ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার - Women Words

ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

চাঁদপুরের মতলব উপজেলায় এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার বিকালে দশম শ্রেনীর ওই ছাত্রী তাঁর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করে। রাত ৮টার দিকে তাকে মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ছাত্রীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, ওই শিক্ষকের নাম মো. আল-আমিন সরকার (৩৮)। বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সরাইলকান্দি গ্রামে। তিনি মতলব  উপজেলার ফরাজীকান্দি নেদায়ে ইসলাম মহিলা মাদ্রাসার গণিত বিভাগের প্রভাষক। ওই মাদ্রাসাসংলগ্ন এতিমখানার একটি কক্ষে তিনি থাকেন। মাদ্রাসার একটি শ্রেণিকক্ষে প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে ব্যাচ করে তিনি ছাত্রীদের কোচিং করান। ওই ছাত্রীও প্রতিদিন সেখানে পড়তে যেত।
ছাত্রীর দায়ের করা মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই ছাত্রী গত মঙ্গলবার সকাল আটটায় মাদ্রাসাশিক্ষক আল-আমিনের কাছে অঙ্ক করতে যান । কোচিং শেষে অন্য ছাত্রীরা চলে যায়। কিন্তু  ওই ছাত্রীকে কৌশলে সেখানে কিছুক্ষণ আটকে রেখে যৌন নিপীড়ন করেন আল-আমিন। লজ্জা ও ক্ষোভে ওই ছাত্রী পরে মাদ্রাসায় ক্লাস না করেই সেখান থেকে বাড়ি চলে যায়। গত শনিবার পর্যন্ত সে মাদ্রাসায় যায়নি।
শনিবার রাতে ওই ছাত্রী বিষয়টি তার মা-বাবা ও বড় ভাইকে জানায়। গতকাল বেলা ১১টার দিকে  সে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কাছে শিক্ষক আল-আমিনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ করে। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় সে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা করে। রাতে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ছাত্রীর বড় ভাই জানান, এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তিনি ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
এ ব্যাপারে ছাত্রীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. শহিদ উল্যাহ। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তে মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক আহমদ উল্যাহকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আল আমিনকে আপাতত ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সভা ডেকে তাঁর বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের ব্যাপারে মো. আল-আমিন সরকার বলেন, এই ঘটনার জন্য তিনি লজ্জিত ও দুঃখিত। ভবিষ্যতে আর কখনো এমন করবেন না বলেও জানান তিনি।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন মজুমদার বলেন, মামলা দায়েরের পর ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঁদপুর বিচারিক হাকিমের আদালতের মাধ্যমে আজ সোমবার বেলা একটায় তাঁকে চাঁদপুর কারাগারে পাঠানো হয়।

সূত্রঃ প্রথম আলো পত্রিকা