ক্যান্সার জয়ী ৫৪ বছরের সান্তিয়াগোর সোনা জয় - Women Words

ক্যান্সার জয়ী ৫৪ বছরের সান্তিয়াগোর সোনা জয়

আজেন্টাইন অ্যাথলেট সান্তিয়াগো লাঙ্গে সোনা জিতেছেন। অলিম্পিকে সোনা জয় এমনিতেই অনেক বড় খবর। কিন্তু সান্তিয়াগো লাঙ্গের সোনা জয়টা তারচেয়েও বড় কিছু। অনেক কারণেই তিনি অনন্য উচ্চতায় চলে গেছেন। প্রথম এবারের আসরের সর্বজ্যেষ্ঠ হিসেবে সোনা জিতেছেন। আরেকটা বিষয় হলো তাঁর দুই ছেলে রিও অলিম্পিকে অংশ নিয়ে যেখানে পদক জিততে পারেননি সেখানে ৫৪ বছর বয়সি লাঙ্গে ঠিকই স্বর্ণপদক জয় করেছেন। তবে এসব ছাপিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো এই সর্বজ্যেষ্ঠ মরণব্যাধি ক্যান্সার জয় করে এসে জিতেছেন সোনা।

শরীরটা কখনো কখনো বড্ড ভোগায় সান্তিয়াগো লাঙ্গেকে। গুয়ানাবারা বের তীরে পৌঁছানোর আগে কতোবার যে ভেঙে পড়েছেন তার ইয়াত্তা নেই। “অনেকবার।” নিজেই এই কথা বলেছেন। কিন্তু বারবার সাহসের সাথে লড়ে গেছেন। ছয়বারের অলিম্পিয়ান ক্যারিয়ারের প্রথম সোনা জিতলেন ৫৪ বছর বয়সে। ন্যাক্রা ১৭ মিক্স ক্যাটাম্যারার ক্লাসে এবারের গেমসের একাদশ দিনে সোনার পদক ঝুলেছে তার গলায়। সিসিলা কারাঞ্জা সারোলি তার ক্রু ছিলেন।

সব মিলিয়ে এটা অন্যরকম অলিম্পিক সান্তিয়াগোর জন্য। “এই গেমসের পুরোটাই আমার জন্য অবিশ্বাস্য।” সান্তিয়াগো উদ্বোধনী দিনে মার্চপাস্টে অংশ নিয়েছেন ছেলে আয়াগো ও ক্লাসের সাথে। “এটা আমার জন্য খুব আবেগের গেমস। ছেলেদের প্রতিযোগিতা করতে দেখেছি। ছেলেরা আমাকে দেখেছে। আজ তাদের সাথেই উদযাপন করছি। অনেক বেশি পেয়ে গেলাম!”

১৯৮৮, ১৯৯৬, ২০০০, ২০০৪, ২০০৮ এর পর এবারের আসরে অংশ নিয়েছেন সান্তিয়াগো। আগে দুই আসরে জিতেছেন দুটি ব্রোঞ্জ। শেষটি ২০০৮ বেইজিং গেমসে। এই সেইলরের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অলিম্পিক সাফল্যটা আসলো ব্রাজিলে। যেখানে তিনি এসেছেন ক্যান্সারের সাথে লড়ে। গত বছরই তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। ফুসফুসের ক্যান্সার। বাঁ ফুসফুস ফেলে দিতে হয়। একটি ফুসফুস নিয়ে বেঁচে আছেন। এবং তাই নিয়ে অলিম্পিক জয় করে ইতিহাস গড়লেন সান্তিয়াগো। অলিম্পিক যে যোদ্ধাদের পুরস্কৃত করে তা তো সবার জানা।