অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন সাকিব - Women Words

অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন সাকিব

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে কক্সবাজারে নামিয়ে দিয়ে ফেরার পথে ইনানি সৈকতে একটি হেলিকপ্টার  বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনার পর সাকিব কথা বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমামের সঙ্গে। সাকিব তাকে বলেছেন, ‘আমি সুস্থ আছি।’

উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার সোনার পাড়া এলাকায় রেজু খালের মোহনা সংলগ্ন সৈকতে মেঘনা এভিয়েশনের হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।

এই ঘটনার কথা শুনে সাকিব বলেন, ‘আমি সুস্থ থাকলেও হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনা শুনে বিস্মিত হয়েছি। ব্যাপারটি সত্যিই দুঃখজনক।’

রবিনসন আর ৬৬ মডেলের ওই হেলিকপ্টারে পাইলটসহ মোট পাঁচজন ছিলেন।

তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয় বলে জরুরি বিভাগের কর্তব‌্যরত চিকিৎসক রফিকুল হাসান জানান।

সদর থানার এসআই মো. ওমর ফারুক জানান, নিহতের নাম শেখ মো. শাহ আলম (৩২)। তিনি ঈগল বি নামের একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার হিসাব বিভাগের কর্মী ছিলেন। তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে। বাবার নাম শেখ মো. শামসুর রহমান।

ঈগল বি’র কর্মী মো. শরিফুল ইসলাম, তার দুই ছেলে এবং পাইলট শফিকুল ইসলাম এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে এসআই ফারুক জানান।

উখিয়ার ওসি জানান, ঈগল বি’র হয়ে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অংশ নিতে ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসান স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশিরসহ সকালে ওই হেলিকপ্টারে করে কক্সবাজারে আসেন।

তিনি বলেন, ইনানীর হোটেল রয়েল টিউলিপে সাকিবকে নামিয়ে দিয়ে হেলিকপ্টারের পাইলট ঈগল-বি’র লোকজন নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ‌্যে রওনা হন। কিছুক্ষণ পর হেলিকপ্টারটি সৈকতে বিধ্বস্ত হয়।

স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, ইনানির ঝাউবাগানের ওপর দিয়ে কয়েকবার চক্কর দিয়ে হেলিকপ্টারটি সৈকতে বিধ্বস্ত হয়।

ঠিক কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে- সে বিষয়ে কোনো তথ‌্য দিতে পারেননি কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী।

সাকিবের সঙ্গে কক্সবাজারে শুটিং করতে যাওয়া নাফিজ আহমেদ মোমেন জানিয়েছেন, ‘আমরা নিরাপদেই ল্যান্ড করেছি। আমাদের নামিয়ে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই আরও কজন যাত্রী নিয়ে হেলিকপ্টারটি ফিরে যাচ্ছিল। হেলিকপ্টারের পাখা তখনো বন্ধই হয়নি। শুধু আমাদের নামিয়েছে আর ওদের তুলে নিয়েছে। এরপর কিছু দূর গিয়ে ইনানি সৈকতেই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।’

নাফিজ আশ্বস্ত করেছেন, ‘আমরা সবাই নিরাপদেই আছি। ফিরে যাওয়ার পথে ঘটনাটি ঘটেছে। এর আগেই আমরা নেমে যাই। যত দূর জানি, হেলিকপ্টারের পাইলট আর তাঁর পাশে বসা যাত্রীই বেশি আঘাত পেয়েছেন। পাশে বসে ছিলেন শাহ আলম ভাই। তিনি মারা গেছেন। পাইলটকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।”

কাজ শেষে কাল শনিবারই ঢাকায় ফেরার কথা সাকিব আল হাসানের।