মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর - Women Words

মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর

যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে কার্যকর করা হয়েছে। শনিবার  রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক।

মীর কাসেম কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর ৪০ নম্বর কনডেমড সেলে ছিলেন।  মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কাশিমপুর কারাগারে এই প্রথম কোনো ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এ পর্যন্ত ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর করা হল। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধে যাদেরকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়, তারা হলেন একাত্তরের ভয়ংকর খুনে বাহিনী আলবদর নেতা মতিউর রহমান নিজামী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী।

রাত (শনিবার) পৌনে ৯টার দিকে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স কারাগারে প্রবেশ করে। এ সময় গাজীপুর পুলিশ সুপার মো. হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, কারাগার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন কারাগারে প্রবেশ করেছেন।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যার দিকে মীর কাসেম আলীর সঙ্গে শেষ দেখা করে কারাগার থেকে ফিরে যান তার স্বজনরা। সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে তাঁর স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন বলেন, মীর কাসেমকে মানিকগঞ্জে তাঁকে দাফন করা হবে। মীর কাসেম শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে আয়েশা খাতুন বলেন, ছেলের সঙ্গে দেখা না হওয়ায় আক্ষেপ করেছেন তিনি।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মহসিন রেজা জানান, সার্বিক নিরাপত্তার জন্য গাজীপুরে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকায় প্রতিদিনের মতই ছয় প্লাটুন বিজিবি রাখা হয়েছে।

এদিকে মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকর করার নির্বাহী আদেশ শনিবার বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছেছে বলে জানান কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলার নাশির আহমেদ।

আজ দুপুরের পর থেকে কাশিমপুর কারাগারের চারপাশের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়। কারাগারের ফটকে পুলিশের পাশাপাশি অবস্থান নেন বিপুল সংখ্যক র‌্যাব সদস্য। ফায়ার সার্ভিসের একটা গাড়ি বিকাল সোয়া ৪টার দিকে কারাগারে ঢুকে। আগের রাতেই কারাগারের ভেতরে নিয়ে রাখা হয়েছিল পুলিশের একটি জলকামান।

পুলিশ কারাগারের আরপি চেকপোস্ট সংলগ্ন দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। কারা ফটকে ভিড় করেন উৎসুক জনতা। সেখানে উপস্থিত আছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিপুল সংখ্যক সংবাদকর্মীও।

গতকাল শুক্রবার রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন না বলে জানান মীর কাসেম।

গত বুধবার মীর কাসেমের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত। সেদিনই মীর কাসেমের পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাৎ করেন। রিভিউ আবেদনই ছিল মীর কাসেমের আইনি লড়াইয়ে শেষ ধাপ।

যে অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড
আপিল বিভাগের রায়ে ১১ নম্বর অভিযোগে মীর কাসেমের আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। এই অভিযোগ অনুসারে, মীর কাসেমের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা ১৯৭১ সালে ঈদুল ফিতরের পরের যেকোনো একদিন চট্টগ্রাম শহরের কোনো এক অজ্ঞাত স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে অপহরণ করেন। তাঁকে তারা আন্দরকিল্লার ডালিম হোটেলে নিয়ে যায়। ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁকে সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন করে তারা। নির্যাতনের ফলে জসিমের মৃত্যু হলে আরও পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশসহ তাঁর মৃতদেহ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

রিভিউ খারিজের যত দিন পর ফাঁসি কার্যকর
আবদুল কাদের মোল্লা: আবেদন খারিজ হয় ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর। ওই দিন রাতেই ফাঁসি কার্যকর হয়।
মুহাম্মদ কামারুজ্জামান: ২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল আবেদন খারিজ হয়ে ১১ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় ফাঁসি কার্যকর হয়।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী: আবেদন খারিজ হয় ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর। আর ২১ নভেম্বর রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর হয়।
আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ: ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর আবেদন খারিজ হয়ে ২১ নভেম্বর রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর হয়।
মতিউর রহমান নিজামী: ২০১৬ সালের ৫ মে আবেদন খারিজ হয়। ফাঁসি কার্যকর হয় ১০ মে রাত ১২টা ১০ মিনিটে।