ভারতে অ্যাসিড নিক্ষেপ মামলায় ১ যুবকের মৃত্যুদন্ড - Women Words

ভারতে অ্যাসিড নিক্ষেপ মামলায় ১ যুবকের মৃত্যুদন্ড

অ্যাসিড নিক্ষেপ করে দিল্লির এক তরুনীকে হত্যার দায়ে অঙ্কুর পানওয়ার (২৬) নামের এক যুবককে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন মুম্বাই এর একটি বিশেষ মহিলা আদালত। বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক এএস শেন্ডে।

মহারাষ্ট্রে অ্যাসিড নিক্ষেপের দায়ে মৃত্যুদন্ডের ঘটনা এটাই প্রথম।

রায় ঘোষণার পর আদালতে দাঁড়ানো অঙ্কুরের মুখে তাচ্ছিল্যের হাসি ছিল, মনে হচ্ছিল তিনি এ রায় মেনে নিতে পারছেন না।

আদালতে এদিন উপস্থিত ছিলেন প্রীতির বাবা অমর সিং রাঠি, ভাই হিতেশ রাঠি ও অনিতা যাদব নামের একজন আত্মীয়। রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে অঙ্কুরকে বের করে নেয়ার সময় অনিতা তাঁকে হাসির কারণ জিজ্ঞেস করেন। অঙ্কুর তখন আক্রমনাত্মক ভঙ্গি করেন। ফলশ্রুতিতে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। প্রীতির ভাই হিতেশ তখন অঙ্কুরকে চড় মারেন। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়ার আগেই হিতেশকে মেরে বসেন অঙ্কুর।

এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রীতির বাবা অমর সিং রাঠি। তিনি বলেন, যদি আসামী উচ্চ আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে, আমি নিশ্চিত যে সেখান থেকেও সে মৃত্যুদন্ডই পাবে। সমাজে এরকম মানুষের কোন জায়গা নেই। তাঁর কারাগারেই থাকা উচিত। সে খুব নিষ্ঠুর মানুষ এবং বাবা-মার প্রতিও সে কখনও সুবিচার করতে পারবেনা। এই শাস্তি তার প্রাপ্য। প্রীতিও অপরাধীর ফাঁসি চেয়েছিল বলে জানান অমর সিং।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ভারতের নৌবাহিনীতে নার্স হিসেবে যোগদান করতে দিল্লি থেকে মুম্বাই আসেন প্রীতি রাঠি (২৩)। ২০১৩ সালের ২ মে গরিব রথ এক্সপ্রেস নামক ট্রেনে করে করে মুম্বাই এর বান্দ্রা টার্মিনাসে নামেন তিনি। প্রীতির সাথে ছিলেন বাবা, কাকা ও কাকিমা। কিছুক্ষন পরেই মুখোশ পড়া একজন প্রীতির মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারে। এ ঘটনার এক মাস পর ১ জুন মারা  যান প্রীতি। এতে জড়িত সন্দেহে প্রথমে বি টেকের এক ছাত্রকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ২০১৪ সালের ১৭ জানুযারি মুম্বাই এর অপরাধ দমন শাখা হোটেল ম্যানেজমেন্টে স্নাতক পাস করা অঙ্কুরকে গ্রেপ্তার করে। তিনি প্রীতির প্রতিবেশি ছিলেন। ভারতীয় দন্ড বিধির ৩০২ ও ৩২৬ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে অঙ্কুর এ কাজ করেন বলে জানা যায়। মামলার বিপরণী থেকে আরও জানা যায়, প্রীতিকে পুড়িয়ে মারার জন্য ২ লিটার সালফিউরিক অ্যাসিড কিনেছিলেন অঙ্কুর।

সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া