ফারুক হত্যা মামলা: আরও ২ আসামী কারাগারে - Women Words

ফারুক হত্যা মামলা: আরও ২ আসামী কারাগারে

আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আরও দুই আসামি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত ।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান জানান, এই মামলার আসামি সাংসদ আমানুর রহমান খান ওরফে রানার ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাসিরুদ্দিন নুরু ও সাবেক পৌর কমিশনার মাসুদুর রহমান শনিবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। বিচারক আবুল মনসুর মিয়া তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এই মামলার প্রধান আসামি সাংসদ আমানুর রহমান খান গত রোববার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। আদালত তাঁর জামিন নাকচ করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে আছেন।

আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুককে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর ফারুকের স্ত্রী নাহার আহমেদ টাঙ্গাইল মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ফারুক হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হন খান পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আনিসুল ইসলাম রাজা এবং মোহাম্মদ আলী। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আমানুরদের চার ভাইকে জড়িয়ে বক্তব্য দেন। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

বাকি আসামিদের মধ্যে আনিছুল ইসলাম রাজা, মোহাম্মদ  আলী ও সমীর মিয়া কারাগারে এবং ফরিদ আহমেদ জামিনে আছেন।

পলাতক অপর ৭ আসামি হলেন- আমানুরের তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, সাংসদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির হোসেন, দারোয়ান বাবু ওরফে দাঁত ভাঙ্গা বাবু, যুবলীগের তৎকালীন নেতা আলমগীর হোসেন চাঁন ও ছানোয়ার হোসেন।

টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. আমিনুল ইসলাম গত ৬ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আদালতের নির্দেশে গত ২০ মে আমানুরসহ পলাতক আসামিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মালামাল জব্দ করে পুলিশ।

কাঁকন ও বাপ্পা ইতোমধ্যে দেশ ছেড়েছেন বলে গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ পেয়েছে। মুক্তি দেশে থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মামলাটির দ্রুত নিস্পত্তির জন্য গত ৮ আগস্ট জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব পাঠানোর অনুরোধ করেন। পরদিন জেলা প্রশাসকের অনুমোদন পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়।