টঙ্গিতে ‘জঙ্গি আস্তানার’ সন্ধান - Women Words

টঙ্গিতে ‘জঙ্গি আস্তানার’ সন্ধান

গাজীপুরের টঙ্গীর একটি বাড়িতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) গোপন আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেছে। র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ওই ফ্ল্যাটে জেএমবির জঙ্গি প্রশিক্ষণ চলত বলে জানিয়েছে র‍্যাব। র‍্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার ভোররাতে টঙ্গীর মোক্তারবাড়ির ৪৪ নম্বর আউচপাড়ার ছয়তলা বাড়ির চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হল আশিকুর আকবর আবেশ, মাহমুদুল হাসান, শরীয়তউল্লাহ ও নাজমুস সাকিব। সেখান থেকে পিস্তল, শতাধিক গুলি,  আটটি বোমা, একটি ম্যাগাজিন, দুটি কুড়াল, আটটি চাপাতি-ছুরি, কিছু জিহাদি বই ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
র‍্যাব জানায়, মাহমুদুল হাসান ওই ফ্ল্যাটে প্রশিক্ষণ দিতেন। তিনি জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ঘটনাস্থলে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, মাহমুদুলের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়। তিনি বোমা তৈরিতে পারদর্শী। ২০০৪ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি জেএমবিতে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে মাহমুদুল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি ঢাকার মিরপুরসহ জেএমবির বিভিন্ন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রশিক্ষণ দিতেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। সবশেষে টঙ্গীর এই বাড়িতে আসেন মাহমুদুল। হোসনি দালানে বোমা হামলা ও এসআই ইব্রাহিম হত্যায় যারা সম্পৃক্ত ছিল, তারা মাহমুদুলের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল।

মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া নাজমুস সাকিব মাদ্রাসা থেকে পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ঢাকা এসেছিলেন। আশিকুর রহমান রংপুরের প্রাইম মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এ ছাড়া শরিয়তউল্লাহ যশোরের এমএম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

তিনি আরও বলেন, টঙ্গীর আস্তানা থেকে দলটির আরও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল। রাজধানী থেকে সরে এসে ঢাকার আশপাশে প্রশিক্ষণকেন্দ্র করছে জেএমবি।

জানা গেছে,ওই বাড়ির মালিক জেসমিন আক্তার। বাড়িটি তত্ত্বাবধান করেন তাঁর মেয়ের জামাই শরীফুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মাহমুদুল গত ৫ জুলাই মার্চেন্ডাইজার পরিচয় দিয়ে বাড়ির চারতলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। তিনি দুই হাজার টাকা অগ্রিম দেন। মাহমুদুল ঈদের পরে স্ত্রী ও ছোট ভাইকে নিয়ে ফ্ল্যাটে উঠবেন বলে জানান। পরিচয়পত্র পরে দেবেন বলে জানিয়ে চলে যান তিনি। ১৪ জুলাই ফ্ল্যাটে ওঠেন। এরপর রং করার জন্য চাবি চাওয়া হলেও মাহমুদুল তা মালিককে দেননি।

বাড়ির প্রহরী কয়েক দিন ধরে ছুটিতে ছিলেন। এই সুযোগে বোমা, গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ফ্ল্যাটের ভেতর নিয়ে থাকতে পারেন মাহমুদুল, এই ধারণার কথা জানান শরীফুল ইসলাম।

সূত্রঃ প্রথম আলো