শহীদ মিনারে অজয় রায়কে শেষ শ্রদ্ধা - Women Words

শহীদ মিনারে অজয় রায়কে শেষ শ্রদ্ধা

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা অজয় রায়কে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক নেতাসহ সর্বস্তরের জনগণ।

তিনি সোমবার ভোরে ধানমন্ডিতে নিজের বাসায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

অজয় রায়ের মরদেহ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বারডেম হাসপাতালের হিমঘর থেকে শহীদ মিনারে নেওয়া হয়।

শহীদ মিনারে প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় তাঁকে।

অজয় রায়ের প্রতিষ্ঠিত সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চের নেতাকর্মী তাঁকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া প্রয়াতের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, অজয় রায় অমায়িক, দয়ালু এবং একজন শিক্ষিত মানুষ ছিলেন।

তিনি বলেন, “উনি অন্য দল করলেও উনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা ছিল অনেক গভীর। আমার জন্মের পর পর থেকে উনাকে ভালো করে দেখে আসছি। রাজনৈতিকভাবে উনার কাছে আমি অনকে কিছু শিখেছি।”

গত শতকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও স্বাধিকার আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন অজয় রায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেও সংগঠকের ভূমিকায় ছিলেন তিনি।

আশরাফ আরও বলেন, “১৯৬৯ সালে ময়মনসিংহ জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় জেলখানার চার তলায় দাঁড়িয়ে বাংলার মুক্তির সংগ্রামের কথা বলেছিলেন তিনি। আমরা কয়েকশ নেতাকর্মী সেই বক্তব্য শুনে উদ্বুদ্ধ হয়েছি।

“বক্তব্যের তীক্ষ্ণতা এতই বেশি ছিল যে, এক ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান সরকার তাকে জেল থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল। তার পর উনাকে নিয়ে আমরা মিছিল করেছি পুরা শহরে। বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে সব আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।”

শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী জয়ন্তী রায়, ছেলে অমিতাভ রায় ও মেয়ে অনিন্দিতা রায়।

জয়ন্তী রায় বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রামে পৈত্রিক বাড়িতে অজয় রায়কে সমাধিস্থ করা হবে ।

“তিনি বলেছিলেন, তার মৃত্যুর পর তিনি বাংলার মাটির সঙ্গে মিশে যেতে চান।”

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১৯২৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর জন্ম নেন অজয় রায়। ভারতের বারানসিতে থাকাকালে স্কুলজীবনেই বাম নেতাদের সংস্পর্শে এসে যুক্ত হন কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে।

আইনজীবী বাবার মৃত্যুর পর ১৯৪৪ সালে বাংলাদেশে ফিরে অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রি নেন অজয়। এরপর কিশোরগঞ্জের বনগ্রামে দাদার বাড়িতে ফিরে কমিউনিস্ট পার্টির কাজে সক্রিয় হন।

পঞ্চাশের দশকে কমিউনিস্ট নেতা নগেন সরকার, ওয়ালী নেওয়াজ খান, মণি সিংহের সান্নিধ্যে আসেন অজয় রায়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন।

সিপিবির কেন্দ্রীয় সদস‌্য রুহিন হোসেন প্রিন্স জানান, ১৯৯৩ সালে কমিউনিস্ট পার্টিতে ভাঙনের পর রূপান্তরিত কমিউনিস্ট পার্টি হয়ে অজয় রায় গঠন করেন নতুন দল কমিউনিস্ট কেন্দ্র।

তবে সে দলও টেকেনি। ২০১০ সালের পর ‘সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন’নামের একটি সংগঠন গড়ে তার নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন দেশের প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম এই পুরোধা ব‌্যক্তি।

অজয় রায় সংবাদপত্রের কলাম লিখতেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, বিভিন্ন আন্দোলন এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কয়েকটি বই লিখে গেছেন।

সূত্র: বিডিনিউজ২৪