মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলা: সাংসদ আমানুর কারাগারে - Women Words

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলা: সাংসদ আমানুর কারাগারে

আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সাংসদ আমানুর রহমান খানের জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার সকালে আমানুর টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁর পক্ষের আইনজীবীরা জামিন চান।  জামিনের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষ। উভয় পক্ষের বক্তব্য শেষে বিচারক আবুল মনসুর আহমেদ এ নির্দেশ দেন। এ সময় নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আমানুর টাঙ্গাইল–৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সাংসদ আমানুর একাই আদালতে উপস্থিত হন। তার তিন ভাই বা পলাতক অন্য আসমিরা কেউ আত্মসমর্পণ করেননি।

সাংসদ আমানুর গ্রেপ্তার এড়াতে গতবছর হাই কোর্টে গিয়ে বিফল হন। তখনই তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল। 

পাঁচ মাস আগে জজ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

গত জুনে ক্ষমতাসীন দলের এই সংসদ সদস্য সংসদে হাজিরা দেন। কিন্তু দায়িত্বশীল কেউ তাকে দেখার কথা অস্বীকার করেন।

আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ফারুককে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর ফারুকের স্ত্রী নাহার আহমেদ টাঙ্গাইল মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ফারুক হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হন খান পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আনিসুল ইসলাম রাজা এবং মোহাম্মদ আলী। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আমানুরদের চার ভাইকে জড়িয়ে বক্তব্য দেন। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

বাকি আসামিদের মধ্যে আনিছুল ইসলাম রাজা, মোহাম্মদ  আলী ও সমীর মিয়া কারাগারে এবং ফরিদ আহমেদ জামিনে আছেন।

পলাতক অপর ৯ আসামি হলেন- আমানুরের তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, সাংসদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির হোসেন, দারোয়ান বাবু ওরফে দাঁত ভাঙ্গা বাবু, যুবলীগের তৎকালীন নেতা আলমগীর হোসেন চাঁন, নাসির উদ্দিন নূর, ছানোয়ার হোসেন ও সাবেক কমিশনার মাসুদুর রহমান।

টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. আমিনুল ইসলাম গত ৬ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আদালতের নির্দেশে গত ২০ মে আমানুরসহ পলাতক আসামিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মালামাল জব্দ করে পুলিশ।

কাঁকন ও বাপ্পা ইতোমধ্যে দেশ ছেড়েছেন বলে গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ পেয়েছে। মুক্তি দেশে থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মামলাটির দ্রুত নিস্পত্তির জন্য গত ৮ আগস্ট জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব পাঠানোর অনুরোধ করেন। পরদিন জেলা প্রশাসকের অনুমোদন পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। 

সূত্র: বিডিনিউজ২৪