রৌসেফের বিদায়, ব্রাজিলের নতুন প্রেসিডেন্ট তেমের - Women Words

রৌসেফের বিদায়, ব্রাজিলের নতুন প্রেসিডেন্ট তেমের

ব্রাজিলের সিনেট প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়ার পর ব্রাজিলের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট মিচেল তেমের।

বুধবার সিনেটের ভোটাভুটিতে ৬১-২০ ভোটে ব্রাজিলের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট রৌসেফের বিদায় নিশ্চিত হয়। এতে দেশটিতে বামপন্থি ওয়ার্কার্স পার্টির টানা ১৩ বছরের শাসনের অবসান হয়। চলতি বছরের মে মাসে রৌসেফ বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপালন করে আসছিলেন রৌসেফ সরকারের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট তেমের।

শপথ নেওয়ার পর টেলিভিশনে সম্প্রচারিত জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও ১১ শতাংশ বেকারত্ব মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে সমর্থন দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য চীনের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে দেওয়া ভাষণে রক্ষণশীল এ নেতা বলেন, এই মুহূর্তটি ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার আশা জাগিয়েছে। অনিশ্চয়তা শেষ হয়েছে।

রৌসেফের অপসারণ ব্রাজিলের ভাগ্যে পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন তার বিরোধীরা। মাত্র কয়েক বছর আগেও ব্রাজিল একটি দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনীতির দেশ ছিল, বিশ্বে দেশটি মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছিল। কিন্তু এরপর ব্রাজিল মন্দার কবলে পড়ে, যা এক সময় গভীর হয়ে ওঠে।

এরপর রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পেট্রোব্রাসের ঘুষ কেলেঙ্কারি প্রেসিডেন্ট রৌসেফের জোট সরকারে কালো ছায়া ফেলে। লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে, তারা রৌসেফের পদত্যাগ দাবি করে। এর মাত্র আড়াই বছর আগে ব্রাজিলের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

পেট্রোব্রাসের কেলেঙ্কারি সঙ্গে রৌসেফের কোনো সংস্পর্শ না থাকলেও তার জোট সরকারের শরিক অনেক নেতা এবং ব্রাজিলের ব্যবসায়ী নেতাদের অনেকেই জড়িত আছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

পেট্রোব্রাসের তদন্তে শরিক দলীয় অনেক নেতা ও কংগ্রেস সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর একসময় প্রেসিডেন্ট রৌসেফের বিরুদ্ধে বাজেট ঘাটতি কমিয়ে দেখানোর অভিযোগ ওঠে। বলা হয়, ২০১৮-র নির্বাচনে সুবিধা পেতেই এমনটি করেছেন তিনি।

এই অভিযোগেই অভিশংসনে কংগ্রেসের ভোটে বরখাস্ত হন তিনি। এরপর তিনমাস শুনানি শেষে স্থায়ীভাবে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারিত হন।

নতুন প্রেসিডেন্ট তেমের তার অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি সফল করতে চান। যার মধ্যে বেসরকারিকরণ, জনকল্যাণমূলক পেনসন ও জনকল্যাণ আইন এবং সরকারি ব্যয়ের উচ্চমাত্রা কমিয়ে আনা অন্যতম। আইনপ্রণেতারা তার এসব কর্মসূচিকে সমর্থন করবেন বলে আশা করছেন তিনি।

তবে এসব করতে গিয়ে তেমেরকে এই মুহূর্তে বিরোধীদলে পরিণত হওয়া ওয়ার্কার্স পার্টির তীব্র বাধার সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারের বিরোধীতায় আসছে দিনগুলোতে কংগ্রেস ও রাস্তা, উভয় জায়গায় ওয়ার্কার্স পার্টি তাদের শক্তি প্রদর্শন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।