২০০ মিটারেরও 'ট্রিপল' জিতে অমরত্ব বোল্টের - Women Words

২০০ মিটারেরও ‘ট্রিপল’ জিতে অমরত্ব বোল্টের

ফেলেপস আর বোল্ট আজকাল সোনা জিতলে মানুষ অবাক হয় না। ট্র্যাকে নামলে তারা সোনা জিতবেন এটা যেন জানা কথা। তবুও উসাইন বোল্ট এর এই পদক জয়টা আলাদা করে দেখার মতো। এতে তো অমরত্বের পেয়ালায় চুমু খেলেন উসাইন বোল্ট। এই মর্ত্যের কোনো মানুষ কখনও যা করে দেখাতে পারেননি তাই করলেন এই জ্যামাইকান বিদ্যুৎ। ১০০ মিটারের পর রিও অলিম্পিকে ২০০ মিটার স্প্রিন্টেরও সোনা জিতে নিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে টানা তিন অলিম্পিকে ১০০ ও ২০০ মিটারের ‘ডাবল’ জিতে অনন্য ইতিহাস গড়লেন ২৯ বছরের গতি সম্রাট। হলো অলিম্পিক ‘ট্রিপল’। ইতিহাসে এই প্রথম। রিওর গেমসের ত্রয়োদশ দিনে আজ বাংলাদেশ সময় সকালে নতুন ইতিহাস গড়েছেন বোল্ট। এবার ১৯.৭৮ সেকেন্ডে ২০০ মিটার জিতেছেন। এই ইভেন্টে বিশ্ব রেকর্ডটাও তার।

বোল্ট তো আগেই অমর। দুই অলিম্পিকে ১০০ ও ২০০ মিটারের পাশপাশি ৪x১০০ মিটারের সোনা জিতেছেন। অনন্য ইতিহাস আগেই হয়েছে তাতে। স্প্রিন্টের ইতিহাসের সেরা মানুষটি বোল্ট। কিন্তু তিনিই ১০০ মিটার জিতে বলেছিলেন, কিংবদন্তি হয়েছেন। কিন্তু হতে চান ‘অমর’। কেউ একজন তাকে বলেছেন, রিওতে ২০০ মিটারও জিততে পারলে অমরত্ব পাবেন। সেই কথাটিকে শিরোধার্য মেনে নিয়ে টার্গেট সেট করেছিলেন। নিজের শেষ অলিম্পিকেও ‘গ্রেটেস্ট’ বোল্ট ইতিহাসের পর ইতিহাস গড়ে যাচ্ছেন। এখন শুধু বাকি ‘ট্রিপল’ ‘ট্রিপল’। রিলের সোনাটি জিততে পারলেই বোল্টের জীবনের অলিম্পিক শেষ হবে পুরো পারফেক্ট হয়ে। তিন অলিম্পিকে এখন ৮টি সোনা। ৮ ইভেন্টে। শেষ হবে ৯ ইভেন্টের ৯ সোনা নিয়ে। অবিশ্বাস্য তার সবটাই।

২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে ঝড়ের মতো আবির্ভাব বোল্টের। ১৪টি বিশ্ব বা অলিম্পিক শিরোপার জন্য লড়ে ১৩টাই জিতলেন। রিওতে শুরুটা ছিল অসাধারণ। ২০০ মিটার এমনিতে বোল্টের সবচেয়ে প্রিয়। সেখানে এমন শুরু পেলে তো আর কথাই নেই। সবাইকে শুরুতে ছাড়িয়ে গেলেন। শেষ ২০ মিটারে তৈরি করে ফেললেন নিরাপদ দূরত্ব। যেমনটা সব সময়ই করে থাকেন। কানাডার আন্দ্রে ডি গ্রাস ২০.০২ সেকেন্ডে রুপা ও ফ্রান্সের ক্রিস্তোফে লেমাইত্রে ২০.১২ সেকেন্ডে পেয়েছেন ব্রোঞ্জ।

শুরু থেকেই রিওর অলিম্পিক স্টেডিয়ামে রেকর্ড গড়া দর্শক। ‘উসাইন বোল্ট, উসাইন বোল্ট’ চিৎকারে কান পাতা দায়। এরপর ইতিহাসের নতুন পাতাটা লিখে বোল্ট তার দেশ জ্যামাইকার পতাকাটা হাতে তুলে নিয়েছেন। তখন স্লোগানের শব্দ আরো প্রবল। বরাবর জেতার পর পুরো স্টেডিয়াম চক্কর দেন বোল্ট। নানা কাণ্ড কীর্তি করেন। মজার মধ্যে থাকেন। বিনোদন দেন। এবারও স্টেডিয়াম চক্কর দিতে থাকলেন। দর্শকদের সবাইকে যে সঙ্গী করে নতুন ইতিহাসে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে বোল্টের!