাইগার ওপেনার।

তবে দলীয় ১৬৫ রানে আর রক্ষা পাননি তামিম। গ্যারেথ বাটির বল তামিমের ব্যাট ছুঁয়ে জমা হয় জনি বেয়ারস্টোর গ্লাভসে। আউট হওয়ার আগে ১৭৯ বলে ৭৮ রান করেন তামিম। এর আগে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডকে ২৯৩ রানেই থামিয়ে দেয় বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার ৫ উইকেট নেয়া মেহেদী হাসান মিরাজ আজ আরও একটি উইকেট নিয়েছেন। শুক্রবার সকালে ৭ উইকেটে ২৫৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে ইংল্যান্ড। দিনের শুরুতেই সাফল্যের দেখা পায় বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলামের মমিনুলের তালুবন্দি হয়ে ফেরেন ক্রিস ওকস।

৩৬ রান করেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার। এরপর আদিল রশীদকেও ফেরান বাঁহাতি তাইজুল। সাব্বির রহমানের দারুণ এক ক্যাচে ফিরে যান উকস। এরপর স্টুয়ার্ট ব্রডকে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচে পরিণত করে ইংল্যান্ডের ইনিংস গুটিয়ে দেন মিরাজ।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে বৃহস্পতিবার ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক। এই ম্যাচ দিয়ে ১৪ মাস পর ফের আবার সাদা পোশাকে খেলছে টাইগাররা। এর আগে ইংলিশদের বিপক্ষে আটটি টেস্ট খেলে সবগুলোতেই হেরেছে বাংলাদেশ।
এ সংক্রান্ত অন্য সংবাদ পড়ুন-
মিরাজময় প্রথমদিন : আলোকোজ্জ্বল বাংলাদেশ
চৌদ্দ মাস পর টেস্টে রাজকীয় শুরু বাংলাদেশের