সিলেটে খাদিজার সহপাঠিদের অবরোধ, বিক্ষোভ - Women Words

সিলেটে খাদিজার সহপাঠিদের অবরোধ, বিক্ষোভ

‘নারী নির্যাতন যেখানে, লড়াই হবে সেখানে’ শ্লোগানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘অন্যায় যত দিন, প্রতিবাদ তত দিন’। ‘শিক্ষাঙ্গনের ভেতর আক্রমণ, প্রশাসন জবাব চাই’ শ্লোগানের পাশাপাশি তাদের ঘোষণা যেন, ‘নারী নির্যাতন যেখানে, লড়াই হবে সেখানে’। ‘তনু খাদিজা আফসানা, নিরাপত্তার নমুনা’সহ নানা অসঙ্গতি তুলে ধরা প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া মেযেদের দাবি একটাই, ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই’।

আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে শতাধিক ছাত্রী কলেজের সামনের জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর ছাত্রীদের আন্দোলনে কলেজের প্রাক্তন ছাত্রীরাও এসে যোগ দেন। এসময় তারা সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক (পাস) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা বেগমের ওপর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

অবরোধ চলাকালে সড়কের দুই পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে শিক্ষকদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রীরা অবরোধ তুলে নেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে ছাত্রীরা কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সেখানে কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফজিলাতুন্নেসা চার দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হচ্ছে: বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নিশ্চিত করা, খাদিজার মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো, কোনো আইনজীবী যেন বদরুলের পক্ষে অবস্থান না নেন এবং পরীক্ষা চলাকালে সেন্টারগুলোতে সংশ্লিষ্ট কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি পাঠানো।

সমাবেশ থেকে আগামীকাল সকাল ১০টায় আবারও সড়ক অবরোধ এবং কলেজের প্রধান ফটকের বিপরীতে নগরের চৌহাট্টা এলাকার সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ছাত্রীদের ডাকা এই কর্মসূচিতে সমাজের সব পর্যায়ের মানুষ, পেশাজীবী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আমরা কামনা করছি।’

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রীদের আন্দোলনটি পুরোপুরি যৌক্তিক। এ ধরনের ঘৃণ্য ও পৈশাচিক ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরাও বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি চাইছি। আমরা দ্রুত এই বিচার কার্যকর দেখতে চাই।’