শেষ বিতর্কেও উত্তাপ ছড়ালেন হিলারি - Women Words

শেষ বিতর্কেও উত্তাপ ছড়ালেন হিলারি

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে শেষবারের মতো বিতর্কে মুখোমুখি হলেন প্রেসিডেন্ট পদের দুই প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হিলারি ক্লিনটন। গুরুত্বপূর্ণ এই বিতর্কে গর্ভপাত, অভিবাসন নীতি, সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ থেকে শুরু করে উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া হিলারির ই-মেইল ও নারীদের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মনোভাব সবই স্থান পেল। তবে সবকিছু ছাপিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনায় জায়গা করে নিলেন চিরবৈরি দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন! যথারীতি শেষ বিতর্কেও জয়ী হলেন হিলারি।

সিএনএন এর ফলাফল বলছে, গত দুই বিতর্কের মত এবারও অধিকাংশ ভোট হিলারিকেই এগিয়ে রাখছে।

রয়টার্স বলছে, নারী বিষয়ক ইস্যুতে বিতর্কিত হওয়া ট্রাম্পের সমর্থন কমতির দিকে। যদিও তিনি বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

hillary-trump-4-women-wordsশেষ বিতর্কে কে জিতলেন কে হারলেন সে বিচার না করলেও বলে দেওয়া যায় মানসিক দিক দিয়ে হেরে বসে আছেন ট্রাম্প। কারণ গতকালের বিতর্কের সঞ্চালক ফক্স নিউজের উপস্থাপক ক্রিস ওয়ালেস প্রশ্ন করেছিলেন, নির্বাচনের ফলাফল হিলরির পক্ষে গেলে তিনি তা মেনে নেবেন কি না? জবাবে ট্রাম্প বলেন, সেটি নির্বাচনের ফল দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন। পরে যুক্ত করেন, আমি তোমাকে সাসপেন্সের মধ্যেই রাখতে চাই।

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে চূড়ান্ত কারচুপি হবে এবং তা হবে হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে।

যুক্তরাস্ট্রের লাস ভেগাসের নেভাডা ইউনিভার্সিটিতে স্থানীয় সময় বুধবার রাতে এই বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। দেড় ঘন্টাব্যাপি এই বিতর্কে সবচেয়ে উত্তাপ ছড়ালেন পুতিন। হিলারি তার প্রতিপক্ষকে ‘পুতিনের পাপেট’ বললে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ট্রাম্প।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলাগুলো জন্য ট্রাম্প পুতিনকে দিতে চান না অভিযোগ করে হিলারি বলেন, ট্রাম্প সেনাবাহিনী ও বেসামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা, যারা আমাদের রক্ষা করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, তাদের চেয়েও পুতিনকে বেশি বিশ্বাস করেন।
জবাবে পুতিনের সাথে নিজের ঘনিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করে ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ভালো বোঝাপড়া করতে পারবেন, যা হিলারির পক্ষে সম্ভব নয়। ট্রাম্প বলেন, তিনি (পুতিন) আমার সম্পর্কে চমৎকার সব কথা বলেছেন। অন্যদিকে হিলারির প্রতি তার কোনো সম্মান নেই, সম্মান নেই আমাদের বর্তমান প্রেসিডেন্টের প্রতিও। আমি আপনাদের বলতে চাই, আমরা কিন্তু গভীর সঙ্কটে আছি।

এ প্রসঙ্গে হিলারির উত্তর, এর কারণ তার (পুতিন) কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার মত একজন পাপেট আছে।

ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান হিলারির এ মন্তব্যে, আসল পাপেট আপনি (হিলারি)। প্রতিটি পদক্ষেপে আপনাকে এবং ওবামাকে ধরাশায়ী করেছেন পুতিন।

শেষ বিতর্কে হিলারি বলেন, বিজয়ী হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টে এমন বিচারক নিয়োগ দেবেন যিনি নারীর গর্ভপাতের অধিকার সংরক্ষণ করবেন। এর বিরোধিতায় ট্রাম্প বলেন, জীবন নিয়ে খেলার অধিকার কারও নেই।

পাল্টা উত্তরে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নাগরিকদের অস্ত্র বহনের অধিকারকে সমর্থন করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ‘দ্বিতীয় সংশোধনী’ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর এমন বিচারককে সুপ্রিম কোর্টে মনোনয়ন দেবেন তিনি।

হিলারি বলেন, তিনি দ্বিতীয় সংশোধনীর বিপক্ষে নন; তবে অস্ত্রের কারণে যেন শিশুদের ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সেজন্য এর সঙ্গে নতুন বিধান যুক্ত করতে চান। পাশাপাশি তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের গোপন সংকেত ট্রাম্পের হাতে যাক, এটা তিনি চান না।

তবে এবারের বিতর্কে আগের দুটি বিতর্কের চেয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা বেশি হয়েছে বলে মনে করছে রয়টার্স। তাদের মতে, প্রথম ও দ্বিতীয় বিতর্কে দুই প্রার্থীই ব্যক্তিগত আক্রমণে বেশি মনোযোগী ছিলেন।

আগামী ৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। যাতে নির্ধারিত হবে কে হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট। সূত্র : রয়টার্স, সিএনএন, বিবিসি, বিডিনিউজ২৪