তাঁর বিদায়বেলা জার্মানদের যন্ত্র চোখে জল - Women Words

তাঁর বিদায়বেলা জার্মানদের যন্ত্র চোখে জল

জার্মানদের সাথে যন্ত্রের কোথায় জানি দারুণ একটা মিল আছে। পেশাদারিত্বের খোলসে ঢাকা জার্মানদের আবেগী চেহারা দেখাই যায় কালেভদ্রে। অনেকটা দুর্লভ দৃশ্য দেখা গেলো তাদের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়কের বিদায়বেলা।

হ্যাঁ। পরশু মুনশেনগ্লাডবাখের রাতটিতে প্রিয় ফুটবলকে বিদায় বলে দিলেন বাস্টিয়ান শোয়াইনস্টাইগার। বিদায়বেলা এই জার্মানের মুখ থেকে খসে গিয়েছিল পেশাদারিত্বের মুখোশ। আর তাই মাঠভর্তি দর্শক দেখলেন তাঁর কান্নাভেজা মুখ।

ঘোষণাটি দিয়েছিলেন আগেই। কিন্তু বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে এভাবে মাঠ থেকে বিদায় জানাতে চায়নি জার্মানরা। তাই তো দেশটির ফুটবল ফেডারেশন এবং কোচ ইওয়াখিম ল্যোভ শেষবারের মতো মাঠে নামার সুযোগ করে দেন প্রিয় ‘শোয়েইনি’কে। পরশু ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচজুড়ে ছিল তাই কেবল শোয়াইনস্টাইগারের বিদায়। ম্যাক্স মেয়ের ও মেসুত ওয়েজিলের গোলে জার্মানির ২-০ ব্যবধানের জয় হয়ে পড়ে গৌণ।

এক যুগ আগে জার্মানির জার্সি গায়ে অভিষেক হয় শোয়াইনস্টাইগারের। পরশু খেলেন ১২১তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। খেলা শুরুর আগেই অবশ্য ছোট্ট এক অনুষ্ঠানে বিদায়ী অধিনায়ককে প্রশংসায় ভাসান ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট রিনহার্ড গ্রিনডাল। এরপর মাইক্রোফোনের সামনে যখন যান শোয়াইনস্টাইগার, গ্যালারির ৩০ হাজার দর্শক উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানায়। আবেগটা আর কী করে ধরে রাখেন! ফুঁপিয়ে ওঠেন মাঠের এই যোদ্ধা, ‘আমি যে কেঁদে দেব, তা ভাবিনি। চেয়েছিলাম প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করব। কিন্তু উপলক্ষ যে এমন ভালোবাসার হয়ে উঠবে, তা প্রত্যাশা করিনি।’ এরপর দর্শকদের ধন্যবাদ দিতে ভোলেননি তিনি, ‘আজ স্টেডিয়ামে আসার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। এটি আমার কাছে বিশেষ কিছু। জার্মানির পক্ষে খেলা আমার জন্য বিশাল সম্মানের। সব কিছুর জন্য আমি শুধু একটি কথাই বলতে চাই—ধন্যবাদ।’ ২০১৪ বিশ্বকাপ জেতানো এই অধিনায়ককে জার্মানরাও তো চিরদিন ধন্যবাদ দিয়ে যাবেন। ভালোবাসায়, কৃতজ্ঞতায়।

ক্লাব ফুটবলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ব্রাত্য হয়ে গেছেন। এই মৌসুমে তাই শোয়াইনস্টাইগার প্রথমবারের মতো প্রথম একাদশে নামেন পরশু। খেলেন ৬৬ মিনিট পর্যন্ত। এর মধ্যে এক দর্শক পেছনে শোয়াইনস্টাইগারের নাম লেখা জার্সি পরে গ্যালারি থেকে মাঠে ছুটে গিয়ে সেলফি তুলে আসেন কিংবদন্তির সঙ্গে। আর ৬৬ মিনিটে তিনি মাঠ থেকে উঠে যাওয়ার সময় পুরো গ্যালারি করতালিতে বিদায় জানান এই যোদ্ধাকে। রেফারির শেষ বাঁশির পর আবারও। আবারও শোয়াইনস্টাইগারের চোখে জল। সতীর্থরা তাঁকে শূন্যে তুলে উদ্যাপন করেন বিদায়ের শেষ ক্ষণ। স্মৃতির জানালায় তখন উঁকি দেয় ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তটাই যেন বিদায়বেলায় সঙ্গী হয়ে থাকে শোয়াইনস্টাইগারের।